ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে গোলাগুলি
পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪৩
একের পর এক বোমার বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ ও গুলি ছুঁড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পটুয়াখালী সরকারি কলেজে একই সংগঠনের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির জের ধরে রাতে পলিটেকনিক ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ কলেজ ও পলিটেকনিক ক্যাম্পাস থেকে ১৫ ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পটুয়াখালী পলিটেকনিকের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সকালে প্রশাসনিক একাডেমির জরুরি সভায় আগামী ৭ দিনের জন্য পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্রাবাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গতকাল বিকাল ৪টার মধ্যে সকলকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করতে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে অধ্যক্ষ জানান।
পুলিশ ও অন্যান্য সূত্র জানায়, পটুয়াখালী সরকারি কলেজে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা রেজা ও সুজন গ্রুপের মধ্যে বিরোধ বাধে। সুজন গ্রুপের ছাত্ররা রেজা গ্রুপের ৪ জনকে মারধর করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কয়েকদফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করলে পরিস্থিতি সাময়িক নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনার জের ধরে পলিটেকনিক ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। রাত ১২টার দিকে একটি গ্রুপ সেখানে টায়ার জ্বালিয়ে কম্পিউটার ল্যাবে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায়। প্রতিপক্ষ তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে শুরু হয় বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। পুলিশ বাধ্য হয়ে ১০৬ রাউন্ড পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় সদর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম, এসআই জাকিরসহ ৫ জন আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।