সেই দর্দেভিচের অপেক্ষায় বাফুফে

অনেক দিন ধরেই জাতীয় ফুটবল দলের জন্য কোচ খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু পছন্দ হচ্ছে না বাফুফের। জানা গেছে বাফুফেতে বেশ কয়েকটি আবেদন জমা রয়েছে বিভিন্ন দেশের কোচের। কিন্তু মন মতো না হওয়ায় সেদিকে না তাকিয়ে বাংলাদেশের পুরোন কোচের দিকে তাকিয়ে বাফুফে। জাতীয় ফুটবল দলের সার্বিয়ান কোচ জোরন দর্দেভিচের অপেক্ষা করছে বাফুফে। তার সাথ অনেক আগেই যোগাযোগ করেছিল বাংলাদেশ। জানতে চেয়েছিল তিনি কোথায় আছেন, এবং কী করছেন। ইমেইেলের তার জবাব দিয়েছেন দর্দেভিচ। জানিয়েছেন দক্ষিণ সুদানের দায়িত্বে রয়েছেন। বাংলাদেশের প্রতি দর্দেভিচের আগ্রহ আছে কিনা জানতে চেয়ে বাফুফে থেকে দুটি মেইল পাঠানো হয়েছে তার কাছে। সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে দর্দেভিচ জানিয়েছেন তার সাথে দক্ষিন সুদানের চুক্তি ডিসেম্বর পর্যন্ত। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সিদ্ধান্ত নেবেন-জানিয়েছেন বাফুফের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ। বাফুফেও এখন সে অপেক্ষায় রয়েছে। অতীত সাফল্যের কথা মনে করে বাফুফে দর্দেভিচের উপর আস্থা রাখতে চায়। কারণ বাফুফে মনে করে দর্দেভিচের হাত ধরে ঢাকায় এসএ গেমস ফুটবলে শিরোপা জয় করেছিল। এই সার্বিয়ান ফুটবলাদের মনোবল তৈরি করাতে পারেন। যেটা অনেকেই করতে পারেননি। ২০১০ সালে ব্রাজিলিয়ান কোচ এডসন সিলভা ডিডোকে বিদায় দেয়ার পর খন্ডকালিন কোচের দায়িত্ব গ্রহন করেছিলেন সার্বিয়ান কোচ জোরান দর্দেভিচ। খেলোয়াড়দের মানসিক এবং শারীরিক প্রস্তুতিটা হয়েছিল মুলত ব্রাজিলিয়ান কোচের হাতে। কিন্তু বাফুফের সাথে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় তাকে দেশে ফিরে যেতে হয়েছিল। বিকেএসপিতে ডিডোর কঠোর অনুশীলন মানতে চায়নি তখনকার সিনিয়র পাঁচ ফুটবলার। অনুশীলন না করতে পারলে কোচ বলেছিলেন ক্যাম্প ছেড়ে চলে যেতে। ওই পাঁচ ফুটবলারাও ঢাকায় ফিরে আসেন। এই নিয়ে জাতীয় দলের ব্যবস্থাপনা কমিটিও বিতর্কিত ফুটবলারদের পক্ষ নিয়ে বৈঠক করে। কিন্তু ডিডো ছিলেন নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। তিনি পেশাদারিত্বের বিচার করে আপোষ করেননি। কোনো ভাবেই শৃংখলভঙ্গকারি ফুটবলারদের দলে রাখতে চান না। শেষ পর্যন্ত বাফুফে ডিডোকে বাদ দিয়ে এক রাতের মধ্যে নতুন কোচের সন্ধান করে সার্বিয়া থেকে জোরান দর্দেভিচ এবং তার সাথে দু’জন কোচিং ষ্টাফ উড়িয়ে আনে। দায়িত্ব তুলে দেয় এসএ গেমস ফুটবল দলের। বাংলাদেশও সেবার নিজেদের ঘরের মাঠে সাফল্য তুলে আনে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের ব্যপার হচ্ছে এই সার্বিয়ান কোচও টিকতে পারেনি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তিনি বাফুফের কাছে আকাশ ছোঁয়া পারিশ্রমিক দাবি করেন। যা কিনা কোনো ভাবেই মেটানো সম্ভব ছিল না। তার আচার আচরণও ভালো ছিল না। তবুও দর্দেভিচকেই বাফুফে আনতে চায়। মানুষ হিসেবে যেমনই হউক না সাফল্য পেলে তার সবকিছু মেনে নিতে রাজি বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। কিন্তু মোদ্দা কথা হচ্ছে দর্দেভিচ আসবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। তারপরও ডিসম্বের পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে চায় বাফুফে।