এক পেসারের দল!

জিতুক আর হারুক, একটা রেকর্ড আরেকবার নিজেরাই স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ দল। দারুণ টার্নিং উইকেট দেখে একগাদা স্পিনার নিয়ে খেলার নেশায় একজন মাত্র পেসার নিয়ে খেলতে নেমেছিল মুশফিকুর রহিমের দল। ফলে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে মাত্র ষষ্ঠবারের মতো বিশ্ব দেখল কোনো দল একজন মাত্র খাঁটি পেসার নিয়ে ম্যাচ খেলতে নেমেছে। কার্যত এই পর্যন্ত মাত্র দুইটি দল এই কাজ করার সাহস দেখিয়েছে—বাংলাদেশ ও পাকিস্তান; দুই আনপ্রেডিক্টেবল টিম! আসলে এই ঘটনাটি তিন বছর আগে পর্যন্ত ক্রিকেট বিশ্ব কখনোই দেখেনি। সাধারণ রীতি হলো জনাতিনেক পেসার নিয়ে ওয়ানডে খেলতে নামা। কার্যকর অলরাউন্ডারদের যুগ এসে পড়ায় সেটা নেমে দুইজনে পরিণত হয়েছে অনেক আগেই। স্পিননির্ভর দলগুলো উপমহাদেশে দুইজনের বেশি স্পিনার সাধারণত ব্যবহার করে না। কিন্তু ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসের আগ পর্যন্ত পেসারের সংখ্যা একে নামিয়ে আনার সাহস দেখায়নি কেউ। সেটাই প্রথম করল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ঢাকায় বাংলাদেশ দল শুধু নাজমুল হোসেনকে দলে রেখে একগাদা স্পিনার নিয়ে ম্যাচ খেলতে নামে। পরের দুই ম্যাচেই এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে বাংলাদেশ। এ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশের ওই তিনটি কীর্তি নজিরবিহীন হয়ে ছিল। চলতি বছরই প্রথমে ইংল্যান্ড, পরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুবাই ও শারজাহতে শুধু জুনায়েদ খানকে স্পেশালিস্ট পেসার হিসেবে দলে নিয়ে খেলতে নেমেছিল পাকিস্তান। আর এই এক পেসারের ম্যাচের সর্বশেষ নজিরটি আবার বাংলাদেশই গড়ল—গতকাল। এ প্রসঙ্গে একটি কথা অবশ্য স্মরণ করিয়ে দেয়া আবশ্যক। এর আগে অনেক দলই পেস বোলিং অলরাউন্ডার নিয়ে খেলতে নেমেছে; ফলে স্পেশালিস্ট বোলার তাদেরও একজন ছিল। কিন্তু সেরকম ম্যাচগুলো এখানে হিসাবে নেয়া হয়নি। এ হিসেবে বাংলাদেশ কাল একটি রেকর্ড স্পর্শ করল বৈ কী! এক পেসারের ম্যাচ দল প্রতিপক্ষ সাল ভেন্যু পেসার বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে ২০০৯ ঢাকা নাজমুল হোসেন বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে ২০০৯ চট্টগ্রাম নাজমুল হোসেন বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে ২০০৯ চট্টগ্রাম নাজমুল হোসেন পাকিস্তান ইংল্যান্ড ২০১২ দুবাই জুনায়েদ খান পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়া ২০১২ শারজাহ জুনায়েদ খান বাংলাদেশ উইন্ডিজ ২০১২ ঢাকা মাশরাফি বিন মুর্তজা