জাপানে ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার

জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গতকাল শুক্রবার ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয় এবং ২০১১ সালে ফুকুশিমা বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মিয়াগি উপকূলীয় এলাকায় ১ মিটার উঁচু সুনামি আঘাত হানে। এ এলাকায় সুনামি-সতর্কতা জারি করে পরে আবার সেটি প্রত্যাহার করা হয়। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানা যায়নি। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। টোকিওতে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর মিয়াগির ইশিনোমাকি শহরে সুনামি আঘাত হানে। এতে বন্ধ হয়ে যায় মিয়াগির সব রেল চলাচল এবং সেন্দাই বিমান বন্দর, ব্যাহত হয় যোগাযোগ ব্যবস্থা। ২০১১ সালের মার্চে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিপর্যস্ত হয়েছিল এই এলাকা। বন্যায় ভেসে গিয়েছিল সেন্দাই বিমান বন্দর। তবে এবারের ভূমিকম্পে গতবারের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। ভূমিকম্পে তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানায়, প্রশান্ত মহাসাগরে বড় ধরনের কোনো সুনামির আশঙ্কা নেই। তবে উপকূলের স্থানীয় লোকবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এ রকম সুনামির আশঙ্কার কথা জানায়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপকেন্দ্র জানায়, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল কামিয়াশি থেকে ২৫৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। এর উত্পত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৬ কিলোমিটার গভীরে। বিকাল ৫টা ১৮ মিনিটে (স্থানীয় সময়) ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর পরপরই ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূকম্পন অনুভূত হয়। এরপর ৫টা ৩১ মিনিটে উপকূলীয় শহর ওফুনাতোতে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মিয়াগি প্রদেশে সঙ্গে সঙ্গে জারি করা হয় সুনামি সতর্কতা। ৫০ সেন্টিমিটার থেকে ২ মিটার পর্যন্ত সুনামি হওয়ার আশঙ্কা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ উচ্চতার সুনামিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কম। ২০১১ সালের মার্চে ১০-১১ মিটার উঁচু সুনামি আঘাত হানার কারণে ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছিল ব্যাপক। ২০১১ সালে মিয়াগি প্রদেশে ভূমিকম্প ও সুনামিতে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ নিহত হয়। ভূমিকম্পে ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হয়; যা ১৯৮৬ সালের চেরনোবিলের পরে বিশ্বের সবচে বড় পারমাণবিক বিপর্যয়। এবার ১ মিটার উচ্চতার সুনামি আঘাত হানে। তারপরও কয়েকটি এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র এলাকা থেকে কর্মীদের সরে যেতে বলা হয়। পরমাণু স্থাপনায় কোনোরকম সমস্যার খবর এখনো পাওয়া যায়নি।