নগর সংস্কৃতি

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সপ্তাহব্যাপী বিজয় উত্সব শুরু

১৬ বছরের ধারাবাহিকতায় রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে বিজয় উত্সবের ৭ দিনের অনুষ্ঠানমালা। ‘মানবাধিকার দিবস থেকে বিজয় দিবস’ শীর্ষক উত্সবে মুক্তমঞ্চে প্রতিদিন পরিবেশিত হবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিজাগানিয়া বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান। উত্সবের প্রথম দিন ছিল ‘মানবাধিকার ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ’ শীর্ষক বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, নৃত্য, দলীয় আবৃত্তি, শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি। উত্সব উপলক্ষে ‘মানবাধিকার ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ’ বিষয়ে একটি বক্তব্য লিখেছেন অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অসুস্থ থাকায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তার পক্ষ হয়ে লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। বক্তব্যে বলা হয়, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানি পক্ষ ও তাদের এদেশীয় অনুচররা নানা ধরনের ছলচাতুরির মাধ্যমে আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই জাতীয়তাবাদের মীমাংসিত প্রশ্নটিকে আবার নতুনভাবে উত্থাপন বা বিকৃত করার অপচেষ্টা চলছে। পাকিস্তানি কায়দায় ধর্মকে রাজনীতির ক্ষেত্রে টেনে এনে ইসলামকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে ঘোষণা ছিল আমাদের অখণ্ড জাতিসত্তাকে বিভক্ত করার যড়যন্ত্র এবং একাত্তরের চেতনা ও আদর্শের ওপর নির্মম আঘাত। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আজ বিশেষভাবে আমাদের স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ইতিহাসের দিকে তাকানো প্রয়োজন।’ এর আগে উত্সবের সূচনাতেই বক্তব্য রাখেন জাদুঘরের ট্রাস্টি সারা যাকের। তিনি বলেন, ‘আমরা বিজয়ের মাসের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকি। এই মাস আমাদের উদ্বেলিত করে, নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তারই ধারাবাহিকতায় এই উত্সব শুরু হলো। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভবন নির্মাণ তহবিলে প্রয়াত বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও পপ সম্রাট আজম খানের কন্যা ইমা খান ৫০ হাজার টাকা দান করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাদুঘরের ট্রাস্টি আক্কু চৌধুরী। একই অনুষ্ঠানে আজম খানের ব্যবহূত একটি জ্যাকেট, একটি কোর্ট এবং পোর্টেট ছবি স্মারক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে প্রদান করেন ইমা খান । অন্যদিকে, সাংস্কৃতিক পর্বে দলীয় আবৃত্তি করে স্বরচিত্র। তারা পরিবেশন করে ‘আর কত রক্ত দরকার হবে’ শীর্ষক আবৃত্তি প্রযোজনা। এরপর দেশাত্মকবোধ নৃত্য পরিবেশন করে স্পন্দন। সবশেষে একাত্তরের স্মৃতি জাগানিয়া সঙ্গীত পরিবেশন করে আবদুল্লাহ মেমোরিয়াল হাই স্কুল।