রাজশাহী-পিরোজপুরে ‘শিবিরের’ হামলায় ৯ পুলিশ আহত
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪৮
রাজধানীর মিরপুর থানার সামনে গতকাল শুক্রবার ‘শিবির কর্মীরা’ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এতে কোন পুলিশ সদস্য আহত না হলেও সুমন নামে একজন পরিবহন শ্রমিক আহত হয়েছেন। পরে শিবির কর্মীরা থানার সামনের রাস্তায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় মিরপুর থানার ওসি সালাউদ্দিনকে বহন করা গাড়ি লক্ষ্য করে শিবির কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শিবির কর্মীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ হামলার কথা স্বীকার করলেও হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা জামায়াত-শিবিরের কর্মী। তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আহত পরিবহন শ্রমিক সুমন বলেন, আমি মিরপুর-সদরঘাট রুটে চলাচলকারী বিহঙ্গ পরিবহনের লাইনম্যান। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমি মিরপুর থানার সামনের রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছিলাম। থানার উল্টোপাশে স্টেডিয়াম এলাকায় পুলিশ ছিল। পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে এক যুবক একটি বোমা ছুঁড়ে মারে। তবে সেটি আমার ওপর পড়ে।
রাজশাহী-পিরোজপুরে ‘শিবিরের’ হামলা :রাজশাহী অফিস জানায়, সন্ত্রাসী হামলায় গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মতিহার জোনের সহকারী কমিশনার আবুল হাসনাত ও কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের বাংলাদেশ বেতারের সমপ্রচার কেন্দ্র এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আরএমপির কমিশনার এসএম মনির-উজ জামান বলেন, হামলার ধরন দেখে অনুমান করা হচ্ছে ‘জামায়াত-শিবিরের’ নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। সহকর্মীর কাছে অস্ত্র হস্তান্তর করে খালি হাতে ব্যারাকে ফেরার পথে পাশের জঙ্গলের ভেতর থেকে বের হয়ে সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালায়। কনস্টেবল শরীফুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে গতকাল শুক্রবার ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এই হামলায় জড়িত সন্দেহে কাজলা ও বিনোদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হামলাকারী সন্দেহে ৩৭ জনকে আটক করেছে। এদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীও রয়েছে। তাদেরকে মতিহার থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পিরোজপুর অফিস জানায়, সাঈদী সমর্থকদের হামলায় গতকাল শুক্রবার পিরোজপুরে তিন অফিসারসহ সাত পুলিশ আহত হয়েছেন। মারমুখী জামায়াত-শিবির কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে এ সময় সাঈদী ফাউন্ডেশন এলাকায় পুলিশ ২৩ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়েছে। পরে শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড থেকে তিনজন পথচারীকে আটক করেছে।
জুমার নামাজের পর সাঈদী ফাউন্ডেশন মসজিদ ও মুসলিম এইড হাসপাতাল এলাকা থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে জামায়াত কর্মীরা একটি মিছিল বের করে পুলিশের উপর অতর্কিতে হামলা করে। ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার এম.এন মোরশেদ বলেন, আগে থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। সাঈদী ফাউন্ডেশন এলাকায় যখন মারমুখী জামায়াত কর্মীরা পুলিশের ওপরে আকস্মিক হামলা চালায় তখন বাধ্য হয়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে ।