অর্থ মানেই অনর্থ নয়!
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৩৬
অর্থ কি আসলেই অনর্থের মূল? না কি অর্থ থাকা না থাকার উপরই নির্ভর করে সুখের স্থায়ীত্ব? অর্থের সঙ্গে সুখ বা অসুখের এই সম্পর্ক নিয়ে শেষ কথাটি আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারেননি। বরং সুখের বিষয়টি যে আপেক্ষিক সে কথাটিই উঠে এসেছে নানা গবেষণা আর আলোচনায়। আবার অর্থ থাকলে সুখী হওয়া যায়-এ প্রস্তাবনার পক্ষে-বিপক্ষে জোরালো মতামতও তুলে ধরেছেন অনেকে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন আরেক তত্ত নিয়ে হাজির হয়েছেন আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েসের একদল বিজ্ঞানী। তারা বেশ জোর দিয়েই দাবি করেছেন যে অর্থই মানুষকে সুখী করতে পারে। তবে শুধু অর্থ থাকাটাই সুখের জন্য যথেষ্ট নয়, বরং অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি সেটিকে প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করার সামর্থ্যও থাকতে হবে বলে মনে করেন এই গবেষকরা। মূলত ২০০৫ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ১৩৫টি দেশের ৮ লাখ ৬ হাজার ৫২৬ জন ব্যক্তির কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশে¬ষণ করেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েসের এই গবেষকরা। জরিপের অংশ হিসেবে গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি এবং তাদের প্রাত্যহিক জীবনের ভালো-মন্দ বিভিন্ন দিক বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এ ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া এসব ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাস, বিনোদনের ধরন বা প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাসও পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, অর্ধেকেরও বেশি দেশের ক্ষেত্রে (৬৪ শতাংশ) মানুষের ব্যক্তিগত আয় বাড়ার সাথে সাথে তাদের জীবন সন্তুষ্টি ও ইতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। এ ছাড়া যেসব স্থানে মানুষ তাদের প্রত্যাশিত আয় ও বস্তুগত চাহিদা মেটাতে সক্ষম হন এবং উন্নত জীবনযাপন করতে পারেন, তাদের ৯৫ শতাংশই নিজেদের সুখী মনে করেন। যদিও বিজ্ঞানীরা এটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সুখের রহস্য টাকার পরিমাণের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। বরং যে পরিমাণ অর্থ খরচ করে মানুষ তার প্রয়োজনীয় সকল চাহিদা মেটাতে পারে সেই পরিমাণ অর্থ থাকাটাই সুখের নিয়ন্ত্রক।