টু কি টা কি

শফিউলের এই সিরিজে তার খেলার কথাই না। প্রথম চার ম্যাচ মাঠের বাইরে বসে কাটিয়েছেন। শেষ ম্যাচে আকস্মিকভাবেই মাশরাফির বদলে সুযোগ পেলেন। সুযোগ পেয়েই বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাকে একাদশে নেওয়াটা প্রয়োজন! টানা তিন ওভার মেডেন নিলেন। তাও ক্রিস গেইল ও ডোয়াইন ব্রাভো যখন ব্যাট করছেন সে সময়। ক্যারিয়ার শুরুর পর এরকম বোলিং কখনো করেননি শফিউল। টানা তিন ওভার মেডেন তো আছেই সঙ্গে যোগ হয়েছে ফিরেই তিন উইকেটের প্রাপ্তি। কাল মাশরাফির জায়গায় খেলার সুযোগ পেয়েই তিন উইকেট! মোট ৯ ওভারে ৩১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন। অবশেষে ছক্কা খুলনায় দ্বিতীয় ম্যাচের পর কিয়েরন পোলার্ড বলেছিলেন বাংলাদেশের যে বোলিং, তাতে খুলনা থেকে ছক্কা মেরে ঢাকায় পাঠানো যাবে। আসলেই কি তাই? অন্য কেউ পারুন আর নাই পারুন; পেলার্ড প্রথম চার ম্যাচে অন্তত পারেননি। নিজেকে এ কথা বলে হাস্যকর করে তোলা পোলার্ড পরের তিনটি ওয়ানডেতে যথাক্রমে ২৫, ১ ও ২ রান করতে পেরেছিলেন। এই ইনিংসগুলোর মধ্যে একটিও ছক্কা নেই তার! খুলনা থেকে ঢাকা কেন, বাউন্ডারির বাইরেই বল ফেলতে পারেননি পোলার্ড। অবশেষে সেই ছক্কা তো পেয়েছেন তবে সেটি মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। গত তিন ম্যাচে ছক্কা না পাওয়ার ক্ষোভ ঝেড়েছেন কাল আটটি ছয় মেরে। আট ছয়ে ৭৪ বলে ৮৫ রান করে বিদায় নিয়েছেন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান। একাকী সাকিব মাঠের বাইরে বসে খেলা দেখছেন সাকিব আল হাসান। পায়ের ‘শিন’ ইনজুরির কারণে পুরো ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে পড়েছেন তিনি। প্রথম দুই ম্যাচ জেতার পর বাকি ম্যাচগুলোর করুণ দশা দেখে তিনি নিজেও আহত। কালও মিরপুর স্টেডিয়ামে বসে দলের খেলা দেখেছেন। একাকী খেলা দেখার সময় কী ভাবছিলেন, তা তো বলা কঠিন। তবে দলের খারাপ সময়ে নিশ্চয়ই আফসোস হচ্ছিল—আহা যদি মাঠে থাকতে পারতাম! পেস-বনাম গেইল স্পিন আতংক যেন পেয়ে বসেছে ক্রিস গেইলকে। স্পিন ভীতির কারণে এখন তিনি স্পিনারদের মারেন না। বরং চড়াও হচ্ছেন পেসারদের উপর। কিন্তু ঝামেলা সেখানেই। বরাবরের মত পেসারদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে গিয়ে কালও সেই পেসেই আউট হলেন তিনি। মাশরাফির পরিবর্তে খেলা শফিউল ইসলামের বল খেলতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে নাসিরের কাছে উইকেট দিয়ে আসেন তিনি। এর আগে মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে পরপর দুই ম্যাচে আউট হয়েছেন। কাল সেই পেসেই আউট গেইল।