কী করে এলো
সিগারেটের অন্য ব্যবহার!
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৫৩
মানবদেহের জন্য সিগারেটের একটি উপকারী গুণ কেউ বলতে পারবেন কি না সন্দেহ। তবে সিগারেটের ফেলে দেওয়া অংশ বা ফিল্টারকে নিজেদের জন্য দারুণ উপকারী এক ভূমিকাতেই বসাতে পেরেছে শহরে বাস করা একদল পাখি। বিভিন্ন ধরনের কীট-পতঙ্গ থেকে নিজেদের বাসাকে রক্ষা করতে আর শীতের সময় বাসস্থানকে উষ্ণ রাখতে পাখিদের এই ভূমিকা চোখে পড়েছে মেক্সিকো সিটিতে। আর এ বিষয় নিয়ে সেখানে পরিচালিত এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে মজাদার আরও কিছু তথ্যও। দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের পাখির আচরণ নিয়ে গবেষণা করে আসা বিজ্ঞানীরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেছেন যে, মেক্সিকো সিটিতে বহুদিন থেকে বাসা বানিয়ে বাস করে আসছে এমন অধিকাংশ চড়ুই পাখির বাসাতেই গড়ে দশটি করে সিগারেটের ফেলে দেওয়া অংশ রয়েছে। মূলত সিগারেটের ফেলে দেওয়া অংশে থেকে যাওয়া বিভিন্ন রাসায়নিক ও নিকোটিন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গকে দূরে রাখতে সহায়তা করে বলেই পাখিরা তাদের বাসা নির্মাণের একটি অনুষঙ্গ হিসেবে বেছে নিয়েছে সিগারেটের এই ফেলে দেওয়া অংশকে। এ ছাড়া কোনো কোনো বিজ্ঞানী মনে করেন, কীটপতঙ্গ তাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের আবাসস্থলকে শীতের সময় উষ্ণ রাখতেও এমনটি করে থাকতে পারে এই শহুরে পাখিরা। মজার বিষয় হলো, একসময় যেখানে পাখিরা তাদের বাসাকে পতঙ্গের আক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে এমন গাছের ডাল বা পাতা নিজেদের নীড়ে এনে রাখত সেখানে আধুনিক পাখিদের এই নতুন আবিষ্কার সত্যিকার অর্থেই ভীষণ চমকে যাওয়ার মতো। বিজ্ঞানীদের মতে কোনো একসময় স্রেফ বাসা বানানোর খড়কুটোর মতো করেই হয়তো পাখিরা সিগারেটের ফেলে দেওয়া অংশের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। আর এভাবেই কোনো এক সময় এই উপকরণটির কীটপতঙ্গ দূর করার ক্ষমতার কথা জানতে পারে পাখিরা। এমনকি কোনো কোনো পাখির নীড়ে সর্বোচ্চ ৪৮টি পর্যন্ত সিগারেট ফিল্টারেরও দেখা পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এদিকে ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব মেক্সিকোর ড. কনস্টান্টিনো ম্যাসিয়াস গার্সিয়া ও তার দলের এই আবিষ্কারের কথা গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে বায়োলোজির রয়েল সোসাইটি জার্নালেও।