বিএনপি-জামায়াত এক হয়ে বিজয়ের মাসকে কলঙ্কিত করেছে

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজয়ের মাসকে কলঙ্কিত করেছে। আইন নিজের হাতে নিয়ে, আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করে, রাস্তা অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারা একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চায়। স্বাধীনতা বিরোধী এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে একাত্তরের মতো আবার ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গতকাল রবিবার বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থাপিত বিজয় মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাসব্যাপী বিজয় দিবস উদযাপনে গঠিত জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট নাট্যকার রামেন্দু মজুমদার, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সস্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ। তোফায়েল আহমেদ বলেন, শনিবার বাংলার ক্রিকেট টাইগাররা বিজয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী রবিবার বিজয় মিছিল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু এদিন বিএনপি-জামায়াত অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার তো করেনি, উল্টো কর্মসূচির নামে তাণ্ডব চালিয়েছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। ভয়-ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দেশের কোন বিজয়কে তারা সহ্য করতে পারছে না। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতি জাতি ঘৃণা ও ধিক্কার জানিয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা চালানোর ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের প্রতি তীব্র ঘৃণা জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, তারা যে পুলিশের ওপর হামলা চালাচ্ছে, এই পুলিশ বাহিনী তো সেই পুলিশ যারা জীবনবাজি রেখে রাজারবাগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে রুখে দাঁড়িয়েছিল। এ সময় বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেন তোফায়েল। সভাপতির বক্তব্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, একদিকে বিজয়ের মাস, অন্যদিকে টাইগারদের বিজয়ের পরও বিএনপি-জামায়াত ভয় দেখিয়ে, জোর করে দেশে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে কোন লাভ হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর ক্ষমতা কারোর নেই। তিনি বলেন, একমাত্র শেখ হাসিনাই পারে দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে। সংবিধান অনুযায়ী ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে দশম জাতীয় নির্বাচন হবে। নাট্যকার রামেন্দু মজুমদার বলেন, জামায়াত-শিবির দেশে জঙ্গি তত্পরতা শুরু করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্যে তারা মরণ কামড় দিতে মাঠে নেমেছে। তাদের এই অপতত্পরতা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।