অবরোধে ব্যাপক সহিংসতা

ব্যাপক সংঘর্ষ, গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের উপর হামলা এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার রাজধানীসহ সারাদেশে রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন হয়েছে। নির্বাচনকালিন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুর্নবহালের দাবিতে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচি পালন করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। অবরোধ পালনের সময় ঢাকায় ২ জন এবং সিরাজগঞ্জে ১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে চার জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অবরোধকারীদের ধাওয়ায় বিমানবন্দর সড়কে দ্রুতগামী বাসের চাপায় এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম মংলা প্রামাণিক (২৬)। এছাড়া পুরান ঢাকায় বোমাবাজ সন্দেহে বিশ্বজিত্ দাস (২৫) ও সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ওয়ারেশ (৫০) নামের এক জামায়াতকর্মী নিহত হয়েছেন। অবরোধ পালনকারীরা রাজধানীতে ১৫টি এবং সারাদেশে আড়াই শতাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করে। পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। যানবাহনে অগ্নিসংযোগের সময় গান পাউডার ব্যবহার করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। কর্মসূচি পালনকালে রাজধানীতে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা ছিল অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশ মারমুখি। একটি দলের কিছু কর্মী-সমর্থক রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের মহোত্সবে লিপ্ত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ, কাঁদানো গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় সংঘর্ষে সহস্রাধিক আহত হয়েছেন। অবরোধকারীদের হামলায় ঢাকায় পাঁচ ও রাজধানীর বাইরে শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সারাদেশে তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে । এর মধ্যে রাজধানীতে গ্রেফতারের সংখ্যা ১৬২ জন। নেতাকর্মীদের দখলে ছিল নয়াপল্টন :অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কসহ পুরো এলাকা ছিল বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের দখলে। এ এলাকায় দুপুরে দু’দফায় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টন এলাকায় খন্ড খন্ড মিছিল ছাড়াও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছেন। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব সদস্য বিএনপি কার্যালয়ের বিপরীত পাশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেন। এর আগের কর্মসূচিগুলোতে পুলিশ-র্যাব বিএনপির কার্যালয় ঘিরে রাখলেও গতকাল এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। কর্মসূচির প্রায় পুরো সময়ই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অবরোধ কর্মসূচির নির্ধারিত সময় শেষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কাছে দুপুর আড়াইটার দিকে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর আগে বেলা সোয়া ১টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পূর্বদিকে (জোনাকি সিনেমা হলের বিপরীত দিকের সড়কে) পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে শাহজাহানপুর থেকে দলীয় কার্যালয়ের দিকে আসা মিছিলের শেষভাগে হঠাত্ ককটেল বিস্ফোরিত হয়। যেখানে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে সেখান থেকে মাত্র একশ হাত দূরে বিএনপির সভা হচ্ছিল। এসময় আতঙ্কে অনেকে ছোটাছুটি শুরু করলে বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীরা উচ্চস্বরে শ্লোগান দিতে থাকেন। তবে পরে সমাবেশে মির্জা আব্বাস দাবি করেন, কিছু দৃষ্কৃতিকারী এই অপকর্ম (ককটেল বিস্ফোরণ) ঘটিয়েছে, তারা কোনভাবেই বিএনপির নেতা-কর্মী নন। বিএনপির কার্যালয়ের সামনের সড়ক দখল করে সকাল থেকে কর্মসূচির শেষ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান নেন মহানগর বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কর্মী-সমর্থকরা। পরে সেখানে এসে সমবেত হন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরাও। অবরোধের সমর্থনে স্লোগানের পাশাপাশি তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আটক নেতাদের মুক্তির দাবি জানান। সেখানে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান খান দুদু, আব্দুস সালাম, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিবুর রহমান খান সোহেল, শিরিন আক্তার, আসাদুজ্জামান খান রিপন, মীর সরাফত আলী সপু, জামায়াত নেতা মো. সেলিম উদ্দিন ও নূরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্রদল সভাপতি আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু এবং কণ্ঠশিল্পী মনির খান । পুরান ঢাকায় ছাত্রদল কর্মী সন্দেহে একজনকে কুপিয়ে হত্যা ! অবরোধ চলাকালে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের পূর্ব পাশে লক্ষ্মীবাজার এলাকায় একজন নিরীহ পথচারীকে কুপিয়ে হত্যা এবং কয়েকটি স্থানে ভাংচুর ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৩০ জন আটক ও ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানায়। সকাল ৯টায় বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে বিএনপি ও ছাত্রদল মিছিল বের করে। ওই সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিলে শুরু হয় সংঘর্ষ। ঘটে বোমার বিস্ফোরণ। এ সময় মাঝখানে পড়ে যান নিরীহ পথচারী বিশ্বজিত্ । তিনি আত্মরক্ষার জন্য দৌঁড়ে পাশের টমাস ডেন্টাল ক্লিনিক ভবনের দোতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে গিয়ে একদল তরুণ বিশ্বজিেক বোমা নিক্ষেপের জন্য অভিযুক্ত করে মারধর শুরু করে। একজন চাপাতি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। নিজেকে একজন টেইলার্স মাস্টার বলে বিশ্বজিত্ পরিচয় দিলেও উত্তেজিত তরুণরা তার আবেদন সাড়া দেয়নি। ততক্ষণ তরুণরা তাকে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে মেঝেতে ফেলে দেয় । স্বজনরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক বিশ্বজিেক মৃত ঘোষণা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্বজিত্ দাসের হত্যাকারীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তারা তাকে ছাত্র দলের কর্মী মনে করে কুপিয়ে হত্যা করেছে। নিহত বিশ্বজিত্ লক্ষ্মীবাজার এলাকায় বড় ভাইয়ের ভাড়া বাসায় এক সঙ্গে থাকতেন। বড় ভাই উত্তম দাসের লক্ষ্মীবাজারে অতিথি নামে টেইলার্স রয়েছে। বিশ্বজিত্ বাসা থেকে দোকানে যাওয়ার সময় বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে দুই দলের সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে জীবন হারান বলে দাবি করেন তার স্বজনরা। নিহত বিশ্বজিতের মরদেহ দেখার জন্য বিকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন নেতা হাসপাতালে যান। বিএনপির পক্ষ থেকে বিশ্বজিতের পরিবারকে সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানান হয়। তাত্ক্ষণিকভাবে দলের পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন তারা। এ সময় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সাদেক হোসেন খোকার নেতৃত্বে রায়সাহেব বাজার এলাকা থেকে একটি মিছিল তাতীবাজার মোড় হয়ে বংশালে আসে। সেখানে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সাদেক হোসেন খোকা বক্তৃতা করেন। বক্তৃতা দেয়ার সময় হঠাত্ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল সেখান দিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে শুরু হয় ধর ধর। এক পর্যায় ইট পাটকেল নিক্ষেপ চলতে থাকে। পুলিশ কাদাঁনো গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান উপস্থিত ছিলেন। ইট পাটকেল নিক্ষেপে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা আহত হন। এরপর সেখানকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পুলিশ বংশাল বিএনপির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে। এছাড়া নয়াবাজার ও আশেপাশে এলাকায় বিক্ষিপ্ত ঘটনায় পুলিশ আরও ১১ জনকে আটক করেছে। এছাড়া যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মুক্তি সরণী, শনির আখড়া, জুরাইন ও শ্যামপুর এলাকায় ভাংচুর এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সব ঘটনায় ২০/২৫ জন আহত ও ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কিশোরের মৃত্যু এদিকে অবরোধের মধ্যে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দ্রুতগামী একটি বাসের চাপায় এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের উত্তর বিভাগের ডিসি নিশারুল আরিফ জানান, সকাল ১০টার দিকে বিমানবন্দর মোড়ে গোল চক্করের কাছ দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনায় পড়ে ওই কিশোর। তার নাম জানা যায়নি। তবে তার বয়স আনুমানিক ১২ বছর বলে পুলিশ কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় ছেলেটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এর পরপরই দায়ী বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আমীনবাজারে ত্রিমুখী সংঘর্ষ আমীনবাজারে আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা সকালেই অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিলেন। বেলা ১২টার দিকে তাদেরকে ধাওয়া করে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা। এ সময় শটগানের গুলিতে বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন আলম এবং রেজাউল করিম পল আহত হন। নাজিম উদ্দিন আলমকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গাবতলী স্ট্যান্ড ও রাজপথ দখলে রাখা অবরোধকারীদের আন্ডারপাসের ওপাশে আমিনবাজারের দিকে হটিয়ে দেয় সরকার দলের সমর্থকরা। এরপর গাবতলী ও আমিন বাজার এলাকায় দফায় দফায় সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ কর্মীরা দোকান ভাঙচুর ও বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে শুরু করলে অবরোধকারীরা পাল্টা ককটেল ছোঁড়ে। সকাল আটটার মধ্যে অন্তত ৭টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ঢাবি এলাকায় ভাংচুর-সংঘর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার জানান, অবরোধ চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় গাড়ি ভাংচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শাহবাগে পুলিশ এবং ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় প্রায় দশজন জন আহত হয়েছেন। সহিংসতার অভিযোগে পুলিশ অন্তত ২৪ জনকে আটক করেছে বলে দাবি করেছেন অবরোধকারীরা। শাহবাগ থানা সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল পৌনে ৭টার দিকে ছাত্রদলের একটি বিক্ষোভ মিছিল শিশু পার্কের সামনে গেলে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এরপর ছাত্রদল কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সামনে এগুতে চাইলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ১৫/১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের পরিচয় এবং উদ্দেশ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে সকালে শাহবাগে বারডেম হাসপাতালের সামনে দুইটি, আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে একটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী মোতাহার হোসের ভবন এলাকায় একটি সিএনজি এবং শাহবাগ এলাকায় অন্তত চারটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। ছাত্রলীগ অবরোধ কর্মসূচির প্রতিবাদে কোনো কর্মসূচি পালন না করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সিরিজ জয়ে ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেছে । বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক চৌধূরী জানিয়েছেন, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এরমধ্যে সবগুলো পরীক্ষাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস হয়নি বলে জানা গেছে। আমাদের সংবাদদাতা, অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর সিরাজগঞ্জ: এনায়েতপুরে জামায়াত-শিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে ওয়ারেছ আলী (৫৫) নামে এক জামায়াত নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। ওয়ারেজ জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুরের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ে মহাসড়কের কড্ডায় পুলিশ ও অবরোধকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শতাধিক টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। এ সময় পুলিশের পিকআপ ভ্যানসহ অন্তত ৫০টি যানবাহন ভাংচুর করেছে অবরোধকারীরা। এসময় একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা শাহিনুর রহমান জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এনায়েতপুর ওয়াপদা বাঁধ এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন শেষে ফেরার পথে এনায়েতপুর হাট এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালালে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে জামায়াতের অন্তত ২১ নেতা-কর্মী আহত হন। আশংকাজনক অবস্থায় এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে ওয়ারেছ আলী মারা যান। পুলিশের হামলায় আহত যুবদল কর্মী বারেকের অবস্থা আশংকাজনক। সংঘর্ষে বঙ্গবন্ধু সেতু থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল হালিম, নায়েক ওলিউর রহমান, কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, সাইদুল ইসলামসহ অন্তত ১০ পুলিশ আহত হয়। অপরদিকে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের কাঠেরপুলের কাছে আশপাশের ৩/৪টি গ্রামের জামায়াত সমর্থক নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়ে পুলিশের উপর হামলা চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ভাঙচুর ফরিদপুর: ফরিদপুর শহরসহ সালথা, নগরকান্দা, ভাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা দিনের প্রথম ভাগে সড়কে টায়ার জ্বালায় ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। বিএনপি নেতা-কর্মীরা সদর উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের শিবরামপুর বাজার এলাকায় বাঁশের ব্যারিকেড ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে দুপুরে অবরোধকারীরা কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর করে। রূপগঞ্জ: কাঁচপুরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি ও যুবদল। