গফরগাঁওয়ের নাজিমউদ্দিন ও মুক্তিযোদ্ধা বাজার

গফরগাঁওয়ের মুক্তিযোদ্ধা বাজারের প্রাণপুরুষ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা নাজিম-উদ্দিন। তিনি ১৯৯০ সালে গফরগাঁও উপজেলার শীলা, সুতিয়া ও বানার নদীর সঙ্গমস্থলের কাছাকাছি নিগুয়ারী ইউনিয়নের সুতার-চাপর গ্রামে গফরগাঁও-বরমী সড়কের উপর ‘রাজাকার মুক্ত’ মুক্তিযোদ্ধা বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বাজারে প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান-ঘর রয়েছে। সপ্তাহে রবি, বুধ ও বৃহস্পতি-বার মুক্তিযোদ্ধা বাজারের হাটবার। এই বাজারে রাজাকারদের ব্যবসা করা নিষেধ আছে। ১৯৭১ সালের ২৭ আগস্ট পাক বাহিনী নাজিমউদ্দিনসহ ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধা ধরে আনে। সেই ১৪ জনের সাথে লঞ্চে পূর্বেই আটক ১৫ জনসহ মোট ২৯ জনকে লঞ্চের ছাদে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করলে ঐদিন নিগুয়ারী ইউনিয়নের আঃ গফুর, বাচ্চু, ওয়াহেদ আলী, আঃ হামিদ, আঃ রহমান, তাজউদ্দিন, হুমেন, মুনসুর, আঃ হাই, উসমান, আলী হোসেন ও অন্য এলাকার ১৫ জনসহ ২৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। নাজিমউদ্দিন ও ঈমাম উদ্দিন নিজেদের হাতের বাঁধন খুলে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষা করেন। তারপর ’৭১ সালের ১৫ অক্টোবর বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা বাজারে সম্মুখযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে পুনরায় আহত হন মুক্তিযোদ্ধা নাজিম-উদ্দিন। ঐদিন তার সহযোদ্ধা আবুবকর সিদ্দিক, সালা-উদ্দিন, জামাল আকন্দ, সুলতান, আব্দুল মান্নান ও একজন অবাঙালি মুক্তিযোদ্ধাসহ ৭ জন শহীদ হন। নাজিমউদ্দিনের অনেক স্বপ্ন। তিনি স্বপ্ন দেখেন এখানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের। বাজারের একটি ঘরে নিগুয়ারী ইউনিয়নের ৬০ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকা টানিয়ে দিয়েছেন।