সিলেট-আখাউড়ায় রেলের সম্পত্তি কৃষির নামে বন্দোবস্ত নিয়ে চলছে স্থায়ী দখল
নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৭
সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনের ভূ-সম্পত্তি কৃষি বন্দোবস্ত নিয়ে নির্মিত হচ্ছে বাসাবাড়ি ও দোকান-কোঠা। রেল সেকশনের বিভিন্ন স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকার হাজার হাজার কোটি টাকার ভূ-সম্পত্তি স্থানীয় প্রভাবশালীরা কৃষি কাজের নামে বন্দোবস্ত নিয়ে খণ্ড খণ্ড অংশ করে আবার বাসাবাড়ি বা দোকান-কোঠা করে চড়া মূল্যে বিক্রি ও ভাড়া দিয়ে স্থানীয়ভাবে দখল করে নিচ্ছে।
রেলপথের পাশে গড়ে উঠা এসব কলোনীর কেউ কেউ লোহা চুরি, আবার কেউ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। ওই জোনের ভাটেরা, কুলাউড়া, লংলা, শমশেরনগর, ভানুগাছ, শ্রীমঙ্গল, সাতগাঁও, রশিদপুর, লস্করপুর, শায়েস্তাগঞ্জ ও নোয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্টেশনের পাশের জমি অবৈধ দখলে নিয়ে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেকশনের কুলাউড়া উপজেলাধীন হাজীপুর ইউনিয়নের পাবই এলাকার জনৈক ব্যক্তি সম্প্রতি রেলওয়ে সংলগ্ন কৃষি জমি দখলে নিয়ে মাটি ভরাট করে টিনের ছাউনি দিয়ে দোকান-কোঠা বানিয়ে ভাড়া দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের একটি মহল এবং রেলওয়ের এক কর্মচারীর প্রভাবে দখল কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন একজন দখলদার আব্দুর রহমান বলেন, রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ থেকে ১৯৯৭ সালে ১ একর ৪৯ শতক কৃষিজমির বন্দোবস্ত এনে এখানে ছোট ছোট কয়েকটি অস্থায়ী টং দোকান বানিয়ে ভাড়া দিয়েছেন। স্থানীয় এলাকার হারুনুর রসিদ, আব্দুল আহাদ, আব্দুর রহিমসহ এলাকাবাসী জানান, অবৈধভাবে নির্মিত এসব দোকানের কারণে রেলক্রসিং-এ মারাত্মক দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। অন্যদিকে রেললাইনের ক্লিপ, নাটবল্টুসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাওয়ায় এই সেকশনের রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় ওই জোনের বিভিন্ন স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের দালানগুলো অন্য পেশার লোকজনের কাছে চড়া মূল্যে ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আবাসিক ওইসব কোয়ার্টারে বাইরের লোকজন বসবাস করলেও পানি, বিদ্যুত্ ও গ্যাস বিল ও পরিশোধ করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোঃ শাহজাহান বলেন, কৃষি বন্দোবস্ত নিয়ে এভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাসাবাড়ি ও দোকানগৃহ গড়ে উঠছে। গণপূর্ত (রেল) (শ্রীমঙ্গল অঞ্চল)-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ এরফানুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ভূ-সম্পত্তি বিভাগ থেকে লিজ নিয়ে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। তবে বিষয়টি ভূসম্পত্তি বিভাগের হলেও মাঝে-মধ্যে তাদের অভিযোগ পেয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ ব্যাপারে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কারো সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।