জাতীয় বাজেটে মাতৃস্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান পিপিডির
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২০
মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন ‘পার্টনারস ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (পিপিডি) এর বক্তারা। তারা বলেছেন, ২০১১-১২ সালের স্বাস্থ্য খাতে অর্থ বরাদ্দ ছিল জাতীয় বাজেটের পাঁচ দশমিক চার ভাগ এবং ২০১২-১৩ অর্থ বছরে এ বরাদ্দের পরিমাণ চার দশমিক নয় ভাগ। যা পূর্বের অর্থবছরের তুলনায় শূন্য দশমিক পাঁচ ভাগ কম। জাতীয় বাজেটে এভাবে অর্থ বরাদ্দ কমলে তার প্রভাব পড়বে মাতৃস্বাস্থ্যের উপর। এ পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার ভিত্তিক মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের আহবান জানিয়েছে পিপিডি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ডিজএ্যাবল্ড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসার্চ এসোসিয়েশন (ডিআরআরএ) আয়োজিত ষ্টেকহোল্ডার মিটিং ও প্রেস কনফারেন্সে বক্তারা এসব কথা জানান। ‘ডিআরআরএ’ ও ‘পিপিডি’ ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সহযোগিতায় ‘রাইজিং ভয়েজ ফর দ্য সাউথ ফর ইনটিগ্রেশন ফর এ হিউম্যান রাইটস বেষ্ট এ্যাপ্রোজ (এইচআরবিএ) টু ম্যাটারনাল হেলথ’ কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে। ডা. হিরেন পন্ডিত এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ‘নিরাপদ মাতৃত্ব মায়ের অধিকার’ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ডা. মো. মুনির হুসাইন। আরো বক্তব্য রাখেন ডা. মাহবুব রশিদ। অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জ থেকে আসা নারীরা তাদের মাতৃত্বকালীন তিক্ত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মায়েদের মানবাধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু সম্পর্কিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। এমডিজি’র লক্ষ্য অনুযায়ী বিশ্বের দেশগুলোতে ২০১৫ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার ২০০০ সালের তুলনায় তিন-চতুর্থাংশ কমাতে হবে। কিন্তু ২০১২ সালে এসেও অনেক দেশ তাদের অগ্রগতি সন্তোষজনক পর্যায়ে আনতে পারেনি। যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ অগ্রগতি মোটামুটি সন্তোষজনক। তারপরেও ২০১৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে এখনো অনেকদূর যেতে হবে। ২০০১ সালে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল প্রতি লাখে ৩২২ জন, যা ২০১০ সালে এসে দাঁড়ায় ১৯৪ জনে। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা কমিয়ে নিতে হবে ১৪৩ জনে।
বক্তারা বলেন, জাতীয় বাজেটে এই উদ্দেশ্যে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। মাতৃস্বাস্থ্য খাতকে মানবিক পর্যায়ে আনতে হবে। কারণ জনমিতিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০০৭ অনুযায়ী, দেশে এখনো প্রায় অর্ধেক বিবাহিতা নারী স্বামী কর্তৃক নির্যাতিত হয়। দেশের ৬৬ ভাগ কিশোরীর বিয়ে হয় ১৮ বছর বয়সের আগে। ৩২ ভাগ প্রসব হয় প্রশিক্ষিত জনবল দ্বারা। গ্রামের ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতি আরো খারাপ, যা ২৫ দশমিক ২ শতাংশ। জনসংখ্যার তুলনায় জরুরি প্রসূতি সেবা কেন্দ্র কম। প্রায় সকল বিশেষায়িত স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র অবস্থিত শহর এলাকায়। মাত্র ১৫ ভাগ শিশুর জন্ম হয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এছাড়া সামাজিক অসচেতনতার জন্য অনিরাপদ গর্ভপাত বাড়ছে, যা মাতৃমৃত্যুকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা বলেন, এমডিজির আটটি লক্ষ্যের মধ্যে মাতৃস্বাস্থ্যের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।