সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান পেট্রোবাংলার

গ্যাস রফতানির সুযোগ না দিয়ে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের ঘোষণা দিয়েছে পেট্রোবাংলা। অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০১২ নামে এবারের দরপত্রে যথেষ্ট সংখ্যক আন্তর্জাতিক কোম্পানি সাড়া দেবে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা। দরপ্রস্তাব জমা দেয়ার শেষ তারিখ আগামী ১৮ মার্চ। এবার কোনোভাবেই গ্যাস রফতানির সুযোগ রাখা হয়নি। পিএসসিতে গ্যাসের দাম ২০০৮ এর তুলনায় সামান্য বাড়ানো হয়েছে। যাতে অগভীর সাগরে প্রতি হাজার ঘনফুট ৫ মার্কিন ডলার এবং গভীর সাগরে সাড়ে ৫ মার্কিন ডলার করা হয়েছে। সর্বোপরি আগের পিএসসির মতো এবারও কোম্পানিগুলোকে ৩৭ শতাংশ করপোরেট ট্যাক্স দিতে হবে। সাগরের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সময় যে বীমা করা হবে তাতে কোম্পানির পাশাপাশি পেট্রোবাংলাকেও রাখার বিধান করা হয়েছে। গতকাল রবিবার কাওরান বাজারে অবস্থিত পেট্রোসেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। জ্বালানি সচিব মোহম্মদ মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মোহম্মদ এনামুল হক, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাগরের ৬১ হাজার ৬৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করা হবে। এর মধ্যে ১০ হাজার ৪১ বর্গকিলোমিটার গভীর সমুদ্রে এবং ৫১ হাজার ৫৮৯ বর্গকিলোমিটার অগভীর সমুদ্রে পড়েছে। অগভীর সমুদ্রের নয়টি এবং গভীর সমুদ্রের তিনটি ব্ল¬কসহ মোট ১২টি ব্লকে অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে। এর মধ্যে গভীর সমুদ্রের তিনটি ব্লকের বিষয়ে মিয়ানমারের দাবি ছিল। গত ১৪ মার্চ আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত ইটলসের রায়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় এবার এ তিনটি ব্লকের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে। এবারের পিএসসিতে গ্যাস রপ্তানির কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। পাশাপাশি গ্যাস বা তেল ক্ষেত্রে কোনো বিস্ফোরণ ঘটলে অথবা অন্য কোনো ক্ষতি হলে ঠিকাদার কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কিছু শর্তযুক্ত করা হয়েছে। এর সঙ্গে ‘প্রটেকশন অব এনভায়রনমেন্ট’ বা পরিবেশ রক্ষা নামে নতুন একটি অনুচ্ছেদ রাখা হয়েছে। যাতে করে ক্ষেত্রের পরিবেশের বিষয়ে ঠিকাদার কোম্পানি আলাদাভাবে দায়িত্ব পালন করে। এছাড়া দরপত্রের শর্ত হিসাবে অগভীর সাগরের ব্লক ৯টিতে বাপেক্সের জন্য ১০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রাখা হচ্ছে। নতুন পিএসসিতে ৩৫টি ধারা রয়েছে। বলা হয়েছে, প্রথমে ৫ বছরের জন্য কাজ করার চুক্তি করবে ঠিকাদার কোম্পানি। এরপর আরো তিন বছরের জন্য কাজ করার জন্য চুক্তি নবায়ন করতে পারবে তারা। অগভীর সাগরের ব্লকে ঠিকাদার কোম্পানি যদি ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ করার পর অনুসন্ধান কূপ খনন না করে, তিন বছর পর এ চুক্তি বাতিল হবে। ন্যূনতম কাজের মধ্যে কোম্পানিকে অনুসন্ধানের প্রথম ধাপে দ্বিমাত্রিক জরিপ এবং ২য় ধাপে কমপক্ষে একটা অনুসন্ধান কূপ করতে হবে। নিরাপত্তা জামানত (গ্যারান্টি) হিসেবে চুক্তি স্বাক্ষরের ত্রিশ দিনের মধ্যে পেট্রোবাংলার কাছে অনুসন্ধানকারী কোম্পানিকে বাজার দর অনুসারে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখতে হবে। অনুসন্ধানের সময় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং উত্পাদনের সময় ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ বাংলাদেশি জনবল নিয়োগ দিতে হবে। প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সিঙ্গাপুরের বাজারে হাই সালফার জ্বালানি তেলের বাজার অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। সে হিসেবে গ্যাসের দাম পড়বে অগভীর সাগরে প্রতি হাজার ঘনফুট ৫ ডলার এবং গভীর সাগরে সাড়ে ৫ ডলার। লাভের অংশের মধ্যে পেট্রোবাংলা তেল বা কনডেনসেটের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৬০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পাবে। পিএসসি ২০১২ বলা হয়েছে, করের ক্ষেত্রে কোম্পানিকে কর্পোরেট আয়কর, সাবকন্ট্রাক্টরের আয়কর, কন্ট্রাক্টও ও সাবকন্ট্রাক্টরের অধীনে নিয়োগকৃতদের আয়কর দিতে হবে। এ কাজে সম্পদ ও তথ্য ব্যবহূত হবে তার মালিকানা পেট্রোবাংলার হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক কোম্পানি যাতে ইচ্ছেমাফিক অন্য কোম্পানির কাছে তাদের কার্যক্রম ছেড়ে দিতে না পারে সে জন্য পিএসসিতে কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। নতুন শর্তের অধীনে কার্যক্রমের ৫০ ভাগের বেশি ছাড়তে হলে সরকারের অনুমোদন লাগবে।