চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে মহিউদ্দিন লতিফ দ্বন্দ্ব আবার চাঙ্গা

চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে সরকারি দল আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী ও এমএ লতিফের দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। একজন এক পক্ষে বললে অন্যজন অপর পক্ষে বলেন। তাদের দু’জনের দ্বন্দ্ব ৭/৮ বছর ধরে চলে আসলেও সামপ্রতিক সময়ে তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সামপ্রতিক এ দ্বন্দ্বকে শুধু ব্যক্তি রেষারেষি মনে না করে অনেকে এটাকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘটছে বলে মনে করেন। চট্টগ্রাম বন্দরসহ পতেঙ্গা এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্য এমএ লতিফ। চট্টগ্রাম বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা শিল্প এলাকা নিয়ে সংসদীয় এলাকা মূলতঃ শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর রাজনৈতিক উত্থান মূলতঃ শ্রমিক রাজনীতি থেকে। সেই শ্রমিক শ্রেণীকে চাঙ্গা করার মাধ্যমে ওই আসনে নির্বাচন করার পথ খুঁজেছেন কিনা অনেকে তা নিয়ে সন্দেহ করছেন। চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির দাবিতে ডক বন্দর শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে শতকরা ২৫ ভাগ মজুরী বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। বেশ কিছু আন্দোলনের পর অবশেষে গত সপ্তাহে বন্দর ব্যবহারকারী সকল পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর শতকরা ২০ ভাগ মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। গত সোমবার থেকে তা কার্যকর হয়। সংসদ সদস্য এমএ লতিফ সমর্থিত ঐক্য পরিষদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দাবি আদায় হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। কিন্তু দেখা যায়, গত রবিবার এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সমর্থিত ডক বন্দর শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে বন্দর এলাকায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি শতকরা ১০০ ভাগ বৃদ্ধি করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাদের এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে তুলছে।