ফোবর্স ম্যা গাজিন ২০১২

প্রভাবশালী নারী

বরাবরের মতো ১০০ জন প্রভাবশালী নারীর নাম তালিকাবদ্ধ করেছে ফোবর্স ম্যাগাজিন। প্রভাবশীলতার এই বাছাইপর্ব সম্পাদিত হয়েছে বিভিন্ন অঙ্গনে নারীর সাফল্য আর উত্কর্ষের ভিত্তিতে। নিজেদের যোগ্যতার গুণে পুরো পৃথিবীর সামনে তারা ক্ষমতাবান হয়ে উঠছেন। তালিকাভুক্ত ১০০ প্রভাবশালী নারীর মধ্যে শীর্ষ ১০-এ আছেন এ্যাঞ্জেলা মারকেল, হিলারি ক্লিনটন, দিলমা রোসেফ, ম্যালিন্ডা গেটস, জিল আব্রামসান, সনিয়া গান্ধি, মিসেল ওবামা, ক্রিস্টিয়ান ল্যাগার্ড, জেনেট ন্যাপলিতানো, শ্রেয়াল সান্ডবার্গ প্রমুখ। অ্যাঞ্জেলা মারকেল বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যাঞ্জেলা মারকেল। যিনি আরেক ক্ষমতাধর রাষ্ট্র জার্মানির প্রেসিডেন্ট। ফোবর্স ম্যাগাজিনের মতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর মহিলা হিসেবে বর্ণনা করার পেছনে কারণ উল্লেখ করেছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোট ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছেন এবং একই সাথে ইউরো মুদ্রা ভাগ্যও নিজ হাতে নিয়ে নিয়েছেন। তার এই অবদানের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন শান্তিতে নোবেল অর্জন করেছে। এছাড়াও মারকেল ইউরোপের অর্থনৈতিক মন্দা থেকে উত্তরণের জন্য কাজ করছেন। তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ২০০৫ সাল থেকে জার্মনিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখন তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ক্ষমতাসীন দলকে ২০১৩ সালের নির্বাচনে উজ্জীবিত করা। জিল আব্রামসান সাংবাদিক জিল আব্রামসান নিউইয়র্ক টাইমসের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক। ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে যিনি বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মহিলাদের মধ্যে ৫ম। ৫৮ বছর বয়সী এ সাংবাদিক নিউইয়র্ক টাইমসের আমূল পরিবর্তন আনেন। আব্রামসান ১৬৬ বছরের পুরোনো নিউইয়র্ক টাইমসের পাবলিকেশন্স পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল ফ্লাটফরমে নিয়ে আসেন। আর সম্পাদকদের নতুন করে আদল-বদল করেন। যার ফলে নিউইয়র্ক টাইমসের ৫ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক অনলাইনে টাকা পরিশোধ করে গ্রাহক হয়েছে। এছাড়াও সারা পৃথিবী জুড়ে ৪০ মিলিয়নেরও বেশি পাঠক তাদের এই অনলাইন সংস্করণ দেখছে। এই ঐতিহাসিক পত্রিকাটির তিনিই প্রথম মহিলা নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে গর্ববোধ করেন এবং পত্রিকাটি এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ব্যক্তি সাংবাদিক হিসেবে। ক্রিস্টিয়ান ল্যাগার্ড রাজনীতি, সাংবাদিকতা প্রভৃতি যেমন প্রভাব বিস্তারের জন্য কার্যকরী, তেমনি সমাজ সচেতনতামূলক কাজকর্মও বৈশ্বিক রাজ্যে প্রভাব বিস্তারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তেমনই একজন নারী হলেন ক্রিস্টিয়ান ল্যাগার্ড। ৫৬ বছর বয়সি ক্রিস্টিয়ান ল্যাগার্ড ফ্রান্সের একটি শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্যারিসের ওয়েস্ট ইউসিভার্সিটির ল’ স্কুল থেকে স্নাতক পাস করেন। প্রভাবশালী মহিলাদের তালিকায় তিনি শীর্ষ ৮-এ রয়েছেন। ল্যাগার্ডই প্রথম মহিলা যিনি ১৮৮টি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ সংকট নিয়ে কাজ করেছেন। এ বছর এপ্রিল মাসে ল্যাগার্ড জি-২০ দেশগুলো থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত ৪৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে একটি তহবিল গঠনে সহায়তা করেছেন। যা আইএমএফ-এর ঋণদান ক্ষমতাকে দ্বিগুণ করেছে।