গ্রেফতারকৃতকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির সংবিধান পরিপন্থি

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে বক্তব্য দেয়া প্রচলিত আইন ও সংবিধান পরিপন্থী বলে অভিমত দিয়েছে হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ পাহাড় কাটা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করেন। আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেখা যাচ্ছে কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেই গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হচ্ছে। এটা অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে বিচারকে প্রভাবিত করা হয়। মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিষয়ে একরকম রায়ই দিয়ে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া এর মাধ্যমে ব্যক্তির স্বাধীনতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, যা সংবিধানেরই লংঘন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নাম-পরিচয় লিখে গণমাধ্যমে হাজির করে স্বীকারোক্তি আদায় করে নিচ্ছে। এভাবে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা, সেখানে আদায় করা বক্তব্য বা স্বীকারোক্তি সম্পূর্ণভাবে আইন ও সংবিধান বিরোধী। আইন অনুসারে কেবল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করে স্বীকারোক্তি নেয়া যায়। ক্ষমা চেয়ে হাজিরা থেকে অব্যাহতি পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশনা লংঘনের অভিযোগে করা আদালত অবমাননার মামলায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন কেইপিজেডের তিন কর্মকর্তা। ক্ষমা প্রার্থনা করা ওই তিন কর্মকর্তা হচ্ছেন ঃ কেইপিজেডের উপদেষ্টা ও পরিচালক মো. হাসান নাসির, জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, ডেপুটি ম্যানেজার মো. আবুল কালাম আজাদ। তাদের পক্ষে ব্যারিস্টার রফিক উল হক ক্ষমার আবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদেরকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়। শুনানিকালে আদালত বলে, পাহাড় কাটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যত বড় ক্ষমতাধরই হোক না কেন, আমরা পাহাড় কাটতে দিবো না। আদেশের পর বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, আনোয়ারায় পাহাড় কেটে প্লট তৈরির অভিযোগে এ বছরের ১৬ এপ্রিল হাইকোর্ট আদালত অবমাননার রুল জারি করেন।