রাজনৈতিকভাবে এখনও সিরিয়া সংকট নিরসন সম্ভব
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৩১
সিরিয়ার পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে কিন্তু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এখনও সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ ও আরব লিগের বিশেষ দূত লাখদার ব্রাহিমি। এরই মধ্যে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা আলেপ্পার পশ্চিমে শেখ সুলেমান ঘাঁটির কিছু অংশ নিজেদের দখলে নেয়ার দাবি করেছে। এদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেছেন, গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যে তিনি দেখেছেন, সিরিয়া সরকার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতিনিধির সাথে রবিবার বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে ব্রাহিমি বলেছেন, এ বিষয়ে তারা সম্মত যে, সিরিয়া সংকটের একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়া এখনও সম্ভব। রাশিয়ার পক্ষে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল বোখদানভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী উইলিয়াম বানসের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় রুদ্ধদ্বার এবং দীর্ঘ ঐ বৈঠক সম্পর্কে ব্রাহিমি বলেছেন, বৈঠকটি ছিল গঠনমূলক এবং সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে সেটা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিরিয়ার বিদ্রোহীরা দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী আলেপ্পোর পশ্চিমে অবস্থিত শেখ সুলেমান ঘাঁটির কিছু অংশ নিজেদের দখলে নেয়ার দাবি করেছে। এর ফলে তুরস্ক সীমান্তবর্তী এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়িয়েছে বিদ্রোহীরা। ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, শনিবার রাতভর সংঘর্ষে ঐ ঘাঁটিতে একজন সরকারি সেনা এবং দুই বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এছাড়া, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মারায়ান শহরে সরকারি বাহিনীর শেল নিক্ষেপে ১০ জন এবং ইদলিব প্রদেশের আহশাম গ্রামে পাঁচ জন নিহত হয়েছে।
এদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেছেন, গোয়েন্দা সূত্রে তারা খবর পেয়েছেন সিরিয়া সরকার বিদ্রোহীদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করার জন্য গোপনে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই প্রস্তুতিটা কী রকম, বা সিরিয়ার হাতে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র আছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বিস্তারিত বলেননি। তিনি দাবি করেছেন, সিরিয়ার বিরুদ্ধে প্রমাণটা খুব জোরালো বলেই ব্রিটেন ও আমেরিকাকে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের ব্যাপারে দামেস্ককে হুঁশিয়ারি দিতে হয়েছে।
উইলিয়াম হেগ আরো বলেন, ‘আমি আশা করব যে সিরিয়া এই হুঁশিয়ারিতে কর্ণপাত করবে। কারণ, তারা যদি সত্যিই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে তাহলে পরিস্থিতির বিরাট পরিবর্তন হবে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে পশ্চিমী দেশগুলোর সামরিক সূত্রে আলাদাভাবে বলেছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ আছে দেশের মোট পাঁচটি বিমানঘাঁটিতে। এইসব বিমানঘাঁটি ও অস্ত্রের মজুদের উপর পশ্চিমী গোয়েন্দারা সতর্ক নজর রাখছেন বলেও তারা জানিয়েছে।