কুমিল্লায় ডাক্তারের বিরুদ্ধে সনদ বাণিজ্যের অভিযোগ

কুমিল্লায় এক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি না করে গুরুতর জখমী দেখিয়ে ভুয়া মেডিক্যাল সনদ প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার এ বিষয়ে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগটি দাখিল করেন আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসেন। জানা যায়, গত ২৩ নভেম্বর আদর্শ সদর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আবদুল কাদেরের পরিবারের সাথে একই গ্রামের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেনের বাক-বিতণ্ডা হয়। এ ঘটনায় তার পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য আবদুল কাদেরের ছোট ভাই তাজুল ইসলাম প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন মর্মে গত ২৩ নভেম্বর কুমিল্লা মেডিক্যালে ভর্তি হন। কিন্তু তিনি সুস্থ থাকায় পরদিনই তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে দেয়া হয়। পরে ওই রোগীকে গত ২৪ নভেম্বর কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি না করিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তার ডা. কামরুল হাসান অনৈতিকভাবে মাথায় গুরুতর জখম ও গ্রিভিয়াস ইনজুরি দেখিয়ে মেডিক্যাল সনদ প্রদান করেন। সনদ প্রদানের পর তিনি ওই রোগীকে পুনরায় কাগজে-কলমে কুমেক হাসপাতালে স্থানান্তর দেখালেও রোগী মেডিক্যাল সনদ নিয়ে বাড়ি চলে যান। পরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ওই ভুয়া মেডিক্যাল সনদ দিয়ে গত ২৯ নভেম্বর কুমিল্লার বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১নং আমলী আদালতে আওয়ামী লীগ নেতা ও ঠিকাদার আলমগীর হোসেনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ভুয়া মেডিক্যাল সনদ দিয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানির প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সোমবার কুমিল্লার সিভিল সার্জনের নিকট ওই অভিযোগটি দাখিল করেন হয়রানির শিকার আলমগীর হোসেন। এর আগে গত ১ ডিসেম্বর স্থানীয় এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিনকে এ বিষয়ে অবহিত করা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থার নেয়ার জন্য তিনি সিভিল সার্জনকে নির্দেশ প্রদান করেন। এ বিষয়ে কুমিল্লা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিব রাহমান জানান, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক গ্রিভিয়াস মেডিক্যাল সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে ৩ জন ডাক্তারের সমন্বয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সনদ দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু ওই মেডিক্যাল সনদটি প্রদানের ক্ষেত্রে ডা. কামরুল হাসান নিজেই ৩ স্থানে স্বাক্ষর দিয়ে সনদ প্রদান করেছেন, তাই তদন্ত সাপেক্ষ এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।