‘পাঞ্জেরি’ কবিতায় কবি পাঞ্জেরি শব্দটি কী অর্থে ব্যবহার করেছেন

প্রিয় শিক্ষার্থী, সামনেই তোমাদের নির্বাচনি পরীক্ষা। আজ তোমাদের জন্য অধ্যায়ভিত্তিক (পাঞ্জেরি) কবিতার উপর বিস্তারিত আলোচনা করা হল। চর্চা করলে নিশ্চয় উপকৃত হবে। পাঞ্জেরি ফররুখ আহমদ জন্ম:১০ জুন, ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ । জন্মস্থান: মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝআইল গ্রাম। শিক্ষাজীবন: তিনি খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, কলকাতার রিপন কলেজ খেকে আই.এ পাস ও সেন্ট পল কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স করেন। পেশাজীবন : আই.জি.(প্রিজন ), সিভিল সাপ্লাই অফিস, মোহাম্মদী পত্রিকা প্রভৃতি পেশায় জড়িত ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দীর্ঘকাল ঢাকা বেতারে ‘ স্টাফ রাইটার’ হিসাবে কাজ করেছেন। সাহিত্যকর্ম : কাব্যগ্রন্থ- ‘সাত সাগরের মাঝি’, ‘সিরাজাম মুনীরা’, কাব্যনাট্য- ‘নৌফেল ও হাতেম’, সনেট- ‘মুহূর্তের কবিতা’, কাহিনী কাব্য- ‘হাতেম তায়ী’। এছাড়াও তিনি বেশ কিছু ছড়া ও কবিতা লিখেছেন। স্বীকৃতি: সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও ইউনেস্কো পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট পুরস্কার প্রাইড অব পারফরম্যান্স এবং মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন। মৃত্যু: ১৯ অক্টোবর,১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দ, ঢাকায়। উত্স ও পরিচিতি: ‘পাঞ্জেরি’ কবিতাটি ফররুখ আহমদ-এর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ থেকে সংকলিত হয়েছে। এটি রূপক কবিতা। এই কবিতায় জাতির কর্ণধারকে ‘পাঞ্জেরি’ প্রতীকে তুলে ধরেছেন। কবিতাটিতে সমুদ্রযাত্রার প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং তা থেকে উত্তরণের আকাঙ্ক্ষার ভেতরে কবি জাতীয় জীবনে বিরাজমান সংকট থেকে উত্তরণে জাতীয় নেতৃত্বের সচেতনতা প্রত্যাশা করেছেন। মূলত রূপকের আড়ালে কবি উক্ত ভাববস্তুই ব্যক্ত করেছেন। কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। মূল পর্ব ৬ মাত্রার । প্রতিটি চরণের মাত্রা বিন্যাস:৬+৬+২। সৃজনশীল প্রশ্ন নিচের উদ্দীপকটি মনোযোগ দিয়ে পড় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও : বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। আর এর কারণ হলো সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাব। আশির দশকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মাথাপিছু আয় প্রায় একই ছিল। কিন্তু সুযোগ্য নেতৃত্বের প্রভাবে তাদের অবস্থার উন্নতি হলেও আমরা আগের অবস্থানেই আছি। আমাদের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন একজন যোগ্য নেতার। বস্তুত, ‘অযোগ্য নেতৃত্ব জাতির উন্নয়নের পথে অন্তরায়’। ক ) রূপক কবিতা কী ? ১ খ) ‘পাঞ্জেরি’ কবিতায় কবি পাঞ্জেরি শব্দটি কী অর্থে ব্যবহার করেছেন ? ২ গ) যোগ্য নেতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে উদ্দীপকের বক্তব্য কি তুমি সমর্থন কর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও। ৩ ঘ) “অযোগ্য নেতৃত্ব জাতির উন্নয়নের পথে অন্তরায়” - উক্তিটির যথার্থতা ‘পাঞ্জেরি’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪ ঘ নং প্রশ্নের উত্তর দেয়া হলো : উত্তর: চল্লিশের দশকের বাংলা কবিতাকে এক বলিষ্ঠ ও অভিন্ন রূপ দিয়েছেন কবি ফররুখ আহমদ। ‘পাঞ্জেরি’ কবিতায় কবি জনগণের দু:সহ সংকটকালের চিত্র তুলে ধরেছেন রূপকের আড়ালে। এই সংকটকালে কবি যোগ্য নেতাদের হাল ধরতে বলেছেন। কারণ, নেতৃত্বের যথাযথ সিদ্ধান্তে একটি জাতি যেমন মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে পারে, তেমনি নেতৃত্বের ভুলে জাতীয় জীবনে নেমে আসে পরাধীনতার অন্ধকার। পৃথিবীর ইতিহাসে যতগুলো ব্যর্থ রাষ্ট্র রয়েছে তাদের ব্যর্থতার মূল কারণ নেতার ভুল সিদ্ধান্ত ও অপারগতা। আলোচ্য ‘পাঞ্জেরি’ কবিতা থেকে আমরা এ সত্যটি দেখতে পাই। কারণ, একদিন মুসলমান জাতির গৌরব ও ঐতিহ্য ছিল উজ্জ্বল স্বাধীনতার প্রতীক। কিন্তু যোগ্য নেতার অভাব ও নেতৃত্বের ভুলের জন্য তারা ঐতিহ্য হারা হয়ে পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ হয়েছে। ক্ষুত্পীড়িত মানুষ নীরবে আত্মবিশ্বাসের বক্রদৃষ্টি নিয়ে মুক্তির দিশারীর জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু সময়তো আর বেশি নেই। তাই কবি পাঞ্জেরিকে আহবান করছেন সকল ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে জেগে ওঠার জন্য। কেননা জনতার কাছে এ ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। তাদের ভোগান্তির দায় এড়ানো সম্ভব নয়। কারণ, জাতির ক্রান্তিকালে জবাবদিহি করেও কোন সুফল আনা যাবে না। অর্থাত্, অযোগ্য নেতৃত্ব জাতির জন্য পরাজয়ের গ্লানি ব্যতীত কোন মঙ্গল বয়ে আনে না। সে পরাজয় জাতীয় জীবনে উন্নয়নের অন্তরায় হয়ে কাজ করে। সুতরাং বলা যায় যে,“অযোগ্য নেতৃত্ব জাতির উন্নয়নের পথে অন্তরায়” উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।