অসহায় কৃষকের সোনালি ধান

কৃষি খাতে ২০১২-’১৩ অর্থবছরে সরকারি বাজেট গত বছরের ৭.৭% থেকে কমিয়ে ৭.৫% করা হয়েছে। গত ১৮ নভেম্বর পত্রিকান্তরে প্রকাশ— মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘কৃষকেরা উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না’, যা বড্ড বেমানান ও কৃষকের জন্য দুঃখজনক পরিহাস। বেমানান এ কারণে যে,সরকার কৃষকের বঞ্চনা, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণ ও এর প্রতিকার জানা সত্ত্বেও কৃষকের স্বার্থানুকূল কোনো পদক্ষেপ নেই। তবে সরকার যেসব পদক্ষেপ নেন (যেমন মৌসুমের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে ধান-পাটের মূল্য নির্ধারণ) তা মূলত ব্যবসায়ী, স্বার্থান্বেষী মজুতদারদের জন্য বেশ স্বার্থানুকূল হয়ে থাকে। সরকার নির্দেশিত এসব নিয়ম-কানুন কেউ গ্রাহ্য করল কি করলো না ; কৃষক প্রতিমণ ধান উত্পাদনে ৬০০ টাকা খরচ করে ৫০০ কী ৬০০ টাকা পেলে তাতে কারোরই মাথাব্যথা নেই! আর কৃষি খাতে ভর্তুকি হচ্ছে গাছের গোড়া কেটে মাথায় পানি ঢালার মতো অবস্থা। কৃষকের এ ভর্তুকি অনেকক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা পায়। নতুবা ভিজিডি, ভিজিএফ-এর কার্ডপ্রতি ১০ কেজি করে চাল/গম যেমন ওপর মহল থেকে কমতে কমতে জনসাধারণ ৫/৬ কেজি করে পায়, তেমনি কৃষি উপকরণ ও ভর্তুকিরও সেই একই অবস্থা হয়। তবে সেইদিন আর নেই, সময় এখন ঘুরে দাঁড়ানোর। কৃষি খাতকে উন্নত করে এগিয়ে নেয়ার এখনই সময়। এক্ষেত্রে আমন ধানের মৌসুমের শুরুতেই কৃষকের স্বার্থানুকূল ধানের মূল্য নির্ধারণ করে দেশের সকল অঞ্চলব্যাপী তা বাস্তবায়নের জন্য অতীব জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শরীফ আহমেদ, সংস্কৃত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।