সেবার ব্রত নিয়ে জীবন গড়তে প্রাথমিক শিক্ষক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৫১
সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩)’-এর আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক’ পদে ১৫হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যারা সেবার ব্রত নিয়ে জীবন গড়ার এই মহান পেশায় যোগ দিতে চান, তাদের জন্য এই লেখায় তুলে ধরা হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিস্তারিত।
প্রয়োজনীয় যোগ্যতা
পুরুষ প্রার্থীদের যেকোনো স্বীকৃত শিক্ষাবোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোনো শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট-ইন-এডুকেশন বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষাগুলোর যেকোনো একটিতে দ্বিতীয় বিভাগ বা ন্যূনতম জিপিএ ২ পেতে হবে। এ ছাড়া যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকলেও আবেদন করা যাবে।
মহিলা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো স্বীকৃত শিক্ষা বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ অথবা জিপিএ ২ থাকতে হবে। মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ বা জিপিএ ২-এর কম থাকলে কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে দ্বিতীয় বিভাগ বা জিপিএ ২ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। পুরুষ ও মহিলা উভয় প্রার্থীদের বয়স ৩১ অক্টোবর ২০১২ তারিখে কমপক্ষে ১৮ বছর এবং সর্বোচ্চ ৩০ বছর হওয়া যাবে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর পর্যন্ত প্রযোজ্য।
কেমন বেতন পাবেন
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সম্মানী দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে রয়েছেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তারা ৪৯০০-২৯০৭-৬৯৩০-ইবি-৩২০১১-১০৪৫০ টাকা স্কেলে বেতন পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকরা ২০০৯ জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী ৪৭০০-২৬৫৭-৬৫৫৫-ইবি-২৯০১১-৯৭৪৫ টাকা পেয়ে থাকেন।
যেভাবে আবেদন করবেন
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd থেকে দরখাস্ত ও প্রবেশপত্রের নমুনা ফরম ডাউনলোড করে নিতে হবে। অথবা এ ফোর সাইজের কাগজে উক্ত ফরমের প্রতিরূপ কম্পোজ করে নিলেও হবে। তবে ফরম প্রার্থী কর্তৃক স্বহস্তে স্বাক্ষরিত হতে হবে। প্রার্থীকে পরীক্ষার ফি বাবদ ১৫০ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে কোড নম্বর ১-২৪৩১-০০০০-২০৩১-এ জমা দিয়ে চালানের মূল কপি আবেদনপত্রের মূলকপির সঙ্গে অবশ্যই যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত আবেদনপত্রের ফরম ও প্রবেশপত্র প্রার্থীকে হাতে লিখে বা টাইপ করে পূরণ করতে হবে। আবেদনকারী আবেদন ফরমে ও প্রবেশপত্রের (মূল ও ডুপ্লিকেট) স্বাক্ষরের স্থানে স্বহস্তে স্বাক্ষর করবেন। মূল আবেদনপত্রের সঙ্গে নিম্নবর্ণিত কাগজপত্রাদির অনুলিপি প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করে সংযুক্ত করতে হবে—
১. সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট আকারের চার কপি রঙিন ছবি (অভিন্ন)। মূল ও ডুপ্লিকেট আবেদনপত্রে একটি করে এবং প্রবেশপত্রের উভয় অংশে একটি করে চারটি ছবি
২. শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কিত সব মূল বা সাময়িক সনদপত্র
৩. সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়র অথবা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদপত্র
দুটি দরখাস্তের একটির উপরের অংশে ‘মূল কপি’ এবং অপরটির উপরের অংশে ‘ডুপ্লিকেট কপি’ লাল কালিতে স্পষ্ট করে লিখতে হবে। বিভিন্ন কোটার অন্তর্ভুক্ত প্রার্থীদের নিজ নিজ কোটার বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। আবেদনপত্রটি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঠাতে হবে।
পরীক্ষা পদ্ধতি ও মানবণ্টন
আবেদনপত্র বাছাইয়ে পর যোগ্য প্রার্থীদের নিয়ে পরবর্তী সময়ে লিখিত পরীক্ষায় অনুষ্ঠিত হবে। ১০০ নম্বরের মধ্যে সব প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপে রয়েছে ৫ নম্বারের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ফলাফল। এর পরের ধাপে রয়েছে ৮০ নম্বারের এমসিকিউ পদ্ধতির পরীক্ষা। এই পরীক্ষাতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন হয়ে থাকে। এমসিকিউ এই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবেন, তারাই কেবল তৃতীয় ধাপে অংশ নিতে পারবেন। তৃতীয় এই ধাপে রয়েছে মৌখিক পরীক্ষা। ১৫ নাম্বারের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মৌখিক পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবেন, তাদের মধ্য থেকে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এমসিকিউ পরীক্ষাতে যেহেতু সবচেয়ে বেশি নম্বর, কাজেই এমসিকিউ পরীক্ষায় ভালো করার চেষ্টা করুন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬ ঠিকানায় অথবা www.dpe.gov.bd সাইটে বিস্তারিত আরও তথ্য জানতে পারবেন।