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান, ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কাঁচপুর পয়েন্টে মিলিত হন। এ সময় পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ অবরোধকারীদের ওপর লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরাও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পাল্টা ধাওয়া করে। পিকেটার ও পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস, ৫টি মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগসহ ১০-১২টি যানবাহন ভাঙচুর করে। পুলিশের হামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ওলামা দলের সভাপতি মুন্সি সামসুর রহমান খান বেনু, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, যুবদল নেতা শামীমসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের প্রথমে স্থানীয় মডার্ন হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পুলিশের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ টিয়ারসেল ও শর্টগানের গুলি ছোঁড়ে। এ সময় বেশ কিছু বিএনপি সমর্থিত নেতা-কর্মী আহত হয়। এক পর্যায়ে কাঁচপুর পয়েন্ট রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভোর ৫টা থেকেই কাঁচপুর পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক র্যাব, পুলিশ, শিল্প পুলিশ অবস্থান নেয়। প্রথমে ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিতে পারেনি। পরে সকাল ৭টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের দখলে থাকে কাঁচপুর এলাকা। পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছু টিয়ারসেল ও শর্টগানের গুলি ছোঁড়া হয়েছে। ৫ জন পিকেটারকে আটক করা হয়। কক্সবাজার: কক্সবাজারে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়। পুলিশ এক আইনজীবীসহ ১৭ অবরোধকারীকে আটক করেছে। রাজশাহী অফিস: সকাল ৭টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় ১৮ দলীয় জোট নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের প্রায় ১৫ মিনিটব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় অবরোধকারীরা বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুলিশকে হটিয়ে সামনে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ পাল্টা টিয়ারগ্যাস সেল এবং রাবার বুলেট ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অন্যদিকে জেলার বাগমারায় উপজেলা আওয়ামী লীগের অবরোধ বিরোধী মিছিলে হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে বিএনপি-জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের হামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টুসহ ১৫/১৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বিএনপি অফিস ভাঙচুর টঙ্গী: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী কলেজ গেট এলাকায় ১৮ দলাীয় নেতাকর্মীরা ভোর ৬টা থেকে রাজপথ অবরোধ করে রাখে। সকাল ৮টায় র্যাবের একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে অবরোধকারীরা। বেলা ১১টার সময় স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীরা থানা বিএনপি অফিসে ভাংচুর চালায়। সকালে টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় একটি ট্রাক, মোটরসাইকেল ও মিরের বাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুরের খবর পাওয়া গেছে। খাগড়াছড়ি: পিকেটাররা বিভিন্ন স্থানে ৩টি বাস-ট্রাক ও ২টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষে পুলিশের পরিদর্শক মোঃ শহীদুল আলম, সুবেদার মোঃ শাহ আলমসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে। বাগেরহাট: মোড়েলগঞ্জ, খানজাহান আলী মাজার এলাকায় ৩টি গাড়ি ভাংচুর করে অবরোধকারীরা। মোড়েলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটিতে শরনখোলাগামী যাত্রীবাহী বাস ভাংচুর করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময়ে আলামিন (২৮) ও পান্না (২৬) দুই কর্মীকে পুলিশ আটক করে। গাজীপুর: ট্রাকে আগুন এবং বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত টায়ার জ্বালিয়ে ১৮ দলীয় ঐক্য জোটের নেতাকর্মীরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। রবিবার ভোর থেকেই জেলা সদরের চান্দনা চৌরাস্তা, গাজীপুর জেলা শহর, কোনাবাড়ি, বোর্ডবাজার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে নেতাকর্মীরা। সকালে অবরোধকারীরা কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল সড়কে পাথর বোঝাই একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। জেলা সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইদুল আলম বাবুল বাইপাস রাস্তা মোড়ে অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেন। এএসপি’র গাড়ি ভাংচুর কিশোরগঞ্জ: সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুলিশের অন্তত ১৫ সদস্য আহত হয়। সদর উপজেলার চৌদ্দশত এলাকায় সদর সার্কেলের এএসপি মো. শাহেনশাহের গাড়িতে অবরোধকারীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এসময় তার দেহরক্ষী কনস্টেবল মো. ইকবাল হোসেন নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে আহত হয়। কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর বাজারে অবরোধকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার পুলেরঘাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। এর আগে সকাল ৭টার দিকে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী এলাকায় ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী সংবাদপত্রবাহী ঈশাখাঁ পরিবহনের একটি বাসে অবরোধকারীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। চাটখিল ও সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী): চাটখিলে ৫টি মটরসাইকেল, ১টি পিকআপ, ৩টি মাইক্রোবাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পুলিশের পিকআপে আগুন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা: ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপায় পুলিশের সাথে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশসহ আহত হয় অর্ধশতাধিক। এসময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় অবরোধকারীরা। তাছাড়া আত্মরক্ষার্থে পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন দোকানে প্রবেশ করলে কয়েকটি দোকানেও ভাংচুর চালায় অবরোধকারীরা। এসময় পুলিশ ৩ জনকে আটক করে। এর আগে রাতে ইবি মেইন গেটে একটি ট্রাকে আগুন দেয়াসহ ৫-৬টি ট্রাক ভাংচুর করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। শৈলকুপা থানার ওসি সাইদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ঝিনাইদহ জেলার সার্কেল এসপি আব্দুল হালিম মোল্লা ও শৈলকুপা থানার এস আই আব্দুর রকিবসহ ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ আহত হয়েছে। বগুড়া: পুলিশের একটি মালবাহী ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ছাড়াও মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে প্রায় ২০টি গাড়ি ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছে পিকেটাররা। সহিংসতার ঘটনায় ৩ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও জেলার দুপচাঁচিয়ায় অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে গাড়ি ভাংচুর ও অবরোধকারীদের মারপিটে ২ রিকশাচালক আহত হয়েছে । বগুড়ার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোকবুল হোসেন জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৯ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৬ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করেছে । পাবনা: অবরোধকারীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০টি গাড়ি ভাংচুর করে। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছে ১০ জন পিকেটার। বিভিন্ন স্থান থেকে ১২ জন বিএনপি, জামায়াত ও শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশ। অবরোধকারীরা মধুপুর এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান, ধোপাঘাটা এলাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স, বাস টার্মিনাল ও দাশুড়িয়ায় ১৩টি ট্রাকসহ কমপক্ষে ৩০টি বিভিন্ন যানবাহন ভাংচুর করে। পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ১০ জন পিকেটার আহত হয়। অবরোধ চলাকালে পাবনা সদর, চাটমোহর, ফরিদপুর ও বেড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরের ১২ কর্মীকে আটক করে পুলিশ। গাইবান্ধা: পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুরে বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীরা ২১ টি যানবাহন ভাংচুর করেছে। পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষে ২ পুলিশসহ ৫ জন আহত হয়েছে। ঘটনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ২৯ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৭ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নোয়াখালী: সকালে জেলা শহরের প্রধান সড়কের কল্যাণ হাই স্কুলের পাশে সড়ক অবরোধকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সাড়ে ৯টার দিকে কবিরহাট উপজেলার শাহাজির হাটে বিএনপির সমর্থকদের মিছিলে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলায় ১০ জন আহত হয়। এ সময় হামলাকারীরা ৩ টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে। ভোরে সড়ক অবরোধের শুরুতে অবরোধকারীরা জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে ৩ টি সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করে। খুলনা অফিস: খুলনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ বিএনপির অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ ১৬ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১২ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক নান্নু, যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এসএম জসিম উদ্দিনসহ ৭ জন গুলিবিদ্ধ ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় পুলিশ ৭ জনকে আটক করে। চকরিয়া: পুলিশের সাথে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেছে। এতে পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ এক জামায়াত নেতাকে