সংশোধিত শ্রম আইন পাসে বিজিএমইএ’র প্রতি সহযোগিতার তাগিদ দিলেন মজীনা
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৬
গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সংশোধিত শ্রম আইন পাসের বিষয়ে বিজিএমইএ’র অবস্থান জানতে চেয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। আইনটি পাসে বিজিএমইএ’র তরফে সহায়তা করার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাজরীনের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা না হলে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার তৈরি পোশাক উত্পাদক ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতির সাথে সাক্ষাত্কালে তিনি এ কথা বলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশোধিত শ্রম আইনের কিছু বিষয়ে গার্মেন্টস মালিকরা সরকারের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন। গার্মেন্ট শ্রমিকদের সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, গার্মেন্টস মালিকদের চাপে সরকার সংশোধিত আইন পাস থেকে সরে এসেছে। সংশোধিত আইনে মালিকদের মুনাফায় শ্রমিকদের ৫ শতাংশ অংশীদার করাসহ কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি রয়েছে মালিকদের । সূত্র জানায়, বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন তাকে বলেছেন, ধীরে ধীরে শ্রমিকদের কর্ম পরিবেশের উন্নতি করছেন তারা। এছাড়া সংশোধিত শ্রম আইনের সব বিষয়েও তারা আপত্তি তোলেননি। সুনির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। এটারও সমাধান হবে।
সমপ্রতি আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শাতাধিক শ্রমিক নিহত হওয়ার পর এ বিষয়টি আবার সামনে এসেছে।
সূত্র জানায়, তাজরীনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের উদ্বেগের কথা জানান মজীনা। তিনি জানতে চান, শ্রমিকদের যথাযথ উপায়ে বেতনসহ অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধ করা হয়েছে কিনা। দুপুরে তিনি বিজিএমইএতে এসে প্রায় আধাঘন্টা বৈঠক করেন বিজিএমইএ সভাপতির সাথে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ফারুক হাসান ও এস এম মান্নান কচি প্রমুখ।
কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নতির তাগিদ ইইউ রাষ্ট্রদূতের
এদিকে গতকাল বিকালে বিজিএমইএ’র নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হান্না। গুলশানে ইইউ কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠককালে সামপ্রতিক তাজরীনের ঘটনায় উদ্বেগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই খবরে বাংলাদেশে কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপের দেশগুলোতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেবে। উইলিয়াম হান্না বলেন, আমরা সবাই জানি আমাদের কী করতে হবে। কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবশ্যই আরো উন্নত করতে হবে। কারখানাগুলোতে কমপ্লায়েন্সের (কর্ম পরিবেশ) উন্নতি করতে হবে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বিজিএমইএকে আমরা সহায়তা দিচ্ছি। এই সহায়তা অব্যাহত রাখব। এ জন্য সরকার, মালিক পক্ষ, শ্রমিক সংগঠন ও ক্রেতাদের একসাথে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মোট রফতানির প্রায় ৬০ ভাগ ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোতে যায়।