ফসলের শত্রু : সাদা মাছি
খোন্দকার মোঃ মেসবাহুল ইসলাম
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৫৫
পূর্ণবয়স্ক পোকাটি দেখতে ছোট একটি সাদা মাছির মত। মাত্র ১ মিলিমিটার লম্বা। এরা পাতার নিচের অংশে দলবদ্ধভাবে থাকে। এদের নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। যখনই সেপ্র করা হয় কিংবা পাতা নড়াচাড়ার কারণে এরা কোনো বিপদের আভাস পেলেই খুব দ্রুত উড়ে গিয়ে পাতা বা গাছ থেকেই সরে পড়ে। অবশ্য অপরিণত পোকা দেখতে স্কেল এর মত এবং এরা উড়তে পারে না। সাদা মাছি গাছের পাতার কোষের মধ্যকার রস চুষে খায়। একটি ফসল মৌসুমে একজোড়া সাদা মাছি ১৫ বংশধর পর্যন্ত বাড়তে পারে। একটি স্ত্রী সাদা মাছি পাতার নিচের দিকে কয়েকটি ব্যাচে ১৬০ টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। প্রথমে গাছের নিচের পাতায় ডিম পাড়ে এরপর উপরের দিকের নতুন পাতায় ডিম পাড়ার জন্য উড়ে যায়। পাতার নিচের দিকে সাদা মাছি যে ডিম পাড়ে তা সোজাভাবে পাতার সাথে যুক্ত থাকে। তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে ডিম ফুটতে প্রায় ৪ থেকে ১৬ দিন সময় লাগে। ডিম দেখতে ডিম্বাকার বা উপবৃত্তাকার। ডিম থেকে যে চ্যাপ্টা উপবৃত্তাকার নিমফ বের হয় সেটির পূর্ণতা পেতেও প্রায় ১২ থেকে ১৮ দিন লাগে। পূর্ণাঙ্গ নিমফ ১ থেকে ১.৫ মিলিমিটার লম্বা এবং সারা শরীরে সাদা পাউডারের মত পদার্থ দিয়ে ঢাকা থাকে। তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে পুরুষ পোকা ৯ থেকে ১৮ দিন এবং স্ত্রী পোকা ১৩ থেকে ৩৬ দিন পর্যন্ত বাঁচে। বাংলাদেশে জুন-অক্টোবর মাস পর্যন্ত এরা বিভিন্ন গাছের যথেষ্ট ক্ষতি করে। তবে তাপমাত্রা অনুকূলে থাকলে নভেম্বর পর্যন্ত এদের দেখা যায়। শীতকালে সাদা মাছি খুব কম দেখা গেলেও বংশবিস্তার একেবারে থেমে যায় না। সাদা মাছি বিভিন্ন গাছ যেমন- পেয়ারা, ডালিম, কুল, লেবু, বাতাবি লেবু, গোলাপ, তুলা, পাট, মুগ, মাসকলাই, অড়হড়, সয়াবিন, মরিচ, বরবটি, বেগুন, টমেটো ও কুমড়া জাতীয় সবজিতে আক্রমণ করে থাকে। অপূর্ণাঙ্গ অর্থাত্ নিমফ অবস্থায় সপ্তাহে একবার করে ম্যালাথিয়ন বা ডায়াজিনন জাতীয় কীটনাশক সেপ্র করে এদের নিয়ন্ত্রণ করা বা মেরে ফেলা যায়। অথবা ১ গ্রাম সাবান গুঁড়া ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ওই মিশ্রণ সেপ্র করেও এদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পূর্ণাঙ্গ পোকা বা সাদা মাছি নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র পানি খুব জোরে এদের গায়ে সেপ্র করেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া ডাইমেথোয়েট জাতীয় কীটনাশক (পারফেকথিয়ন/ পলিগর/ রক্সিয়ন ইত্যাদি) বা ইমিডাক্লোরপিড জাতীয় (গাউচো ৭০ ডব্লিউএস/ এডমায়ার ২০০ এসএল/ইমিটাফ ২০০ এসএল/ এম্পায়ার ২০ এসএল) প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলিলিটার মিশিয়ে সেপ্র করে এ পোকার বিস্তার রোধ করা যায়।