আটক করেছে। মির্জাপুর (টাঙ্গাইল): মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির তিন গ্রুপ পৃথক পৃথক স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অচল করে রাখে। দিনভর পিকেটাররা কমপক্ষে ৩০টি যানবাহন ভাংচুর করেছে। এরমধ্যে গোড়াই শিল্পাঞ্চলে বিএনপি নেতা ফিরোজ হায়দার খানের নেতৃত্বে অন্ততপক্ষে ১০ হাজার নেতাকর্মী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে । এ সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে পিকেটাররা ১৫/২০টি যানবাহনে ভাংচুর চালিয়েছে। গোয়ালন্দ: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পিকেটারদের সাথে পুলিশের ৪ দফা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এতে পুলিশের এস.আই মাসুদুর রহমানসহ বিএনপির ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ বিএনপি’র তিন নেতাকে আটক করেছে। সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা \ ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের কুচিয়ামোড়া ও নিমতলীতে বিএনপি অবরোধ করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয় । এসময় পুলিশ ২৮টি টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ করে। এতে পুলিশের একজনসহ মোট ৫ জন আহত হয়। জীবননগর: বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতাদের একডজন মোটরসাইকেল আগুন লাগিয়ে দেয়। দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে। ওসিসহ ১০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি বর্ষণ করে। শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পটুয়াখালী: পুুলিশ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। আটক করা হয়েছে ৭ জনকে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইল: আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতার ডাকবাংলোয় ঢুকে অন্তত ২৮টি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও চার রাউন্ড টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া অবরোধ চলাকালে টাঙ্গাইলের ধনবাড়িতে পুলিশ কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ নয় রাউন্ড টিয়ার সেল ও পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। দাউদকান্দি: কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় ঢাকা-হোমনা সড়কে মাথাভাঙ্গায় পুলিশের সাথে ১৮ দলীয় জোটের কর্মীদের মধ্যে গোলাগুলির সময় ৯ পুলিশসহ ১৫ আহত হয়। হোমনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আ. আজিজ মোল্লা বলেন, পুলিশের গুলিতে বিএনপির তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তারা হলেন জজ মিয়া, সোহেল মিয়া ও আলমগীর। এদিকে মুরাদনগর সার্কেলের এএসপি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে হোমনায় যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীরা তার গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে কনস্টেবল মিজান আহত হয়। পিরোজপুর: জিয়ানগর উপজেলা সদরে বিএনপি-জামায়াত ও পুলিশ-আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে পৃথক পৃথক সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধ ও সাতজন পুলিশসহ প্রতিপক্ষের হামলায় অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। পুলিশ ৫৫ রাউন্ড বুলেট নিক্ষেপ করে। এদিকে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা তাদের অবস্থান প্রত্যাহার করে নেয়ার পর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ পাল্টা হামলা চালিয়ে বিএনপি ও যুবদলের অফিস এবং জামায়াত সমর্থক কয়েক জনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। রংপুর: রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট ও মডার্ন মোড় এলাকায় ১টি ট্রাক, ১টি অটোবাইকে অগ্নিসংযোগ এবং বিআরটিসির একটি বাসসহ কমপক্ষে ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে অবরোধকারীরা। । ছাত্রদল নেতা গুলিবিদ্ধ ইত্তেফাক রিপোট: সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলে পিকেটার ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি গুলিবদ্ধসহ আহত হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশত। আন্দোলকারীরা ৪টি গাড়িতে অগ্নিসংযোসহ ভাঙচুর করেছে কমপক্ষে ১৫টি যানবাহন। অগ্নিদগ্ধ হয়েছে একব্যক্তি। ভোর থেকেই ১৮ দলীয় নেতাকর্মীরা সাভারের আমিন বাজার, হেমায়েতপুর, ফুলবাড়ীয়া, উলাইল, নয়ারহাট ও আশুলিয়া জিরাব এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় এবং রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধের সৃষ্টি করে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধের ফলে পণ্যবাহী কোন যানবাহনই রাজধানীতে ঢুকতে পারেনি। সকাল ৭টায় উলাইল বাসস্ট্যান্ডে ও হেমায়েতপুরে দুইটি যানবাহন ভাঙচুর চালায় পিকেটাররা। বেলা ১০টার দিকে আমিন বাজার এলাকায় পিকেটাররা একটি প্রাইভেট কারে অগ্নিসংযোগ ও