মোমিনুলের অন্য রূপ
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৭
‘তেমন একটা বোলিং করেননা। তবুও দলের প্রয়োজনে বল হাতে নিয়ে হয়’- সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডের পর হোটেল লবিতে বসে এভাবেই নিজের কথাগুলো ব্যক্ত করছিলেন মোমিনুল হক। ঘরোয়া ক্রিকেটেও বল করেন খুব কম। নেটেও ঠিকমত বল করনেনা। অথচ কাল সেই মোমিনুল যেন হয়ে গেলেন মুত্তিয়া মুরলিধরনের উত্তরসূরি। কিয়েরন পোলার্ড ও ড্যারেন ব্রাভো যখন বাংলাদেশী বোলারদের স্বাচ্ছন্দ খেলছিলেন; ঠিক তখনি অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম তার হাতে বল তুলে নেন। মাত্র দুই ওভার বল করেছেন মোমিনুল। এই ১২টি বল করে ভেঙ্গেছেন ১৩২ রানের পার্টনারশীপ। নিয়েছেন পোলার্ড ও অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির উইকেটও।
ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে যখন বাংলাদেশী বোলাররা ব্যর্থ হচ্ছিলেন হঠাত্ করেই মুশফিক মোমিনুলের হাতে বল তুলে দেন। সেই ম্যাচে তিন ওভার বল করেছেন ঠিকই কিন্তু কোন উইকেট পাননি। কিন্তু যে কাজটি তিনি করেছেন, তা হচ্ছে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের রানের মেশিন আটকে রেখে দিয়েছেন মাত্র নয় রান। চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচে অবশ্য তাকে আর বল করতে হয়নি। নিয়মিত বোলাররাই আসল কাজটি সেরেছেন। ঝামেলা হয়েছে কাল। গেইল, পাওয়েল ও স্যামুয়েলসের ফিরে যাওয়ার পরও ব্রাভো ও পোলার্ড বাংলাদেশীদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
কাল ৮৫ রানে ব্যাট করা পোলার্ডকে ফিরিয়ে দিয়ে প্রথম ওভারে মোমিনুল দিয়েছিলেন মাত্র তিন রান। তবে পরের ওভারে ব্রাভো একটি ছয় মারলেও ওভারের প্রথম বলে স্যামিকে ফিরিয়ে দিয়ে ক্যারিবিয়দের মূল স্পন্দন ভেঙ্গে দিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান। নেটে বল করেননা, বোলিং সাইডেও মোমিনুল অনিয়মিত, সেই অনিয়মিত বোলারই ওয়েষ্ট ইন্ডিজের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিনত হলেন। সোহাগ গাজী, আবুল হাসান ও এনামুল হক বিজয়ের পর মোমিনুল হক। বাংলাদেশ ক্রিকেটে এখন তরুনদের জয়গানই বেশি।