রাজপথ এখন উত্তপ্ত
শামছুদ্দীন আহমেদ ও আনোয়ার আলদীন
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৭
বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে এখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে কাল রবিবার সারাদেশে রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট। ঢাকাসহ সারাদেশের প্রধান প্রধান সড়ক অবরোধ করার লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপিসহ জোট শরিকরা। এর মধ্য দিয়ে কাল ঢাকাকে কার্যত সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে চায় ১৮ দল। এই কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হলে তাত্ক্ষণিকভাবে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে বিএনপি হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীসহ সকল সামপ্রদায়িক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ও একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে ১৮ ডিসেম্বর দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা এই হরতালে সমর্থন দিয়েছে। এছাড়া চলতি ডিসেম্বরেই একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিচারের রায় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে বিজয়ের মাসে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন, সৃষ্টি হয়েছে অজানা শঙ্কা ও উত্তেজনা। গত ২৮ নভেম্বর ১৮ দলের সমাবেশ থেকে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া।
বিএনপিসহ ১৮ দল সূত্রে জানা গেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালসহ ১৩ দফা দাবিতে কাল রবিবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা রাজধানী ঢাকা থেকে সারাদেশ বিচ্ছিন্ন রাখতে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এদিন রাজধানীতে প্রবেশ করার সবক’টি পয়েন্টে অবস্থান নেবেন ১৮ দলের নেতা-কর্মী। একইসঙ্গে দেশের সব মহানগর, জেলা ও উপজেলার রাজপথেও অবস্থান করবেন তারা। প্রতিটি জেলা ও মহানগরকে সংশ্লিষ্ট সব উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে ১৮ দল। কাল রাজপথে কোনো যানবাহন বের না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঢাকার প্রবেশ পথগুলোতে এবং সারাদেশে জেলা সদর ও মহানগরগুলোতে অবরোধ কর্মসূচিতে কারা কোথায় নেতৃত্ব দেবেন, তাও ইতিমধ্যে বিএনপিসহ ১৮ দল দলীয় জোট থেকে দায়িত্ব বণ্টন করে দেয়া হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে ১৮ দলের ১৮টি টিম সারাদেশে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সফর করে এসেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, রাজপথ অবরোধ কর্মসূচিতে বাধা দিলেই সেখান থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বিজয় দিবসের আগে আর কোনো কঠোর কর্মসূচি দিতে চাচ্ছে না বিরোধী দল। তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে।
অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে ঢাকাসহ দেশব্যাপী ১৮ দলের উল্লেখযোগ্য নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার ও বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশারকে। ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করতে সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে। দু’জন সাবেক ওয়ার্ড কমিশনারসহ ঢাকায় ইতিমধ্যে ১৮ দলের ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে পুলিশ হয়রানি করছে। খোকা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে এর সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে সরকারকে।
এদিকে, একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচারের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত প্রায় এক মাস ধরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম, বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ দলটির নয়জন শীর্ষ নেতার এবং বিএনপির দুই নেতার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তাদের মধ্যে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার যুক্তি-তর্ক শেষ, রায় অপেক্ষমাণ। আটক শীর্ষ নেতাদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াত গত ৪ ডিসেম্বর সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল করে। একই দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে গত এক মাস ধরে দেশে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে তারা। আইনমন্ত্রীর গাড়িও তাদের হামলার শিকার হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অবরোধের সময় দেশের কোনো অঞ্চল থেকে কোনো প্রকারের যানবাহন ঢাকায় আসতে দেয়া হবে না। রাজধানী থেকেও বাস, লঞ্চ, ট্রেনসহ অন্যান্য যানবাহন দেশের অন্য কোনো অঞ্চলে যেতে দেয়া হবে না। রাজপথে নেতা-কর্মীরা ৮ ঘন্টা অবস্থান করবে। শান্তিপূর্ণ এই অবরোধে পুলিশ কিংবা ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বাধা দিলে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায়ভার নিতে হবে।
বিজয়ের মাসে এই কর্মসূচি দেয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জনাব ফখরুল বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবিতে বিজয়ের মাসে এই কর্মসূচির গুরুত্ব বেশি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগও ডিসেম্বরে হরতাল-অবরোধ করেছে।
বিএনপির প্রস্তুতি
অবরোধ কর্মসূচি সর্বাত্মক সফল করার লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৮ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার রাতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি, ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলা কমিটি ছাড়াও ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি। এসব বৈঠকে তিনি যে কোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি সফল করার নির্দেশনা দিয়েছেন। জানা গেছে, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতাদের কর্মসূচি সফল করার বিষয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করার কথা রয়েছে। ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও ১৮ দলের প্রধান সমন্বয়ক সাদেক হোসেন খোকা জানান, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ১৮ দলীয় জোটের ঢাকা মহানগরের নেতাদের নিয়ে বুধবার বৈঠক হয়েছে। তারা আশা করছেন, সফলভাবে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে পারবেন।