কয়েকটি ট্রাক ভাঙচুর করলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম পল গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে কমপক্ষে ২৫ জন। এ সময় কয়েকটি ট্রাক ভাঙচুর চালায় ও একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা টঙ্গী-আশুলিয়া সড়ক অবরোধ করে। এ সময় বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এদিকে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সড়কের রাজ ফুলবাড়ীয়া এলাকায় পিকেটাররা একটি অটোরিক্সায় আগুন ধরিয়ে দিলে অগ্নিদগ্ধ হয় শাহাদাত নামের এক ব্যক্তি। তার বাড়ি সাভারের আপাড়া বলে জানা গেছে। এদিকে ধামরাইয়েও ২০/২৫টি গাড়ি ভাঙচুর চালায় অবরোধকারীরা। বরিশাল অফিস: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধকালে পুলিশ ৫ জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে। তারা হচ্ছেন রফিকুল মোল্লা (৪৩), মকবুল (৪৮), হাফেজ জাকারিয়া (২০), শাহাদাত বেপারী (১৬), শামিম আহমেদ বেপারী (২০) কে গ্রেফতার করে মুন্সীগঞ্জ: রবিবার সকালে অবরোধকারীদের সাথে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সাথে মাওয়া ও কুচিয়ামোড়ায় সংঘর্ষে পুলিশসহ ২২ জন আহত হয়েছে। ১টি গাড়ি ভাংচুর করে হয়েছে। মাওয়ায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান খানসহ আহত হয়েছে ১২ জন। এদিকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়ায় পুলিশের সাথে অবরোধকারীদের সংঘর্ষে এক পুলিশসহ অন্তত ১০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া , বর্তা ,জামিদিয়া মাস্টারবাড়ি, সিডস্টোর ও ভালুকা ডিগ্রি কলেজ এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছে । । ত্রিশাল (ময়মনসিংহ): ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ১৩টি পয়েন্টে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। অবরোধ চলাকালে পিকেটাররা পুলিশ বহনকারী একটি গাড়ি পৌরসভার পিকআপ ভ্যান, কয়েকটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে। পুলিশ ৫ নেতাকর্মীকে আটক করে। গৌরীপুর (ময়মনসিংহ): উপজেলার রামগোপালপুরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ-ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দু’দলের কমপক্ষে ২৫জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গফরগাঁও: ১৮ দলীয় জোটের রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে গতকাল রবিবার ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বিএনপির সশস্ত্র নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের সশস্ত্র নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে উঠে। সংঘর্ষে এএসপি, ওসিসহ ১৬ পুলিশ, ৪ সাংবাদিক এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবি সিদ্দিকুর রহমানসহ উভয় দলের কমপক্ষে শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। উপজেলা বিএনপির ২টি কার্যালয়ে আগুন দেয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৭ রাউন্ড টিয়ারশেলসহ ২২৭টি গুলি ছোঁড়ে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পাটমহল মোড়ের উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর ও ভিতরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং শিবগঞ্জ রোডের বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করে রাস্তায় এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। কলারোয়া (সাতক্ষীরা): সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবরোধকারীদের ধাওয়া করে। এসময় পুলিশ শেখ আমানুল্লা কলেজের সামনে থেকে তুলশীডাঙ্গা গ্রামের রাসেল (১৭), মোজাফ্ফর (২০), মিন্টুকে (২৪) গ্রেফতার করে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইট নিক্ষেপ করতে থাকলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫১ রাইন্ড রাবার বুলেট ও ১৪টি টিআর সেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশকে ইট মেরে আহত করার অপরাধে ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা জামায়াতের শুরা সদস্য মোস্তফা গাউসুল হককে আটক করা হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে ২ পুলিশসহ উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়। পুলিশ বিকাল ৫টার দিকে জামায়াত কর্মী উপজেলার কোটা গ্রামের আব্দুল হামিদ (৪০) ও আফছার আলীকে (৫০) আটক করে। হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর): হাজীগঞ্জ বাজারের হট্রোগোলের খবর পেয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পশ্চিম বাজারের বিএনপির কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। চট্টগ্রাম অফিস: নগরীর কোতয়ালী থানার সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ছাত্রাবাস ও ডবলমুরিং এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া ১৮ শিবির নেতা-কর্মীকে গতকাল রবিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।