নারায়ণগঞ্জ সিলেট খুলনায় পুলিশের উপর জামায়াত-শিবিরের হামলা

আবারো জামায়াত-শিবিরের হামলার শিকার হলো পুলিশ। গতকাল বুধবার দেশের বিভিন্নস্থানে জামায়াত-শিবিরের মিছিলে বাধা দিলে পুলিশের উপর হামলা চালানো হয়। নারাণগঞ্জে শিবিরের হামলায় এক এস আইসহ আহত হয়েছে তিন পুলিশ সদস্য। শিবির কর্মীরা পুলিশ পিটিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে একটি ওয়ারলেস সেট। চাঁপাইনবাবগঞ্জে গতকাল বিকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি টহল ভ্যান ভাঙচুর করেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এ সময় বিজিবির গাড়ি চালক সিপাহী আমজাদ হোসেন আহত হন। খুলনায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াতের ধাওয়া, পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। আহত হয়েছে একজন কনস্টেবল। এ সময় দুইটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সিলেটে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশসহ আহত হয়েছে অর্ধ শতাধিক। আটক করা হয়েছে ৪০ জনকে। আমাদের অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : নারায়ণগঞ্জ : হামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের একজনের কাছে ইসলামী ব্যাংকের একটি চেক বইসহ নগদ এক লাখ টাকা পাওয়া গেছে। হামলায় গুরুতর আহত এসআই রবি চরণ চৌহানকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত কনস্টেবল কাশেম ও সুলতানকে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের মণ্ডলপাড়া থেকে জামায়াত-শিবিরের একটি জঙ্গি মিছিল বের হয়। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাছিরউল্লাহ। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে লাঠি ও ইট-পাটকেল ছিল। মিছিলটি বঙ্গবন্ধু সড়ক দিয়ে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার দিকে যাওয়ার সময় মণ্ডলপাড়া পুলের কাছেই ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির ক্যাডারদের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা পুলিশের এস আই রবি চরণ চৌহান ও কনস্টেবল কাশেমকে অবরুদ্ধ করে পিটিয়ে আহত করে। এসময় এস আই রবি চরণের কাছ থেকে ওয়্যারলেস সেটটি ছিনিয়ে নেয় শিবিরের লোকজন। তাদের বাঁচাতে এসে অপর পুলিশ কনস্টেবল সুলতান আহত হন। পরে মিছিলটি নিতাইগঞ্জ যাওয়ার সময় অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ঘটনার পর পুলিশ শহরের মণ্ডলপাড়া, নিতাইগঞ্জ, শহীদনগর, কাশীপুরের ফরাজীকান্দা এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালায়। ফরাজীকান্দা এলাকায় ছাত্রশিবিরের একটি কার্যালয় থেকে শিবিরের বই, চেয়ার টেবিলসহ আসবাবপত্র জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রবিউল আউয়াল, সাখাওয়াত হোসেন, আবু নাঈম, আসিফুর রহমান। রবিউল আউয়ালের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ও ইসলামী ব্যাংকের চেক বই পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে গত ১৯ নভেম্বরও শহরে জামায়াত-শিবিরের জঙ্গি মিছিল বের হয়। সেদিনের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হলে সদর মডেল থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ আহত হন। ঐ মিছিলেরও নেতৃত্বে ছিলেন ছাত্রশিবির মহানগর শাখার সভাপতি নাছিরউল্লাহ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ : শহরের মহানন্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গতকাল বিকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি টহল ভ্যান ভাঙচুর করেছে জামায়াত-শিবির। আহত হয়েছেন বিজিবির গাড়ি চালক সিপাহী আমজাদ হোসেন। সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার গোলাম মোরতুজা জানান, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের আম গবেষণা কেন্দ্রের সামনে থেকে একটি জঙ্গি মিছিল বের করে জামায়াত শিবির নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি মহানন্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শেষ হয়ে সমাবেশ করে। এ সময় পাশ দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি টহল দল শিবগঞ্জের দিকে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হয়। এতে গাড়ির সামনের কাচ ও লাইট ভেঙ্গে যায়। ইট-পাটকেল ও লাঠি-সোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয় অপর একটি বেসরকারি ভ্যানে। খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে আসে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রক্রিয়া চলছিল। খুলনা অফিস : দিনাজপুরে পুলিশের গুলিতে শিবির কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় গতকাল সকাল ১০টার দিকে জামায়াত বয়রা মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বয়রা পাবলিক কলেজের সামনে পৌঁছলে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। এসময় মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পুলিশ ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে দুইটি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ তিন রাউন্ড টিয়ারশেল ও এক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম কামরুজ্জামান বলেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের হামলায় রাকিব নামে পুলিশের একজন কনস্টেবল আহত হয়েছেন। সিলেট অফিস : গতকাল দুপুর ২টার দিকে নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় মিছিল বের করে জামায়াত। এ সময় পুলিশ মিছিলকারীদের ধাওয়া দেয়। এক পর্যায়ে মিছিলকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ টিয়ার শেল ও শর্টগানের গুলি ছোঁড়ে। মিছিলকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকলে দুই পক্ষে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। এসময় ২০ রাউন্ড টিয়ার শেল ও ৩০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি বর্ষণ করে পুলিশ। আহত হয়েছে পাঁচ পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন। গুরুতর আহত চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের ক্যামেরাম্যান শফি ও দৈনিক ইনকিলাবের আলোকচিত্রী মাহমুদ হোসেন ও দুই পুলিশ কনস্টেবলকে ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে পুলিশ জিন্দাবাজার এলাকা থেকে জামায়াত-শিবিরের কর্মী সন্দেহে ৪০ জনকে আটক করে।