আতশবাজি

বিয়ে কিংবা বড় কোনো অনুষ্ঠানে আতশবাজির প্রদর্শনী দেখানোর চল বহুকাল থেকেই চলে আসছে। যদিও ঠিক কবে বা কার হাত ধরে এই আতশবাজির উদ্ভব তা সঠিকভাবে জানা যায় না। তবে ধারণা করা হয়ে থাকে যে, নবম শতকে চীনাদের হাত ধরেই প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল এই আতশবাজি। আবার কারও কারও মতে আজ থেকে প্রায় ২০০০ বছর আগেই গানপাউডারের সংমিশ্রণে আতশবাজির কাছাকাছি বিভিন্ন উজ্জ্বল বিস্ফোরক তৈরি করতে পেরেছিল চীনারা। এ সময়ে চীনারা আতশবাজি তৈরির জন্য বারুদ ব্যবহার করত এবং তারা এই আতশবাজি শিল্পের যথেষ্ট উন্নতি সাধন করে। এ নিয়ে প্রচলিত একটি গল্প থেকে জানা যায়, একজন চীনা পাচক ভুলবশত তিনটি রান্নার উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে উচ্চতাপমাত্রায় রাঁধতে যেয়েই বিস্ফোরণের শিকার হন এবং আজকের দিনের গানপাউডারের প্রাথমিক উপকরণের সন্ধান পান। পরবর্তীতে খ্যাতনামা পরিব্রাজক মার্কো পোলোর হাত ধরেই আতশবাজি তৈরির এই প্রক্রিয়া ইউরোপীয়দের হাতে আসে। ত্রয়োদশ শতকে ইংরেজ বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস বেকন এ নিয়ে গবেষণাও করেন। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো পনেরশ শতকের ইংরেজ বিজ্ঞানীরা আতশবাজি তৈরি করতে যে ধরনের উপকরণ ব্যবহার করতেন গেল পাঁচশ বছরেও সেই উপাদানে খুব একটা ভিন্নতা আসেনি। বরং সল্ট পিটার, চারকোল আর সালফারের মিশ্রণই এখনও ব্যবহূত হয়ে আসছে আতশবাজির প্রধান উপকরণ হিসেবে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকার দাহ্য ও বিষ্ফোরক রাসায়নিক দ্রব্যের দক্ষতাপূর্ণ মিশ্রণের মাধ্যমে আতশবাজির শব্দ, ঔজ্জ্বল্য এবং রংয়ের বৈচিত্র্যও তৈরি করা হয়। যেমন গতিবেগ ও স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টিকারী আতশবাজির প্রধান উপাদান হলো পটাসিয়াম নাইট্রেট, সালফার (গন্ধক), লৌহচূর্ণ এবং কাঠ কয়লার মিহি গুঁড়া। বিস্ফোরণের তীব্রতার জন্য প্রয়োজনমতো বারুদের গুঁড়াও যোগ করা হয়। আবার আলোর ঔজ্জ্বল্যের জন্য নাইট্রেট অব লেড এবং বেরিয়াম ও অ্যালুমিনিয়ামের সূক্ষ্ম চূর্ণ আতশ মসলার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। আর রঙিন ঘূর্ণায়মান তারকা অথবা মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সৃষ্টিকারী বিশেষ ধরনের আতশবাজি তৈরির জন্য পটাসিয়াম ক্লোরেট বা পারক্লোরেটের সঙ্গে নানারকম ধাতব লবণ মিশানো হয়। প্রদর্শনের জন্য আতশবাজির ব্যবহার বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং বিশ্বের বহু দেশেই জাতীয় দিবসে যেমন স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস প্রভৃতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে আতশবাজি প্রদর্শন হয়।