সদরপুর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি নয় বছর

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ও নতুন কমিটি ৯ বছরেও না হওয়ায় উপজেলা কমিটির সাথে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মূল্যায়ন না পাওয়ায় ৭০ সাল থেকে আওয়ামী লীগ করা অনেক নেতাকর্মী নীরব রয়েছেন। জানা গেছে, ২০০৩ সালে সদরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্বাচন এবং উপজেলা কমিটি সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে। এরপর থেকে বর্ধিত সভা ছাড়া অন্য কোন সভাও ডাকা হয়নি। গত বছর থেকে জেলার অন্যান্য উপজেলায় কাউন্সিল হলেও সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ছাড়া বকি ৮টি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে কোন নির্বাচন বা নতুন কমিটি করা হয়নি। গত ২০০৮ সালে নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ফরিদপুর-৫ (ভাঙ্গা) নির্বাচনী আসনকে ফরিদপুর-৪ (সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সাথে সংযুক্ত করে (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনকে একত্র করে ফরিদপুর-৪ নির্বাচনী এলাকা ঘোষণা করে। সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দ-সালথা) নির্বাচনী এলাকার সাথে সংযুক্ত করে। ফলে ফরিদপুর-৪ সাবেক আসনটির কর্তৃত্ব চলে যায় ফরিদপুর সাবেক ৫ আসনের হাতে। নামে ফরিদরপুর-৪ আসন থাকলেও সাবেক আসনের নিবেদিত নেতাকর্মীরা পূর্বের মতো মূল্যায়ন পাচ্ছে না। ফলে তারা বর্তমান দলের দায়সারাভাবে কাজ করছে। এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে না। পূর্বের নেতাকর্মীরা বেশিরভাগ সংরক্ষিত মহিলা এমপির গ্রুপে চলে যাচ্ছে। নতুন গজিয়ে উঠা নেতাকর্মীরা ও যোগদান করা নেতার্মীরা বেশি মূল্যায়ন পাচ্ছে। সদরপুর ৮টি, চরভদ্রাসন ৪টি মোট ১২টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে জড়িয়ে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে। বর্তমান আসনটি নীরব দ্বিধাদ্বন্দ্বে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান এমপি স্থপতি নিলুফার জাফরউল্লাহ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ অপরপক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি বেগম সালেহা মোশররফ। কৃষ্ণপুর ইউনিয়নটি ফরিদপুর-২ আসনের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় এখানকার নেতাকর্মীরাও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে। ফলে সাবেক ফরিদপুর-৪ আসনটির নির্বাচনী এলাকায় তেমন কোন উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে না বলে এলাকাবাসী জানান। আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী এলাকা সাবেক নির্বাচনী এলাকায় ফিরে না গেলে আসনটি হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় এক নেতা বলেন। এ ব্যাপারে সদরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের সাক্ষাত্ পাওয়া যায়নি। উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আ. ছত্তার ফকির জানান, আমরা দলের গঠনতন্ত্র ও নিয়মনীতি অনুযায়ী কমিটি গঠন করার জন্য উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ জেলা কমিটিকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।