টিকেটের জন্য লড়াই!

বাংলাদেশ দল যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের জন্য লড়ছে সেই সময়ে ক্রিকেটামোদিরাও একই রকম যুদ্ধে আছে। শুধু লড়াইয়ের ধরন ভিন্ন। দর্শকদের লড়াই চলছে টিকেটের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে। তাও আবার পুরোদস্তুর লড়াই। দেশের ম্যাচ দেখার টিকেটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে দর্শকদের। আর এর মাঝেই টিকেট নিয়ে অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি টিকেট কালোবাজারির অভিযোগ করেছেন লাইনে দাঁড়ানো ক্রিকেটামোদিরা। দীর্ঘ লাইনে দিন-রাত অপেক্ষার পর একটি টিকেট; এও যেন ম্যাচ জেতার মতো আনন্দ। আজকের ম্যাচের টিকেটের জন্য গতকাল রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। সকাল সাতটা নাগাদ ব্যাংকের গেট খোলা হলে হুমড়ি খেয়ে পড়েন টিকেটের জন্য। দুপুর গড়িয়ে বিকাল নামলেও লাইনের দৈর্ঘ্য খুব বেশি কমেনি। টিকেট পেতে দেরি হওয়ায় কয়েকবার ‘টিকেট শেষ... টিকেট শেষ’ রব উঠলেও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেন। সোশ্যাল ইসলামিক ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় কর্মরত পুলিশের এ এস আই আরশেদুল আলম বলেন, ‘ব্যাংকের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতেই বেশি সময় যাচ্ছে। শৃংখলা বজায় রাখতে পাঁচজন করে ব্যাংকে নিয়ে টিকেট দেয়া হচ্ছে। তাই টিকেট পেতে দেরি হওয়ার ব্যাপারে আমাদের কিছু করণীয় নেই।’ অনেকে লাইন ভেঙে টিকেট নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন লাইনের সামনে এসে টিকেট নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন টিকেট না পাওয়া কয়েকজন। এ শাখায় টিকেট কিনতে আসা শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের রনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাজে লাগিয়ে অনেকে টিকেট নিয়ে যাচ্ছেন। আর আমরা ভোর থেকে দাঁড়িয়ে আছি, অথচ টিকেট পাচ্ছি না। পুলিশ সব দেখেও না দেখার ভান করছে।’ স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মুমুও অভিযোগ করে বলেন, ‘সকাল থেকে টিকেটের জন্য দাঁড়িয়ে থেকেও এখন পর্যন্ত টিকেট পাচ্ছি না। এতো দেরি হওয়ার কারণটা কেউ বলতে পারছে না।’ ব্যাংকটির ধানমন্ডি শাখার দায়িত্বে থাকা সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হাবিবুর রহমান টিকেট বিক্রিতে অব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তাকে ফোনে কাউকে বলতে শোনা যায়, ম্যাচের জন্য বরাদ্দকৃত টিকেট থেকে সাড়ে চার হাজার টিকেটে তুলে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। উল্লেখ্য, মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের দর্শক আসন হলো ২৫ হাজার। তারপরও বিশ্বকাপ থেকে দেখা গেছে ব্যাংকে টিকেট মিলছে না। অথচ গ্যালারির অনেক খানি থাকছে ফাঁকা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তৃতীয় ওয়ানডের সময় জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হয়েছিল মাঠে ঢোকা দর্শকদের সংখ্যা ২২ হাজারের সামান্য কিছু বেশি। অথচ টেলিভিশন পর্দায় দেখা যায় গ্যালারীর অনেক স্থানই ফাঁকা পড়েছিল।