বিজয়ের ডায়েরি

কিছুদিন পর তাদের মৃতদেহ পাওয়া যায়

বিনোদন প্রতিদিন প্রতিবছর বিজয়ের এই মাসে তারকাদের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগল্প শুনিয়ে আসছে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম নেই। তবে এ বছরের বিজয়ের ডায়েরিতে থাকছে স্মৃতিকথনসহ তারকাদের বলা দেশ নিয়ে সম্ভাবনার কথা। আজ লিখেছেন প্রখ্যাত পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান আমার বয়স তখন ১১ বছর। ওইভাবে মুক্তিযুদ্ধকে উপলব্ধি করার মতো বয়স হয়নি। তারপরও দেশে যুদ্ধ চলছে—এটা কিছুটা হলেও টের পেতাম। কেননা, চারপাশে তখন শুধু এই যুদ্ধেরই আলোচনা। তখন আমরা বগুড়ায় থাকি। বগুড়া শহরেই থাকতাম। হঠাত্ একদিন আর্মিরা শহরে আক্রমণ করল। আর্মিরা আক্রমণ করায় আমরা সপরিবারে বগুড়া শহর থেকে অনেক ভেতরে আমাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে উঠি। সেখানে আর্মিদের প্রভাব ততটা না থাকায়, বেশ কিছুদিন ছিলাম। আত্মীয়ের বাড়িতে যেমনটা হয়, প্রতিদিনই সকাল-বিকাল আড্ডা দিই। এ রকমই একদিন বিকেলে বাড়ি থেকে একটু দূরে করতোয়া নদী পার হয়ে অন্য একটি এলাকায় গিয়ে আড্ডা দিচ্ছি। কী মনে করে যেন সেই আড্ডা থেকে শুধু আমি বের হয়ে আসি এবং হেঁটে একটু দূর এগিয়ে যাই। ওইখানে গিয়ে হঠাত্ দেখি দলবদ্ধভাবে আর্মি আসছে। আমি দেখামাত্রই দৌড়ে এলাম যেখানে আমরা আড্ডা দিচ্ছিলাম। সেখানে এসে সবাইকে বলি এবং যে যত দ্রুত সম্ভব ওখান থেকে সরে যাই। আমরা ওখান থেকে সরে গেলেও কিছু লোক হয়তোবা শুনতে পায়নি অথবা আমার এই কথাটিকে গুরুত্ব দেয়নি। তারা সেখানেই ছিল, আর আর্মিরা এসে যাকে পেয়েছে তাকেই ধরে নিয়ে গেছে। আমরা দৌড়ে বাড়ি চলে আসি। বাড়িতে এসে সবাইকে ঘটনাটি বলি। তারপর থেকে আর আগের মতো আড্ডা দেওয়া হয় না। অনেক ভয়ে ভয়ে সময় কাটাচ্ছিলাম। আমাদের আশপাশের অনেক আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছেন। ওই আড্ডাস্থল থেকে আর্মিরা যেসকল লোকজনদের ধরে নিয়ে যায় কিছুদিন পর তাদের মৃতদেহ পাওয়া যায়। সেইদিন আমি আরও বেশি ভয় পেয়েছি। বারবারই মনে হতো, যদি ওইদিন আর্মিদের না দেখতাম অথবা সেখানে থেকে যেতাম তাহলে হয়তো আমাকেও লাশ হতে হতো।