বিএনপির দফতর সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সারা দেশে রাজপথ অবরোধ সফল করতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ আশেপাশের জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তরিকুল ইসলামকে খুলনা ও যশোর, গয়েশ্বর রায়কে কুমিল্লা ও নোয়াখালী, মির্জা আব্বাসকে বরিশাল ও পটুয়াখালী, হান্নান শাহকে কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা, মাহবুবুর রহমানকে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়, আবদুল মঈন খানকে সিলেট জেলা ও মহানগর, নজরুল ইসলাম খানকে রাজশাহী জেলা ও মহানগর, রফিকুল ইসলাম মিয়াকে মুন্সীগঞ্জ, দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানকে রংপুর ও কুড়িগ্রাম, আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে ফরিদপুর ও মাদারীপুর, সেলিমা রহমানকে মানিকগঞ্জ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান পটলকে কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা, শামসুজ্জামান দুদুকে খুলনা ও সাতক্ষীরা, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা এবং যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানকে ঢাকা মহানগর ও জেলায় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকারের আমলে ১৩টি হরতাল কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এরমধ্যে ইলিয়াস আলী নিখোঁজ ইস্যুতে ডাকা হরতালে রাজপথের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রয়াস দেখা গেলেও পরবর্তীতে আন্দোলনে এক ধরনের বিরতি নেয় বিএনপিসহ ১৮ দল।
জামায়াতের প্রস্তুতি
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনের ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করে তারা প্রস্তুতি নিয়েছে। গত মঙ্গলবার ‘সফল’ হরতাল পালনের পর জামায়াত এখন সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামার কথা ভাবছে। আগামীকালের অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে দেশের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। যেকোন উপায়ে এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রস্তুতির বিষয়ে জামায়াতের ঢাকা মহানগরে সহকারী সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, কর্মসূচি দেয়া হয় প্রস্তুতি নিয়েই। সে হিসেবে বলা যায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াত। পাশাপাশি ১৮ দলীয় জোটের সঙ্গে আলোচনা করে বাকি কার্যক্রমও শেষ হবে। আশা করছি রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে পারবো। আর বাধা দিলে আরো কঠোর কর্মসূচির কথা তো জোটনেত্রী বলেছেনই। জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর এক নেতা বলেন, রাজধানীর আমিনবাজার, উত্তরা, আজমপুর, যাত্রাবাড়ী ও সদরঘাটে জোটের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেবেন। এসময় কোনো যানবাহন ঢাকা থেকে ছাড়তে দেয়া হবে না।
১৮ ডিসেম্বর সিপিবি-বাসদের হরতাল
জামায়াতে ইসলামীসহ সকল সামপ্রদায়িক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা, একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার কাজ দ্রুত শেষ এবং জনজীবনে বিরাজমান নানা সমস্যা দূর করার দাবিতে আগামী ১৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা এই হরতালে সমর্থন দিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদিক সম্মেলনে এই হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান এসময় উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি নিষিদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত শেষ করা ছাড়াও তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- বিদ্যুত্ ও জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ, তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত মালিকসহ দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার, সকল পোশাক কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন চালু ও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান। এসব দাবিতে ১৫ ডিসেম্বর বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বাম দলগুলো।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মহান বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে জামায়াত হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচির নামে দেশে সশস্ত্র ও সন্ত্রাসী তত্পরতা চালাচ্ছে। জামায়াত দাবি তুলেছে- যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিতে হবে এবং তাদের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত ঘোষণা করতে হবে। এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।
সিপিবি সভাপতি বলেন, জামায়াতের সমস্ত কার্যকলাপ নিষিদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবিতে ১৮ ডিসেম্বর আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করব। মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ঘরে বসে থাকবেন না, আত্মগ্লানি মোচনের সময় এসেছে। এর আগে রাজাকাররা হরতাল করেছে, এবার আমরা মুক্তিযোদ্ধারা হরতাল পালন করব।
তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ চুক্তি অনুসারে এদেশে জামায়াতের রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া ১৯৭২ এর সংবিধানের ১২ এবং ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুসারেও তাদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ এদেশে অবৈধ। জামায়াতকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যায়িত করে সেলিম বলেন, তারা (জামায়াত) মূলধারার রাজনৈতিক দলের অধিকার ভোগ করতে পারে না। নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণ না করেও তারা কীভাবে নিবন্ধন পায় তা আমাদের বোধগম্য নয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হায়দার আকবর খান রনো, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মবিনুল হায়দার চৌধুরী ও বজলুর রশিদ ফিরোজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বি-দলীয় মেরুকরণের বাইরে থাকা দুই বামপন্থি দল সিপিবি ও বাসদ জোটবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দেয় গত ৩ জুলাই।