ভুল শট খেলার মাশুল
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৫
সুনীল নারিনের বলে জীবন পাওয়ার এক বল পর ফের ফাঁদে পড়ে ড্রেসিং রুমে এনামুল হক বিজয়। তার মত নারিনের বলে একই ভুল করে ড্রেসিংরুমে ফিরে গেছেন তামিম ইকবাল, নাঈম ইসলাম, মাশরাফি বিন মুর্তজা। আগের ম্যাচে ২৯২ রানের পরের ম্যাচে মাত্র ২২৭ রান! শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জিতুক আর হারুক; ব্যাটিংয়ের এই দৈন্যদশা সবাইকেই ভাবাচ্ছে। কেন এই অবস্থা?
বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর কিছু নয়; স্রেফ নিজেদের ভুল শটের কারণে ব্যাটসম্যানরা বিপাকে পড়েছেন। গতকাল বাংলাদেশের ব্যাটিং শেষে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ রেফারি রকিবুল হাসান এই বিষয়টিই বলতে চাইলেন। তিনি মনে করেন, ব্যাটসম্যানদের ভুল শটের কারণে মোট রান এতো কম হয়েছে। নইলে এই রানের পুঁজিটা আরো ভারি হত বলে মনে করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে আশাবাদীও হতে চান সাবেক এই ক্রিকেটার। তিনি মনে করেন, ১১০ রানে পাঁচ উইকেট থেকে ২২৭ রান নিতান্ত কম নয়; ফলে রিকভারিটা ভালো হয়েছে!
ব্যাটিং নিয়ে প্রায় একই ধরনের মত দিলেন বাংলাদেশের প্রবীণ কোচ ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ জালাল আহমেদ চৌধুরী। তিনি মনে করেন, টপ অর্ডার ব্যর্থ হওয়াতে এবং শট নির্বাচনে বারবার ভুল করাতেই পরিস্থিতি এরকম হয়েছে।
ব্যাটিং ব্যর্থতা প্রসঙ্গে রকিবুল হাসান বলেন, ‘আমার মনে হয় ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্লিকেশন ভুল ছিল। তারা একটু তাড়াতাড়ি করতে গেছে। দুটি পার্টনারশীপ দলকে ২২৭ রানে নিয়ে গেছে। হয়তো আরো রান উঠতে পারতো’।
বাংলাদেশের ইনিংসে এই হতাশার ছবি নতুন নয়। এক ম্যাচ ভালো খেললেই পরের ম্যাচে দুর্দশা ফুঠে ওঠে। তামিম ও এনামুল ভালো একটি সূচনা এনে দেয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। এনামুলের ৩৩ রানর মধ্যে দুইবার লাইফ পেয়েছেন। তারপরও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। শুধু এনামুল নয়, অভিজ্ঞ তামিম কিংবা নাঈম, নাসির হোসেনদেরও একটু ধীর ব্যাটিং করার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ জালাল আহমেদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘আসলে প্রথম দুটি ম্যাচ জয়ের কারণে নিজেদের ভিতরে একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। তাছাড়া এই ম্যাচটি আরো একটু দেখেশুনে খেলা দরকার ছিল। কিন্তু পারেনি। একটি পার্টনারশীপের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু টপ অর্ডাররা সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছে। নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে বড় পার্টনারশীপের কি আশা করা যায়। নিচের সারির ব্যাটসম্যানরা দলকে মেরামত করতে পারে; কিন্তু বড় স্কোর করতে পারে না’।
সাবেক এই কোচের কথায় পরিষ্কার যে, বাংলাদেশকে বড় স্কোর করতে হলে টপ অর্ডারদের ভালো করতে হবে। যদিও দুটি মাঝারি পার্টনারশীপ দলকে দুশো রানের গণ্ডি পাড় করেছে। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সাথে সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ষষ্ঠ উইকেটে ৫৮ রান ও অষ্টম উইকেটে রিয়াদ ও সোহাগ গাজীর ৩৯ রানের পার্টনারশীপে বাংলাদেশের ইনিংস মেরামতের কাজ হয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে যেমন সমালোচনা চলে, তেমনই প্রশংসা পেতে পারেন ক্যারিবীয় স্পিনাররা। প্রথম দুই ম্যাচ বাংলাদেশের স্পিনাররা দাপট দেখিয়েছেন; কাল দেখালেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা। গত দুই ম্যাচে ২০ উইকেটের মধ্যে ১৬টি উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশি স্পিনাররা। কাল ১০ উইকেটের মধ্যে সাতটি উইকেট নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা। নারিন চারটি, ভিরাস্যামি পারমল দুটি এবং ক্রিস গেইল একটি উইকেট নিয়েছেন।
স্পিনাররা নিজেদের মধ্যে উইকেট বণ্টন করেছেন ঠিকই তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উইকেট প্রাপ্তির বেশিরভাগ অবদান বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের।