আজ যেসব এলাকা হানাদারমুক্ত হয়
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫২
আজ ৯ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশের বিভিন্নস্থান শত্রুমুক্ত হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ঐ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন সংগঠন। খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
নেত্রকোনা
আজ ৯ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এদিনে দেশের বিভিন্ন স্থান হানাদারমুক্ত হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ঐসব এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন সংগঠন। আজ নেত্রকোনা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে নেত্রকোনা শহরের নাগড়া কৃষি ফার্মে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মুখ লড়াই হয়। এই যুদ্ধের মাধ্যমেই নেত্রকোনা পাক হানাদার মুক্ত হয়। পাক হানাদারদের সাথে সন্মুখ লড়াইয়ে তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তারা হলেন আবু খাঁ, আব্দুর রশিদ এবং আব্দুস সাত্তার। আহত হন মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিক আহমেদ।
১ ডিসেম্বর থেকে নেত্রকোনার বিভিন্ন থানা ধীরে ধীরে শত্রু মুক্ত হতে থাকে। ৬ ডিসেম্বর পাক হানাদাররা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাড়া খেয়ে নেত্রকোনা থেকে পালানোর পূর্বে শহরের ময়মনসিংহ সড়কের পাশে কৃষি ফার্মে এসে জমা হয়। নেত্রকোনা শহরকে শত্রু মুক্ত করার জন্য কোম্পানী কমান্ডার আনোয়ার মাষ্টারের নেতৃত্বে সহ-মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিক আহমেদ ও বর্তমান এমপি আশরাফ আলী খান খসরুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা চতুর্মুখী আক্রমণ চালায়। ৭ ও ৮ ডিসেম্বর থেকে মুক্তিযোদ্ধারা চোরাগুপ্তা আক্রমণ চালাতে থাকেন। পাক সেনারা কোণঠাসা হয়ে ৮ তারিখ ভোর রাতে নেত্রকোনা থেকে পালিয়ে যাবার জন্য নেত্রকোনার কৃষি ফার্মে এসে জড়ো হয়। নেত্রকোনা মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ন্যাপ, সিপিবিসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শহীদদের স্মৃতি সৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বিজয় র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
দাউদকান্দি (কুমিল্লা)
দাউদকান্দি মুক্ত দিবস। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে জামালকান্দি, গোয়ালমারী এবং বাতাকান্দি এলাকায় হয়েছিল প্রচণ্ড যুদ্ধ। দাউদকান্দি ডাকবাংলো ছিল পাকসেনাদের ধর্ষণ ও নির্যাতন কেন্দ্র। ৭ ডিসেম্বর রাতে সীমান্তবর্তী কুমিল্লা বিমান বন্দর এলাকায় অবস্থানরত পাকসেনাদের ঘাঁটির উপর মিত্রবাহিনী ও মুক্তি বাহিনী হামলা শুরু করে। ৮ ডিসেম্বর প্রথমত টমছম ব্রিজ এবং পরে টাউন হল এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাগণ স্বাধীন বাংলায় মুক্ত আকাশে পতাকা উড়ায়। মতলব এবং দাউদকান্দির মুক্তিযোদ্ধাগণ টার্গেট করেন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আবস্থানরত পাকসেনাদের দিকে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থানরত পাক সেনাদের উপর মিত্রবাহিনীর কাভারিং সেলের সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধাগণ প্রচণ্ড হামলা শুরু করলে পাক-সেনারা ইলিয়টগঞ্জ এবং শহীদনগর আয়ারল্যাস ক্যাম্প গুটিয়ে দাউদকান্দি। ডাকবাংলোতে জড়ো হয়ে লঞ্চ বোঝাই করে নদীপথে ঢাকায় পালিয়ে যায়। সারাদিন যুদ্ধশেষে সন্ধ্যার পূর্বক্ষণে হাজার হাজার মানুষ আনন্দ-উল্লাস করতে করতে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে দাউদকান্দি সদরে প্রবেশ করে। সন্ধ্যালগ্নে দাউদকান্দি সদরে মুক্তিযোদ্ধাগণ উড়ায় স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ পতাকা। দাউদকান্দি মুক্তদিবস উপলেক্ষ দাউদকান্দি সদরে রাসেল স্কয়ারে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে স্মৃতিচারণ সভার আয়োজন করা হচ্ছে।
কুমারখালি (কুষ্টিয়া)
একাত্তরের এইদিনে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলা পাক হানাদার মুক্ত হয়। ৭ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা সকালে শহরে প্রবেশ করে এবং কুণ্ডুপাড়ায় রাজাকারদের ক্যাম্প আক্রমণ করে। রাজাকার কমান্ডার ফিরোজ বাহিনীর সঙ্গে তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এ সময় পাকবাহিনী ও রাজাকাররা কুমারখালি শহর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে হত্যাযজ্ঞ ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ শুরু করে। ৭ ডিসেম্বরের যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা তোসাদ্দেক হোসেন ননী মিয়া শহীদ হন। এছাড়া তাদের হত্যাযজ্ঞের শিকার হন সামসুজ্জামান স্বপন, সাইফুদ্দিন বিশ্বাস, আব্দুল আজিজ মোল্লা, শাহাদত আলি, কাঞ্চন কুণ্ডু, আবু বক্কার সিদ্দিক, আহমেদ আলি বিশ্বাস, আব্দুল গনি খাঁ, সামসুদ্দিন খাঁ, আব্দুল মজিদ ও আশুতোষ বিশ্বাস মঙ্গল। এরপর ৯ ডিসেম্বর পুনরায় মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদেরকে সংগঠিত করে শহরের চারপাশ ঘিরে পাকবাহিনীর ক্যাম্প (বর্তমানে কুমারখালি উপজেলা পরিষদ) আক্রমণ করে। দীর্ঘসময় যুদ্ধের পর পাক বাহিনী টিকতে না পেরে পালিয়ে কুষ্টিয়ার পথে রওনা হয়। সেদিন থেকেই ৯ ডিসেম্বর কুমারখালি মুক্ত দিবস পালন করা হয়। দিবসটি পালন উপলক্ষে ১৪ দল, কুমারখালি পৌরসভা, কুমারখালি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতি, মুক্তিযোদ্ধা সাংগঠনিক কমান্ড, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যৌথভাবে কুমারখালি শহরে আজ বিকাল ৩টায় আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)
১৯৭১ সালের এদিনে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানা পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল। রক্ত ঝরা সেই উত্তাল দিনে দামাল ছেলেরা দেশকে শত্রুমুক্ত করার দীপ্ত শপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে। নিজ থানা শত্রুমুক্ত করতে একাত্তরের ১৬ অক্টোবর রাতে কাজী আলম, আলতাব ও হাবিবুল্লাহ খান ওই তিন কোম্পানির মুক্তিসেনারা ময়মনসিংহ, ভৈরবরেল লাইনে মাইজহাটি ব্রিজটি ডিনামাইট ছুঁড়ে বিধ্বস্তসহ টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করার পর ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের রামগোপালপুরের কটিয়াপুরি ব্রিজটি বিধ্বস্ত করে। ওই যুদ্ধে শহীদ হন বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক, আব্দুল মান্নান, আব্দুল খালেক, দুলাল, মতিউর রহমান, আবু তাহের ও হাতেম আলী। শহীদদের রক্তের বদলা নিতে মুক্তিযোদ্ধারা ৮ ডিসেম্বর পুনরায় সুসংগঠিত হয়ে থানা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। ভয়াবহ আক্রমণের মুখে পাকহানাদাররা ভীত হয়ে গভীর রাতে থানা থেকে পালিয়ে যায়। শত্রুমুক্ত হয় ঈশ্বরগঞ্জ। এদিনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কার্যালয়ে উড়েছিলো স্বাধীনতার পতাকা। দিবসটি পালন উপলক্ষে আজ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, তোপধ্বনি, শহীদদের কবর জিয়ারত, বিজয় র্যালি, কুইজ প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।
ফুলপুর (ময়মনসিংহ)
আজ ৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস। ’৭১ উত্তাল যুদ্ধের শুরু থেকে ফুলপুর মুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত হানাদার বাহিনী উপজেলার সর্বত্রই রাজাকার, আলবদর ও আল শামসের সহযোগিতায় শত শত নিরপরাধ নারী-পুরুষ ও শিশুকে নির্বিচারে হত্যা করে। তার মধ্যে রামসোনা গ্রামে ৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ ৫১ জন, পয়ারী চৌধুরী বাড়ির ১০ জন, বারইপাড়ার মা-পুত্র, ঢাকুয়ায় পিতা-পুত্র ও সরচাপুর বধ্যভূমির অগণিত লোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞ এবং মধ্যনগরের সম্মুখযুদ্ধ স্মৃতির আয়নায় ভাসলে আজও উপজেলাবাসির চোখে জল আসে। মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে ফুলপুর হানাদার মুক্ত হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত সরচাপুর বধ্যভূমিতে নিত্যদিন সন্ধ্যায় হানাদার বাহিনী নিরপরাধ অসংখ্য মানুষকে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড় করিয়ে বেয়নেট চার্জ করে হত্যার পর লাশ খরস্রোতা কংশ নদীতে ভাসিয়ে দিত। এই মধ্যনগরের যুদ্ধেই পতন ঘটে হানাদার বাহিনীর এবং ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে হানাদার বাহিনী পালিয়ে যায়। ৯ ডিসেম্বর ভোরের সোনালী সূর্য উদয়ের সাথে সাথে মুক্তির উল্লাসে স্বাধীনতার রক্ত পতাকা উড়ানো হয়। হানাদার মুক্ত হয় ফুলপুর। এই দিবস উপলক্ষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে আজ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ)
এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে গফরগাঁও মুক্ত করেন। গফরগাঁও হানাদার মুক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত গফরগাঁও সদরের নীলকরদের ঘাটলায় যা পরবর্তীকালে লঞ্চঘাটা বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত সেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় হানাদার বাহিনী নিরপরাধ মুক্তিকামী অসংখ্য মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে বেয়নেট চার্জ করে/গুলি করে হত্যার পর খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসিয়ে দিত। ১৭ এপ্রিল থেকে হানাদার বাহিনী স্থল ও আকাশপথে আক্রমণ করে ১৯ এপ্রিল গফরগাঁও দখল করে নেয়। সর্বশেষ যুদ্ধ হয় ৫ ডিসেম্বর। মশাখালী স্টেশনের দক্ষিণে শীলা নদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ী হলেন পাকহানাদার বাহিনী পিছনে হটে যখন গফরগাঁও সদরে আশ্রয় নেয় ইকবাল-ই-কামালের নেতৃত্বে কামাল কোম্পানী এবং আফসার বাহিনীর বোম সিরাজের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাকহানাদার বাহিনীর পিছু ধাওয়া করে গফরগাঁও সদরসহ উপজেলার সমস্ত এলাকা হানাদার মুক্ত করেন। ৯ ডিসেম্বর ভোরের সোনালী সূর্য উদয়ের সাথে সাথে মুক্তির উল্লাসে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো হয় এবং হানাদার মুক্ত হয় গফরগাঁও।
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়)
৯ মাস স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এই দিনে পাকহানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পরাজয় বরণ করে ভোর ৬ টায় দেবীগঞ্জ থেকে ডোমার হয়ে সৈয়দপুরের দিকে রওনা হয়। দেবীগঞ্জে স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানকারী মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও দেবীগঞ্জ থানা কমিটির সভাপতি মরহুম সফিউল আলমের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। যুদ্ধের পুরো সময়টাতে মুজিব বাহিনীর সরকারের আমলে সফিউল আলমের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ সংঘটিত করে। ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর সকালে দেবীগঞ্জ বর্তমান আনসার ভিডিপি অফিসের সামনে মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক মরহুম সফিউল আলমের নেতৃত্বে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে স্বধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।
কালিহাতী ৯ ডিসেম্বর মুক্ত হয়।
কালিহাতী (টাঙ্গাইল)
৭ ডিসেম্বর ভারতীয় মিত্র বাহিনীর হামলায় পাক সেনারা যখন শেরপুর এবং ময়মনসিংহ সীমান্ত থেকে পালিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল ঐ দিন ভারতীয় মিত্র বাহিনী কালিহাতী কলেজ মোড়ে এবং এলেঙ্গার রাজাবাড়ী ও পৌলি ব্রিজের উত্তর পার্শে পাক সেনাদের অস্ত্রবাহী ট্রাকের প্রচণ্ডভাবে বোমা বর্ষণ করে এতে। পাক সেনাদের শতাধিক সৈন্য মারা যায়। ৮ তারিখ রাতে কাদেরিয়া বাহিনী তার বিশাল মুক্তিবাহিনী নিয়ে মধুপুর, ঘাটাইল হয়ে কালিহাতী এসে পৌঁছে। তিনি কালিহাতী মুক্ত ঘোষণা করে টাঙ্গাইল জেলা সদরের দিকে এগুতে থাকেন। সেই থেকে ৯ ডিসেম্বর কালিহাতী মুক্ত দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।
আড়াইহাজার (না’গঞ্জ)
গোপালদী বাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা \ আজ আড়াইহাজার মুক্তদিবস। প্রবল প্রতিরোধের মুখে পাকবাহিনী আড়াইহাজার থানা এলাকা থেকে ভুলতা দিয়ে পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা ডাক বাংলোয় অবস্থিত পাক বাহিনীর ক্যাম্প দখল করে নেন। আড়াইহাজার উপজেলা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লাল মিয়া জানান, পাকবাহিনীর হাতে আড়াইহাজারের মুনজুর ও সিরাজ শহীদ হন।
অভয়নগর (যশোর)
অভয়নগর (যশোর) সংবাদদাতা \আজ ৯ ডিসেম্বর অভয়নগর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে যশোরের শেষ উপজেলা অভয়নগর মুক্ত করে বাংলার মুক্তিকামী দামাল ছেলেরা খুলনার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ১৯৭১ সালে অভয়নগরে বেশ কয়েকটি ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পাকবাহিনীর রসদ সরবরাহে বাধাদানের প্রতিশোধ নিতে নওয়াপাড়া রেল স্টেশন মাস্টারের কক্ষে ব্রাশ ফায়ার চালিয়ে ৬ জনকে হত্যা। এছাড়া পাক আর্মির একটি বড় দলের ট্রেনে যাওয়ার খবর পেয়ে মিত্র বাহিনীর বিমান হামলার ঘটনায় নওয়াপাড়া স্টেশনে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের প্রায় ২শ’ যাত্রী প্রাণ হারায়। অভয়নগর মুক্ত দিবস উপলক্ষে আজ নওয়াপাড়া ইনস্টিটিউটে গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের র্যালী, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।