দর্শকদের কষ্ট বাড়াল মুশফিকরা
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৫
সিরিজ জয়ের বিপুল প্রত্যাশায় দর্শকরা তখন গ্যালারি ঠাসা হয়ে বসা। কিন্তু খেলা শুরু হতে না হতেই দর্শকরা বিস্ময়ে বিহবল হয়ে দেখলো তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে স্কোরবোর্ডে ৭ রানে ৪ উইকেট নেই! আর যায় কোথায়, ফাঁকা হতে থাকলো গ্যালারি। প্রায় ২৬ হাজার আসন বিশিষ্ট মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল শুক্রবার সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অফিসিয়ালি জানায়, প্রায় ২৪ হাজার দর্শক উপস্থিত হয়েছে গ্যালারিতে। তবে চিত্রটি পাল্টে যায় বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং শুরুর পর। তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, নাঈম ইসলাম ও নাসির হোসেনের বিদায়ে গোটা স্টেডিয়ামে বিরাজ করে পিনপতন নিরবতা। অথচ, এই দর্শকরাই গত কয়েকদিন একটি টিকিটের জন্য হন্যে হয়ে ব্যাংকে লাইন দিয়েছে, ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের ধরেছে। শীতের রাতে দীর্ঘ লাইন দিয়ে পর্যন্ত ব্যাংকের সামনে বসেছিল দর্শকরা। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট যখন মিলল মনে হচ্ছে সোনার হরিণ পেয়ে গেছেন তারা। কাল সেই দর্শকদের হূদয় ভেঙ্গে দিয়ে বাংলাদেশ দল জঘন্যভাবে শুরু করলো।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২১১ রানে থামিয়ে দিয়ে সিরিজ জয়ের ভাল সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিল বাংলাদেশ। অথচ, ড্যারেন স্যামি ও কেমাররোচের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে স্বাগতিকদের চার উইকেট পড়ে যায় মাত্র ৭ রানে। ১৩ রানে পড়ে পঞ্চম উইকেট। এমন দৃশ্য দেখতে কার ভালো লাগে। একটি টিকিটের জন্য রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করার পর কি বাংলাদেশ দলের কাছ থেকে এমন কীর্তি কিভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
বাংলাদেশের খেলা পুরোটা দেখার আগেই মাঠ ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন অনেক দর্শক। তাই মধ্যাহ্ন বিরতির সময় দেখা গেল যে, টিকিটের জন্য হাহাকার হয়েছে, সেখানে কাল অনেক আসন খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়। দর্শকদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। গাঁটের পয়সা খরচ করে শীতের রাতে কারই বা ভাল লাগবে দলের দুর্দশা দেখার। অবশ্য সিংহভাগ দর্শক এরপরও ক্রিকেটারদের সংগ্রামী লড়াইয়ে সামিল ছিল মিরপুর স্টেডিয়ামে কুয়াশায় ভিজেও।