সিরাজগঞ্জের রেলক্রসিং অরক্ষিত

অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হতে গিয়ে গত বছর ২৩টি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। ++ রাস্তা নির্মাণ করায় ক্রসিংসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। সিরাজগঞ্জ-ঈশ্বরদী ৯৬ কিলোমিটার রেলপথে অরক্ষিত রেলক্রসিং-এর কারণে দিনদিন দুর্ঘটনা বাড়ছে। ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে অনেককে। চলতি বছর আগষ্ট মাস পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দিয়েই রেল কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। আবার যেখানে লোক নিয়োগ করা আছে তারাও দায়সারা দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১০ সালের ১১ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ কেন্দ্রীয় ছাত্রদল আয়োজিত সমাবেশ চলাকালে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নিহত হন বিএনপি’র ৬ কর্মী। এজন্য রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বরত গেটম্যানের দায়িত্ব অবহেলাকে দায়ী করা হয়। সিরাজগঞ্জ-ঈশ্বরদী রেলপথের সিরাজগঞ্জ জেলা সীমানায় ৫১টির মধ্যে ৪৩টি রেল ক্রসিং সম্পূর্ণ অরক্ষিত। এ সব পয়েন্টে কোন গেটম্যান ও রেসক্ট্রিশন বার না থাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এসব ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে সতর্কবানী লিখে দায়িত্ব শেষ করেছেন। অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হতে গিয়ে গত বছর ২৩টি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। আর চলতি বছর আগস্ট মাস পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রেলওয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, পাবনার ঈশ্বরদী জংশন থেকে ঢাকার পথে বঙ্গবন্ধু সেতুমুখী রেললাইন বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের ঝাঐল রেলওয়ে ফ্লাইওভারের নিচ থেকে দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একটি লাইন সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার রেলওয়ে স্টেশন ও অপর লাইন বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্ত হয়ে ঢাকার দিকে গেছে। ঈশ্বরদী থেকে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম রেল স্টেশন পর্যন্ত ৯৬ কিলোমিটার রেলপথে অনুমোদিত ৪৫ ও অননুমোদিত ৬টিসহ ৫১টি রেলক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় মাত্র ৮টি ক্রসিং রয়েছে। একমাত্র ঝাঐল রেলওয়ে ফ্লাইওভার থেকে সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার রেলপথে ৩টি স্টেশন ও প্রায় এক ডজন ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩টিতে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড দেখা গেলেও অন্যগুলোতে তাও নেই। রেলওয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (পথ) আব্দুল মান্নান ইত্তেফাককে বলেন, সরকারের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার বিভাগ চালু রেলপথের ওপর দিয়ে ব্যাপকভাবে রাস্তা নির্মাণ করায় ক্রসিংসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি তিনি ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে সড়ক-মহাসড়কের ওপর দিয়ে নতুন রেললাইন নির্মাণকেও দায়ী করে বলেন, সওজ, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও রেলওয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রেলক্রসিংগুলোতে জননিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব। সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাইসুর রহমান অরক্ষিত রেল ক্রসিংগুলোর ঝুঁকির কথা স্বীকার করে জানান, এসব পথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ অধিকাংশ সময় শুধুমাত্র অসতর্কতার কারণে প্রাণ হারায়। জিআরপি থানার হিসেব মতে গত আট মাসে অর্থাত্ আগস্ট মাস পর্যন্ত ৩০ জনের প্রাণহানি হয়েছে।