২০১৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৫৮
ব্যবসায় পরিচিতি
কামরুল হাসান দিপু
প্রভাষক, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ
গ্রীনফিল্ড কলেজ, মিরপুর-ঢাকা
গতকালের পর
অনুশীলনী - ০৩
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
মিসেস সুমনা রহমান ঢাকার বাদাতলী থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্যদ্রব্য ক্রয় করেন। তিনি এ সকল পণ্য মিরপুরের ’নিত্য সম্ভার’ নামক একটি দোকানে বিক্রয় করেন। এ কাজে তাকে সহায়তা করার জন্যে তিনি দক্ষ ও অভিজ্ঞ দুজন কর্মী নিয়োগ করেন। কয়েক বছরের মধ্যেই এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রয়োগমূলক
গ. মিসেস সুমনা রহমান কোন ধরনের ব্যবসায়ী তা বর্ণনা করো।
উচ্চতর দক্ষতামূলক
ঘ. মিসেস সুমনা রহমানের ব্যবসায়ে সফলতার পেছনে কোন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
প্রশ্ন গ-এর উত্তর
মিসেস সুমনা রহমান একজন খুচরা ব্যবসায়ী। তিনি ঢাকার বাদামতলী থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্যদ্রব্য ক্রয় করে মিরপুরের নিত্যসম্ভার নামক দোকানের মাধ্যমে বিক্রি করেন। মিসেস সুমনা পাইকার ও ভোক্তাদের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে তাদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেন। তার এ ব্যবসায়ে স্বল্পপুঁজি ও নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতা প্রয়োজন বলে সহজেই গড়ে তোলা যায়। ভোক্তাদের সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ থাকায় তার মতো খুচরা ব্যবসায়িরা ভোক্তাদের অভিরুচি ও চাহিদা সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান রাখে। মিসেস সুমনার এ ব্যবসায়ের ক্রয় দক্ষতা একান্ত প্রয়োজন এবং সংগৃহীত মালের মূল্য নির্ধারণ তার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। খুচরা ব্যবসায়ী হিসেবে তার সুনাম তার ব্যবসায়ীক সফলতাকে ত্বরান্বিত করে।
প্রশ্ন ঘ-এর উত্তর
মিসেস সুমনার ব্যবসায়িক সফলতার পেছনে বিক্রয় দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মিসেস সুমনা রহমান বাদামতলী থেকে পণ্য ক্রয় করে মিরপুরের নিত্যসম্ভার নামক দোকানের মাধ্যমে বিক্রয় করেন। তিনি বিক্রয়ে সহায়তা করার জন্যে দুজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োগ করেছেন। ভোক্তাদের নিকট পণ্যদ্রব্য বিক্রি করা খুচরা ব্যবসায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আদর্শ বিক্রয়ীকতার উন্নয়ন ঘটিয়ে যেমন সাময়িক ক্রেতাকে নিয়মিত ক্রেতায় পরিণত করা যায় তেমনি তাদের মাধ্যমে ব্যবসায়িক সুনাম ছড়িয়ে পড়লেন নতুন ক্রেতা আকৃষ্ট করা যায়। মিসেস সুমনা রহমানের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ’নিত্যসম্ভার’ এর সুনাম কয়েক বছরের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ায় ব্যবসায়িক সফলতা ধরে রেখে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করতে পারবেন। এসবই সম্ভব হয়েছে মিসেস সুমনার বিক্রয় দক্ষতার কারণে।
অনুশীলনী - ০৪
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
গাজীপুরের আজম সাহেব একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ১০০০ জন মেহমানকে আপ্যায়নের জন্যে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি চৌরাস্তার জনবহুল এলাকায় অবস্থিত ’হাওলাদার স্টোরের’ মালিক জনাব রহিমকে সরবরাহ করতে বলেন। কিন্তু এলাকায় বেশ সুনাম থাকা সত্ত্বেও তিনি উক্ত মাল সরবরাহ করতে অপারাগতা প্রকাশ করেন। নির্দিষ্ট দিনে আরও ’১০ কেজি চাল ও ৫ কেজি তেল’ প্রয়োজন হওয়ায় তাত্ক্ষণিকভাবে ’হাওলাদার স্টোর’ তা সরবরাহ করে।
জ্ঞানমূলক
ক. বিশেষ প্রকৃতি পাইকার কত প্রকার?
অনুধাবনমূলক
খ. পাইকার কীভাবে পণ্যের সময়গত উপযোগ সৃষ্টি করে তা - ব্যাখ্যা করো।
প্রয়োগমূলক
গ. হাওলাদার স্টোরের মালিক জনাব রহিম কোন ধরনের ব্যবসায়ী তা বর্ণনা করো।
উচ্চতর দক্ষতামূলক
ঘ. হাওলাদার স্টোরের সফলতা অর্জনের পেছনে কোন বিষয়টি প্রধান ভূমিকা রেখেছে তা মূল্যায়ন করো।
পরবর্তী অংশ আগামীকাল
বাংলা প্রথমপত্র
মো. আতাউর রহমান (সায়েম)
সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা),
সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল, ঢাকা
অধ্যায় : পল্লীসাহিত্য
৩। প্রখ্যাত লোকসাহিত্য বিশারদ ড. বরুণ কুমার চক্রবর্তীর মতে, “বাংলাদেশকে জানা লোকগানের মধ্য দিয়ে যত সহজ অন্য কোনো বিষয় দিয়ে তত সহজ নয়। কারণ গর্ভবাস থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন পর্যায় অবলম্বনে রচিত হয়েছে অগণিত লোকসঙ্গীত। আর ধাঁধাঁ, ছড়া, প্রবাদ কিংবা লোককথার তুলনায় এই লোকসঙ্গীতের জনপ্রিয়তা ও সমৃদ্ধির মূল কারণ এর মোহনীয় সুর। বাঙালির ধ্যান-ধারণা, আচার-আচরণ, ব্যক্তি ও গোষ্ঠি জীবনের সুখ-দুঃখের অনুভূতি এ সবই আছে লোকসঙ্গীতে।
ক. ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধে ‘অমূল্যরত্ন’ বলা হয়েছে কোনটিকে?
খ. উপকথাকে ‘সুদূর অতীতের স্বাক্ষী’ বলার কারণ কী?
গ. উদ্দীপকটি ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধের কোন্ উপাদানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ-বর্ণনা কর।
ঘ. পাঠককে পল্লীসাহিত্য সম্পর্কে জানাতে উদ্দীপক ছাড়া ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধ আর কীভাবে সাহায্য করতে পারে? বিশ্লেষণ কর।
৩(ক) নং প্রশ্নের এর উত্তর:
‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধে ‘অমূল্যরত্ন’ বলা হয়েছে লোকসঙ্গীত।
৩(খ) নং প্রশ্নের এর উত্তর:
উপকথাগুলো বিভিন্ন কাল্পনিক ও বাস্তব ঘটনার সংশ্লেষণে রচিত হত। এগুলোতে থাকত বিভিন্ন রাজার কথা, রানীর কথা, আর এগুলোর ব্যাপ্তি ছিল সর্বত্র। শুধু বাংলাদেশের নিভৃত পল্লীতে নয় বরং ইন্দোনেশিয়া, যাভাতেও ছিল এর প্রচলন। এগুলো নৃতত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। এগুলো অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সেতু বন্ধন করে। আধুনিক কর্মনাশা শিক্ষার স্রোতে এগুলোর অবলুপ্তি অতীতের সাথে আমাদের সম্বন্ধ লোপ করে দেয়। তাই উপকথা ‘সুদূর অতীতের স্বাক্ষী।’
৩(গ) নং প্রশ্নের এর উত্তর:
উদ্দীপকটি ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধের পল্লীগান উপাদানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধে দেখা যায়, পল্লীগান বা লোকসংগীত পল্লীসাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। এগুলো পল্লীসাহিত্যের অমূল্য রতন। কী মোহনীয় সুর! কী তত্ত্বজ্ঞান। কত দেহতত্ত্ব, কত দর্শন, কত ভাব এই গানে যে লুকায়িত তার ইয়ত্তা নেই। এগুলোর আবেদন সর্বজনীন। মারফতি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া-কত চমত্কার গান।
‘মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে
আমি আর বাইতে পারলাম না।’
উদ্দীপকে ড. বরুণ কুমার চক্রবর্তীর মতেও বাংলাদেশকে জানা অন্যান্য লোকগানের মধ্য দিয়ে জানা যত সহজ অন্য কোনো বিষয় দিয়ে নয়। গর্ভবাস থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের তত্ত্ব আছে এগুলোতে। লোকসংগীতের আছে মোহনীয় সুর। বাঙালি জীবনের সামগ্রিক দিকই এতে বিবৃত।
৩(ঘ) নং প্রশ্নের এর উত্তর:
পাঠককে পল্লীসাহিত্য সম্পর্কে জানাতে উদ্দীপক ছাড়াও ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধ তার ছড়া, উপকথা, ধাঁধা, প্রবাদ-প্রবচন, ডাক, খনার বচন, খেলার বাঁধাবুলি, গত্ প্রভৃতির বর্ণনা দিয়ে সাহায্য করতে পারে।
উদ্দীপকে দেখা যায় ড. বরুন কুমার চক্রবর্তীর মতে, বাংলাদেশের পরিচয় অত্যন্ত সুনিপুনভাবে লোকসংগীতে বিবৃত। গর্ভবাস থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন পর্যায় অবলম্বনে রচিত এগুলো। আর এগুলোর আছে মোহনীয় সুর। বাঙালির সামগ্রিক জীবন দর্শন আছে এতে।
আবার ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধে দেখা যায়, পল্লীর প্রত্যেক পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে পল্লীসাহিত্য। এর মধ্যে আছে উপকথা, আছে রূপকথা, ‘হাঁউ মাঁউ, খাঁউ, মানুষের গন্ধ পাঁও।’ আছে প্রবাদবাক্য ‘পিঁড়েয় বসে পেঁড়োর খবর।’ আরও আছে ডাক ও খনার বচন-
‘কলা না রুয়ে কেটো পাত
তাতেই কাপড় তাতেই ভাত।’
আরো আছে ছড়াগান যা সরস প্রাণের জীবন্ত উত্স।
রোদ হচ্ছে মেঘ হচ্ছে
খেকশিয়ালের বিয়ে হচ্ছে।
এগুলোর পর আছে খেলার গত্ বাঁধা বুলি। তবে সবচেয়ে মোহনীয় পল্লিগান কী সুন্দর কী মোহনীয়। এই পল্লীগানগুলো অমূল্য রতন। চমত্কার তত্ত্ব জীবন দর্শন আছে এতে। মারফতি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, জারি, সারি গান। এগুলোর আবেদন সর্বজনীন।
‘মন মাঝি রে তোর বৈঠা নেরে
আমি আর বাইতে পারলাম না।’
দেখা যাচ্ছে উদ্দীপকের সাথে ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধের পল্লীগান উপাদানটি সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপক পাঠককে কেবল পল্লীগান সম্পর্কে জানাতে পারে। কিন্তু পল্লীগান ছাড়াও ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধ পল্লীসাহিত্যের বিবিধ অনুষঙ্গ যেমন-উপকথা, ছড়া, ডাক ও খনার বচন, খেলার বাঁধা বুলি, প্রবাদ বাক্য প্রভৃতি সম্পর্কে জানাতে পারে। তাই বলা যায় পাঠককে পল্লীসাহিত্য সম্পর্কে জানাতে ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধ খুবই কার্যকরী।