শহীদ শাহজাহানের পরিবার
২৭ বছর ভাতা পাচ্ছে না
মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৭
মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মদানকারী বীরবিক্রম উপাধিপ্রাপ্ত শহীদ শাহজাহানের পরিবার দীর্ঘ ২৭ বছর যাবত্ সরকারি ভাতা থেকে বঞ্চিত। ফলে শহীদ পরিবারটি তাদের স্বজন হারিয়েও সরকারি ভাতা না পেয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে। বীরবিক্রম শহীদ শাহজাহানের বাড়ি জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চরভাটিয়ান গ্রামে। একমাত্র আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তারা ভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছে শহীদ পরিবারটি। বীরবিক্রম শহীদ শাহজাহানের ভাই আ. সালম জানান, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শহীদ শাহজাহানকে বীরবিক্রম খেতাবে ভূষিত করেন। তার পরিবারকে বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষরিত একটি সনদ প্রদান করা হয়। কিছুদিন তারা ৪শ টাকা করে সরকারি ভাতা পেলেও ১৯৮৪ সালের ২৩ জুন থেকে হঠাত্ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তাদের ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে এই শহীদ পরিবারটি কোন ভাতা পাচ্ছে না। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর বীরবিক্রমের পরিবারকে আবারো সন্মান জানানো হয়। তার ভাই আ. সালামের হাতে একটি ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
বীরবিক্রম শহীদ শাহজাহানের ভাই আব্দুস সালাম ও মাদারগঞ্জ উপজেলার তার সঙ্গীয় মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধকালীন ঘটনা সম্পর্কে জানান, ১৯৭১ সালে মাত্র ১৬ বছরের কিশোর শাহজাহান সপ্তম শ্রেণী পাস করেই একদল তরুণের সাথে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশ নেন। তিনি ১১ নং সেক্টরের আওতায় বকশিগঞ্জের কামালপুর বর্ডারে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ১১ নং সেক্টরের মহেন্দ্রগঞ্জ সাব সেক্টরের আওতায় ছিলেন। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসের যে রাতে শাহজাহান শহীদ হন সে রাতে তিনি ৭০/৮০ জনের মুক্তিবাহিনী দলের হয়ে বেরিয়ে পড়লেন ভারতের ক্যাম্প থেকে। মধ্যরাতে সীমান্ত সংলগ্ন একটি বিরাট আখক্ষেতে আশ্রয় নিলেন। কামালপুরে ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি। এই ঘাঁটি আক্রমণ ছিল তাদের প্রধান টার্গেট। আখক্ষেতের একটি পরিখায় ছিলেন শাহজাহান। তার গুলিতে তিনজন হানাদার পাকসেনা নিহত হলো। এতে পাকসেনারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলো। পাকিস্তানি সেনাদের বৃষ্টির মতো গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে গেলেন শাহজাহানসহ কয়েকজন। শহীদ হলেন তারা।