তদন্ত কমিটি গঠন বিজিবি র্যাব পুলিশ মোতায়েন

তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে রংপুর মহানগরীর রবার্টসনগঞ্জ এলাকায় গত বুধবার রাতে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের সঙ্গে এলাকাবাসীর ৩ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশসহ কমপক্ষে ১শ’ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে রংপুর মেডিক্যাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ করা হলে প্রায় ৩শ’ ঘরবাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সরকারি হিসেবে এতে প্রায় ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি টাকার উপরে। তবে বেসরকারি হিসেবে এর পরিমাণ ৩ কোটি টাকার উপরে বলে জানা গেছে। অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষ চলাকালে লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা। ক্যাম্পে সহিংস ঘটনার পর আটকে পড়া পাকিস্তানিদের কিছু যুবক রবার্টসনগঞ্জ নিবাসী ব্যবসায়ী নেতা আব্দুর রহমান রুবেনের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে মোটর সাইকেলসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে। তারা এলাকার বেশকিছু দোকানপাট ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। এ ঘটনায় পুরো রবার্টসনগঞ্জ ও আশাপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে। ঘটনার পর প্রথমে পুলিশ ও র্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় বিজিবিকে তলব করা হয়। এদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২ হাজার মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সকালে তাদেরকে চিড়া ও গুড়, দুপুরে খিচুড়ি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা প্রশাসক তাদের একটি করে কম্বল দেন। ক্যাম্পের বেশকিছু জেএসসি পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র পুড়ে যাওয়ায় গতকাল অনুষ্ঠিত নির্ধারিত পরীক্ষায় তারা অংশ নিতে পারেনি। তাদের পরীক্ষা পরে নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত আটকে পড়া পাকিস্তানিরা গতকাল দুপুরে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে মহানগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট পাঠানোর সময় পর্যন্ত ঐ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন ছিল। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ জানান, পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে মোতায়েন থাকবে। তিনি জানান, ঘটনার পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিজিবি তলব ও অন্যান্য সহায়তার উদ্যোগ নেয়া হয়। রংপুরের পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ঘটনার কারণ, জড়িত এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে এডিএম শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঐ কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রধান জানান, অগ্নিকাণ্ডে ২২০টি ঘরবাড়ি এবং ২০টি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, রবার্টসনগঞ্জ এলাকার আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ক্যাম্প-৩ সংলগ্ন হারুন-অর-রশিদ ওরফে হরিণ মিয়ার হোটেলে ক্যাম্পের মোশাররফের পুত্র রাজু কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিল। হোটেল মালিক হঠাত্ তাকে বাদ দিলে সে তার পাওনা টাকা চায়। এতে হরিণ মিয়া বুধবার সন্ধ্যায় রাজুকে মারপিট করে। এ ঘটনা রাজু তার ভাই এবং পরিবারকে জানায়। রাজুর ভাই ও ক্যাম্পের লোকজন ঐদিন রাতে হরিণ মিয়ার কাছে এ ব্যাপারে কৈফিয়ত চান । এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে উভয়পক্ষে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। প্রায় আধাঘণ্টা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ চলে। খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। এরই মধ্যে কে বা কারা ক্যাম্প সংলগ্ন দোকান ও হোটেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তা আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ে ।