জামায়াতের কর্মকাণ্ড পরিচালনা হচ্ছে ই-মেইলে

পৌনে দুই বছর ধরে ঝটিকা ও চোরাগোপ্তা মিছিলের মধ্যে আটকে থাকা জামায়াত-শিবিরের কর্মসূচিসহ দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে এখন ই-মেইলে। গত মঙ্গলবার সারাদেশে ঝটিকা ও চোরাগোপ্তা মিছিল, পুলিশের ওপর হামলা, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর গতকাল আর প্রকাশ্যে আসেনি। তবে জামায়াত দাবি করেছে, তারা প্রকাশ্যেই আন্দোলনের কর্মসূচি পালনসহ দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। গতকাল বুধবার জামায়াত-শিবিরের পূর্ব ঘোষিত দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিলো। আর এ কর্মসূচি দেয়া হয়েছিলো গত মঙ্গলবার সারাদেশে হরতাল কর্মসূচি পালনকালে দিনাজপুরে পুলিশের গুলিতে মুজাহিদ হত্যার প্রতিবাদ এবং দলের আটক শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে। গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদপত্রে মহানগর জামায়াতের পাঠানো ই-মেইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কথা জানানো হয়েছে। তবে রাজধানীর কোনো জায়গায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে তার কোনো উল্লেখ নেই। পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কোথায় হয়েছে তা তাদের জানা নেই। এদিকে মহানগর জামায়াতের নেতৃত্বে যারা রয়েছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। প্রত্যেকের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। এমনকি ই-মেইল প্রেরণকারী মহানগর কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. মু. শফিকুল ইসলাম মাসুদের মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে। ই-মেইলে যে খবর পাঠানো হয়েছে তাতে বলা হয়, সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও মহানগর কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আমাদের আন্দোলনে ভীত হয়ে সরকার সারাদেশে শান্তিপূর্ণ হরতালে হামলা, টিয়ারসেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও গুলি বর্ষণ করেছে। জামায়াতের আটক শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দেয়া না হলে আগামীতে আন্দোলন আরো কঠোরতর করা হবে। সমাবেশে মহানগর জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের প্রথম সারির ১২ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ থেকে দিনাজপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত মুজাহিদের জন্য আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়।