রেমিট্যান্স :ব্যয় হয় না উত্পাদনশীল খাতে

প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরিত অর্থ বা রেমিট্যান্স উত্পাদনশীলতায় ব্যয় হয় না। মূল্যবান এসব বৈদেশিক মুদ্রার অধিকাংশই প্রবাসীর পরিবার খরচ করছে দৈনন্দিন কাজে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ৮১ শতাংশ খরচ হয় পরিবারের ভরণ-পোষণসহ আনুষঙ্গিক কাজে। মাত্র ৭ শতাংশ অর্থ প্রবাসীর পরিবার ব্যাংকে জমা রাখেন। এছাড়া জমি বা অন্যান্য সম্পদ কিনতে ব্যয় হয় ৫ শতাংশের একটু বেশি অর্থ। সরাসরি উত্পাদনশীল কাজে ব্যবহার না হলেও রেমিট্যান্স সরাসরি যোগ হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয়ের পরই রেমিট্যান্সের অবস্থান। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বছরে আয় করে ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর রেমিট্যান্স বাবদ বাংলাদেশ প্রতি বছর পাচ্ছে ১২ বিলিয়ন ডলার। উন্নয়ন অন্বেষণের চেয়ারম্যান রাশেদ আল মাহমুদ তীতুমির বলেছেন, রেমিট্যান্স ভোগবিলাসে ব্যবহার হচ্ছে। এটিরও একটি ইতিবাচক দিক আছে। কারণ ভোগের সাথে চাহিদা বাড়ছে, আর এর সাথে উত্পাদনও বাড়ছে। তবে রেমিট্যান্সকে পরিকল্পিত উপায়ে ব্যবহার করার জন্য কিছু ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। রেমিট্যান্স উত্পাদনশীলতায় ব্যয় না হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে আসলে সমস্যায় পড়ছেন। অনেকে দেশে খালি হাতে ফিরে এসে বেকার জীবনযাপন করছেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্সের অর্থ সরাসরি উত্পাদনশীলতায় ব্যয় হলে প্রবাসী দেশে ফিরে এসে তার সুফল পেতে পারেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) রিপোর্ট মতে, সাধারণত ঈদসহ বিভিন্ন বড় ধর্মীয় উত্সব উদযাপন, ধার শোধ করা, চিকিত্সা, সন্তানদের চিকিত্সা, বাড়ি নির্মাণ এবং মেরামত ও ভরণ-পোষণে অনেক অর্থ ব্যয় করছে প্রবাসীর পরিবার। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স মানব সূচক উন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা একেবারেই কোন উন্নয়নশীল কাজে আসছে না। তবে রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ প্রবাসী পরিবারের অভিমত, রেমিট্যান্সে তারা শিক্ষা এবং চিকিত্সা ব্যয় নির্বাহ করতে সক্ষম। আইওএম প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবারের ওপর যে গবেষণা চালিয়েছে তাতে অনেকেই বলেছেন, পরিবারের সদস্য বিদেশ যাবার আগে তারা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের খরচ ধার করে মিটিয়েছেন। রাশেদ আল মাহমুদ তীতুমিরের মতে, রেমিট্যান্সকে আমরা বহুবিধভাবে ব্যবহার করতে পারি। পাঠানো অর্থের কিছুটা করে জমিয়ে রাখলেও বিদেশ ফেরত বাংলাদেশি ওই কর্মীর জন্য একটি ইকুইটি দাঁড়িয়ে যায়। দেশে এসে ওই প্রবাসী বেকার না থেকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে যেতে পারেন। এছাড়া যেসব দেশে প্রবাসীদের আয় বেশি সেসব দেশ থেকে রেমিট্যান্স বেশি আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের বাংলাদেশি প্রবাসীরা যে অর্থ দেশে পাঠায় সেটা দিয়ে ব্যাংকঋণের মাধ্যমে ছোটখাটো কারখানাও স্থাপন করা যাবে। ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশি প্রবাসীরা মোট ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৮০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছে।