না’গঞ্জের কারাগার-আদালত-থানায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর এক আলোচনা সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার, আদালত, থানা ও পুলিশ প্রশাসনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে। সভায় উপস্থিত লোকজন বলেছেন, জেলা কারাগারে বন্দীরা চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছে। অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনও টাকার জন্য প্রায় সময়ে নিরীহ লোকজনকে ধরে এনে হয়রানি করছে। দিন দিন এর মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। শনিবার দুপুরে শহরের পুরাতন বার লাইব্রেরীতে অনুষ্ঠিত ‘নির্যাতন বিরোধী কনভেনশনের অপশনাল প্রটোকল অনুমোদন এবং নির্যাতন প্রতিরোধে গণসচেতনা কর্মসূচী’ শীর্ষক এক আলোচনায় বক্তারা এসব অভিযোগ করেন। আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াই হাজার) আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল বারী ভুঁইয়া, খবরের পাতা সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সহ-সভাপতি রফিউর রাব্বি, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম, জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী আঞ্জুমারা আকসির, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ছিলেন অধিকার-এর নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক ধীমান ঘোষ জুয়েল। অধিকার তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতা হলো মাত্র ২শ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৭০ ও মহিলা ৩০। কারাগারে অসুস্থ বন্দীদের অবস্থা আরো করুণ। অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। কারাবন্দীদের আইনগত সহায়তা প্রদানের বিধান থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সর্বোপরি ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দী থাকার ফলে কারাবন্দীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এমপি নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, পুলিশ ও সরকারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক না। অধিকার আদায়ের জন্য যা করণীয় সেসব শুধু আলোচনার টেবিলে বললেই হবে না। নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম বলেন, পুলিশ এখন সরকারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ইদানীং নারায়ণগঞ্জে জামায়াত ও শিবিরের আসামি ধরার নামে নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করা হচ্ছে। জেলা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে মানবাধিকার পরিস্থিতি চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। এখানে টাকা দিলেই সব হয়। আলোচনা সভায় জানানো হয়, অধিকার মনে করে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৮ সালের কনভেনশন এগেইনস্ট টর্চার (ক্যাট) অনুস্বাক্ষরের মতোই উদ্যোগী হয়ে নির্যাতনের বিরুদ্ধে কনভেনশনের এই অতিরিক্ত প্রটোকল দ্রুত স্বাক্ষর করে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করবে।