হালুয়াঘাটে গারো সম্প্রদায়ের প্রাণের উত্সব ওয়ান্না
শেখ মহিউদ্দিন আহাম্মদ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৫৯
প্রতিবছর ন্যায় এবারও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটের প্রত্যন্ত গ্রাম আসকিপাড়ায় গারো সম্প্রদায় প্রাণের উত্সব ওয়ান্না (নবান্ন) উত্সবে মিলিত হয়েছিল। এ উত্সবে দেশি-বিদেশি অতিথিসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহের গারো সম্প্রদায়ের লোকজন অংশ নেয়। গত ২৯ ও ৩০ নভেম্বর ২ দিনব্যাপী ওয়ান্না উত্সবে ভারতীয় ও এ অঞ্চলের গারোদের সাংস্কৃতিক দল তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করেন।
ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের গ্রাম আসকিপাড়া। ২০০৩ সাল থেকে এখানে ওয়ান্না উত্সব উদযাপিত হয়ে আসছে। উত্সবের সমাপনী দিবসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশন জোস্ট কারস্ট জেন্স ও পেইভি টোকিয়া এবং জার্মানির এনজিও কর্মকর্তা দৃক স্যাম উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের মেঘালয় থেকে সেংবান রংরগের নেতৃত্বে একটি কালচারাল টিম ওয়ান্না অনুষ্ঠানে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করেন। ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ২১টি সাংস্কৃতিক দল তাদের ঐতিহ্যগত গান ও নৃত্য পরিবেশন করে দর্শক-শ্রোতাদের আকৃষ্ট করের। আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের তাদের নিজস্ব বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার মাধ্যমে গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে কাকাওয়া, নানঙ্গলিস্ট, র্যাঙ্ককিডিং, র্যাঙ্কবঙ্গ নামের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হয়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের তিন শতাধিক শিল্পী ওয়ান্না উত্সবে অংশ নেয়। এ উত্সবে আদিবাসী সম্প্রদায় ছাড়াও আশপাশের মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও অংশ নেয়। উত্সবে ডাকমান্দা, ডাকসারি, থামি, টেপস, রেকমাচো, কেন্নাচিল ইত্যাদি গারো সম্প্রদায়ের পোশাক বিক্রি করা হয়। ওয়ান্না অনুষ্ঠানে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সঞ্জীব দ্রং বলেন, ওয়ান্না গারোদের সবচেয়ে বড় উত্সব। শষ্যের দেবী ‘মিনমা’-কে সন্তুষ্ট করা জন্যই প্রতি বছর এই উত্সবের আয়োজন করা হয়। মান্দি কোরাস- হারে রে রে, হারে রে রে পরিবেশনের মাধ্যামে দুই দিনব্যাপী উত্সব শেষ হয়।