সুরমা তীরে সবজি বিপ্লব

ইব্রাহিম খলিল ৭৫ শতক জায়গায় ফুলকপির চারা রোপণ করেছেন। চারা কেনা থেকে শুরু করে চারা রোপণ, পরিচর্যা, সার, কিটনাশক কেনা সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা। এখন চলছে শেষ পর্যায়ের পরিচর্যা। ফুলকপির ক্ষেতে বাড়তি আগাছা পরিষ্কার, পানি দিচ্ছেন প্রতিদিন। আর কয়েকটা দিন পরই সারা বছরের পরিশ্রমের ফসল এই সবজি বাজারে বিক্রি করবেন। তিনি আশা করছেন, এ বছর দেড় লক্ষ টাকার ফুলকপি বিক্রি করতে পারবেন। শুধু ইব্রাহিম খলিল নয় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা নদীর তীরবর্তী সুরমা ইউনিয়নের কোনগাঁও, বানিপুর, নলুয়া, ঘাসিগাঁও, কৃষ্ণনগর, আমাপাড়া, বাগমারাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক শতাধিক কৃষক এ বছর শীতের শাক-সবজির চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ভাল ফলন হয়েছে। শীতের সবজি ইতিমধ্যে তারাও বিক্রি করতে শুরু করছেন চাষিরা। দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা সুরমা ইউনিয়নে এসে মূলা, আলু, ডুগি, লাল শাক, পালং শাক, বরবটি, শিম, লাউ, ঝিঙ্গা ক্রয় করছেন। নদী ও সড়ক পথে এসব সবজি রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। কোনাগাঁও গ্রামের জিল্লুল হক বলেন, ৩০ শতক জায়গায় লাউয়ের চাষ করেছিলাম। চারা কেনা থেকে শুরু করে পরিচর্যা পর্যন্ত খরচ হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। আশা করছি আরো ২০-২৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারব। তিনি জানান, কোনাগাঁও ও আশপাশের এলাকায় দিনদিন শীতের সবজির চাষাবাদ বাড়ছে। লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই শাক-সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। একই গ্রামের সুহেল মিয়া জানান, তিনি ৫ শতক জায়গায় লাল শাক রোপণ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ডিসেম্বর মাসেই সব শাক বিক্রি করতে পারবেন। আশা করছেন লাভ হবে ৪০ হাজার টাকা। পাইকার আব্দুল হাই এসেছেন সিলেট থেকে মূলা কিনতে। তিনি জানান, ৬০০ টাকা ধরে প্রতিমণ মূলা তিনি ক্রয় করেছেন। বাজারের বিক্রেতাদের কাছে ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি করবেন। ফলন ভাল হওয়ায় অন্যবারের তুলনায় এবার শীতের শাক-সবজি বেশি সরবারহ করছেন বলে তিনি জানান। সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার বলেন, শীতের সবজি চাষ করে এই ইউনিয়নের শত শত কৃষক এখন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। দিন দিন বাড়ছে শীতের শাক-সবজির চাষির সংখ্যা। সুনামগঞ্জের কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আফসারুজ্জামান জানান, সদর উপজেলায় পাঁচ হাজার তিন শত হেক্টর জমিতে শীতের শাক-সবজি চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভাল ফলন হয়েছে।