বাগমারায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ঘিরে উদ্দীপনা

২০০৫ সালের পর এই প্রথম বাগমারা আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটি গঠন শুরু হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই সকল ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি গঠন শেষ করে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা কমিটি গঠন করার জন্য দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠন হওয়ায় দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে কমিটি গঠন হওয়ায় অনেকেই নিজেদের গর্বিত আওয়ামী লীগার মনে করছেন। ২০০৫ সালে দেউলিয়ার রানী রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে আব্দুস সোবহান চৌধুরী সভাপতি এবং জাকিরুল ইসলাম সান্টুকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এরপর ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক দলীয় মনোনয়ন লাভ করলে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সরদার আমজাদ হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে পরাজিত হন। অতপর তাকে কিছু অনুসারীসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফা ভাঙ্গন শুরু হয় উপজেলা নির্বাচন নিয়ে। দলীয়ভাবে এ্যাড. ইব্রাহীম হোসেনকে প্রার্থী ঘোষণা করলে আব্দুস সোবহান চৌধুরী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অনীল কুমার সরকার বেঁকে বসেন। তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। মূলত তাদের কারণেই উপজেলা ভোটে বিএনপি’র একক প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া জয় লাভ করেন। এরপর ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ২০০৯ সাল থেকে ভেঙ্গে যাওয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেন। তিনি বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীদের দলে আসার সুযোগ করে দেন। শুরু হয় নতুন আওয়ামী লীগ গঠনের কাজ। তিনি নেতৃবৃন্দকে ২০১২ সালের মধেই সকল ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও থানা কমিটি গঠনের চূড়ান্ত সময় বেঁধে দেন। এই ধারাবাহিকতায় কমিটি গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মাহাবুর রহমান জানান, ১৫৩টির মধ্যে প্রায় ৯০টি ইউনিটের কমিটি গঠন শেষ হয়েছে। এরপর ইউনিয়ন ও পৌর কমিটি গঠন শুরু করে ৩১ ডিসেম্বরের মধেই সুবিধাজনক সময়ে উপজেলা কমিটি গঠন শুরু হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে এই কমিটি হওয়ায় এখন তাদের মধ্যেও ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বড়বিহানালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কফিল উদ্দিন সরদার ও সাধারণ সম্পাদক ডাঃ সোলাইমান আলী হিরু জানান, বাগমারায় এর আগে এত জাঁকজমকভাবে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়নি। তাদের মতে বাগমারা এখন আওয়ামী লীগের একটি সাজানো বাগানে পরিণত হয়েছে।