চট্টগ্রামে ভালো মানের স্কুল সংকট, উদ্বিগ্ন অভিভাবক

চট্টগ্রামে নামি-দামি স্কুলে ভর্তির জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে অভিভাবকরা। লেখাপড়ায় দুর্বল শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তদ্বির নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ। নগরীতে শিক্ষার্থীর তুলনায় ভালোমানের স্কুল একেবারে অপ্রতুল। এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে অন্তত ৪ থেকে ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেগুলো ভালোমানের নয়। এই সুযোগে নগরীতে শিক্ষাবাণিজ্যের ধুম লেগেছে। হিড়িক পড়েছে বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরির। শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, ভালোমানের স্কুল সংকটে অভিভাবকরা বাধ্য হচ্ছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করতে। এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘কিন্ডার গার্টেনের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্রি স্টাইলে চলছে। এসব স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম নয়। নিবন্ধনের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তাদের সমিতিরও কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা যেন জাতি পায় তা নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে।’ ডিসেম্বর মাস এলেই ছেলে-মেয়েদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এখনকার অভিভাবকরা। পছন্দেরও একটি ভালোমানের স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য অনেকের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। নগরীতে ভালোমানের স্কুল বলতে যে কয়েকটি সরকারি স্কুল রয়েছে তার সংখ্যা নয়টির মতো। এসব স্কুলে দুই শিফট চালু করা হয়েছে। এদের মধ্যে সবগুলো স্কুলের পড়াশোনার মান একই রকম নয়। ডাবল শিফট চালু করা হলেও গত চার বছরেও নতুন পদ সৃষ্টি করে শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়নি। আবার সবকয়টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের অবস্থান শহরের পূর্ব প্রান্তে। ফলে ডবলমুরিং থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত শহরের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় ভালোমানের কোন সরকারি মাধ্যমিক স্কুল নেই। শিক্ষার মান উন্নয়নে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ভালোমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আজিজ উদ্দিন বলেন, ‘ভালোমানের স্কুল করতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা মুখ্য। তিনি চাইলে পড়ালেখার মান উন্নত করে ভালোমানের স্কুল তৈরি করতে পারেন। পাশাপাশি অন্য শিক্ষকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’ নতুন শিক্ষা বছর শুরু হওয়ার আগেই চট্টগ্রামে শিক্ষাবাণিজ্য শুরু হয়ে গেছে। গত এক মাস যাবত্ দেখা যাচ্ছে নগরী ও জেলায় বাহারি নামের নতুন নতুন কিন্ডার গার্টেন স্কুল। এসব নাম সম্বলিত ব্যানার, বিলবোর্ড ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে বন্দরনগরীর অলি-গলি। অভিভাবকদের আকর্ষণ করতে প্রচারপত্রে ধর্মীয় ও আদর্শিক বিভিন্ন শ্লোগান লেখা হচ্ছে। নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা, মেধাবীদের ফ্রি ও টিফিনের আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। তবে এসব প্রতিশ্রুতির বেশিরভাগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকে না বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। আরবী ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের কথা বলে মাদ্রাসা করার প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। জানা যায়, একশ্রেণীর বিত্তশালী ব্যবসায়ী এসব বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার পেছনে বিনিয়োগ করছেন। এটাকে একটি ‘লাভজনক ব্যবসা’ হিসাবে তারা নিচ্ছেন। কিন্ডার গার্টেন এসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো মোটা অংকের এককালীন ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন আদায় করা হচ্ছে। আবার টাকা নিয়ে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার নিম্নমানের বই পাঠ্য করা হচ্ছে। স্কুলগুলোতে শিশু-কিশোরদের বিনোদনের কোন জায়গা নেই। শিক্ষক নিয়োগেও কোন কোন নীতিমালা মানা হয় না। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ সুফী মো. আলী রেজা ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রাইমারি পর্যায়ের কিন্ডার গার্টেনগুলোতে নিবন্ধের জন্য সরকার একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এতে কি পরিমাণ জায়গায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা যাবে তা নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কিন্ডার গার্টেন করা যাবে না।’