স্যাটেলাইট : সাশুরাল সিমার কা

এক তরুণীর স্বপ্নপূরণের সংগ্রাম

কালারস টিভি চ্যানেলে পৌনে দু’বছর ধরে চলছে ‘সাশুরাল সিমার কা’ সিরিয়ালটি। ৪৫০ এপিসোড দেখানো হয়েছে এর মধ্যেই। এখন খুব কম সংখ্যক হিন্দি সিরিয়াল টিভি পর্দায় দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। তেমন প্রেক্ষাপটে কালারস টিভি চ্যানেলের ফ্যামিলি ড্রামা ধাঁচের এই সিরিয়ালটিকে নিঃসন্দেহে সফল ও জনপ্রিয় হিসেবে বিবেচনা করা যায়। অল্প বয়সী, প্রাণবন্ত, উচ্ছল এক তরুণী সিমারের বিয়ে হওয়ার পর শ্বশুরবাড়িতে নতুন জীবন শুরুর প্রেক্ষাপটে সিরিয়ালটির গল্প আবর্তিত হচ্ছে। পারিবারিক গল্পপ্রধান হিন্দি সিরিয়ালের কদর সব সময়েই রয়েছে। একটি মেয়ের বিয়ে পরবর্তী বদলে যাওয়া জীবনের নানা ঘটনা হরহামেশা বিভিন্ন টিভি সিরিয়ালে দেখে দর্শক অভ্যস্ত হলেও ‘সাশুরাল সিমার কা’ সিরিয়ালে তেমনি এক তরুণী গৃহবধূ সিমারের প্রাত্যহিক জীবনের ঘটনাবলি তুলে ধরার ক্ষেত্রে অভিনবত্ব রয়েছে, যা খুব সহজেই দর্শকদের আকৃষ্ট করছে। এ কারণেই সিরিয়ালটি ছোট পর্দার দর্শকদের পছন্দের তালিকায় বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে সিরিয়ালটির তামিল ও তেলেগু ভার্সন ভিন্ন দুটি চ্যানেলে দেখানো হচ্ছে। ওদিকে একটি সার্বিয়ান জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলে সার্বিয়ান ভাষায় ‘সাশুরাল সিমার কা’ সিরিয়ালটি ডাবিং করে দেখানো শুরু হয়েছে কয়েক মাস আগে। প্রত্যেক মেয়েরই জীবনে নানা আকাঙ্ক্ষা থাকে, বিভিন্ন স্বপ্ন থাকে। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরেও সেই আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পূরণের জন্য তাদের হূদয় ব্যাকুল থাকে। সিমারের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন একজন প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু এরমধ্যে তার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে পা রাখার পর সিমার অনুভব করে এখানে তার স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষা পূরণের পরিবেশ নেই। শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের রক্ষণশীল মনোভাব সিমারের স্বপ্ন পূরণের পথে বিরাট বাধা হয়ে ওঠে। ছোট্ট মফস্বল শহরের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে সিমার ছোটবেলা থেকে মধ্যবিত্তের মূল্যবোধ লালন করে বড় হয়েছে। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে আসার পর তার জীবনের গতিপথ পুরোপুরি বদলে যায়। আগের মতো নাচের প্র্যাকটিস করার কথা ভাবতেই পারে না শ্বশুর বাড়ির লোকজনের মধ্যে। এ ছাড়া তার মনে দীর্ঘদিনের লালিত মধ্যবিত্তের চিন্তাভাবনা, আদর্শ, মূল্যবোধের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের রক্ষণশীল চিন্তাধারার বিরোধ সিমারকে প্রতিনিয়ত বিপর্যস্ত করে। কিন্তু সিমার ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে না। নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে হাল ছেড়ে না দিয়ে স্বামীর সমর্থনে প্রস্তুত করতে থাকে সে নিজেকে। যা শ্বশুরবাড়ির লোকজন যাতে জানতে না পারে সে জন্য চলে নানা লুকোচুরি খেলা। এভাবে নানা সাসপেন্স সৃষ্টি হয়, গোটা পরিবারে ঘটতে থাকে চ্যালেঞ্জিং এবং মজার সব ঘটনা। যা হালকা কমেডির মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে ‘সাশুরাল সিমার কা’ সিরিয়ালে। জনপ্রিয় এই টিভি সিরিয়ালে তুলে ধরা পারিবারিক প্রাত্যহিক জীবনের ঘটনাবলির সঙ্গে এই সিরিয়াল অনেক কিছু মিলে যাচ্ছে বলে দর্শক অন্যরকম মজা পাচ্ছেন। এই টিভি সিরিয়ালে নাম ভূমিকায় অর্থাত্ সিমার চরিত্রে রূপদান করেছেন সুন্দরী অভিনেত্রী দীপিকা স্যামসন। টিভি সিরিয়ালে অভিনয়ে আসার আগে দীপিকা ছিলেন এয়ার হোস্টেস। তার জন্য দীপিকা চরিত্রটি যথাযথভাবে রূপায়ন অনেকটা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। অভিনীত চরিত্র সিমারের মতো দীপিকাও তার স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে কোনোভাবেই বিচ্যুত হননি। অনেক ধৈর্য ও পরিশ্রমের বদৌলতে সিমার চরিত্রটি রূপায়নে বেশ ভালোভাবেই সফল হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে দীপিকা স্যামসন বলেন, ‘আমি আগেও কঠোর পরিশ্রমী ও অধ্যবসায়ী ছিলাম। অভিনেত্রী হওয়ার পরে তা আরও বেড়েছে। আমি যেসব ভুল করে থাকি তা শুধরে নিয়ে সতর্ক হয়ে যাই। আমার সৌভাগ্য ভুলের কারণে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হইনি এখনও।’ সিমার তার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য একাগ্রভাবে চেষ্টা করলেও পাশাপাশি শ্বশুরবাড়িতে নিজেকে একজন আদর্শ গৃহবধূ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট থাকে। ‘আমি আমার অভিনীত সিমার চরিত্রটির সঙ্গে নানা ভাবে একাত্ম হয়ে গেছে। চরিত্রটি রূপায়ন করতে গিয়ে অনেক কিছুই উপভোগ করছি। একটানা প্রতিদিন শুটিং করলেও ক্লান্তি বোধ করি না এ কারণে। আমি ব্যক্তিগত জীবনেও আমার পরিবারের সঙ্গে অনেক ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছি যে কারণে সিমার চরিত্রটি রূপায়ন করতে গিয়ে কোনোভাবেই সমস্যা হচ্ছে না। খুব সহজেই তা রূপায়ন করতে পারছি, দর্শকদের কাছে সিমার চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে,’ বলেন অভিনেত্রী দীপিকা স্যামসন। ‘সাশুরাল সিমার কা’ সিরিয়ালের অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করছেন আভিকা গোর (রলি), মনীষ রায় সিংহানিয়া (সিদ্ধার্থ), শোয়াইব এব্রাহিম (প্রেম), হিমানী শিবপুরি (রাজ্জো), পংকজ ধীর (জামানালাল) ও নিশিগন্ধা ওয়াদ প্রমুখ। আগামী বছরের শুরুতেই সিরিয়ালটি ৫০০ এপিসোড অতিক্রম করবে। কালারস টিভি চ্যানেলে ‘সাশুরাল সিমার কা’ সিরিয়ালটি সপ্তাহের প্রতি সোম থেকে শুক্রবার রাত ৮টায় দেখানো হয়।