মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবীদের অবসরের বয়স ৬০ বছর

মুক্তিযোদ্ধা সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরের বয়স হবে ৬০ বছর। গতকাল সোমবার এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রথম মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের বয়স ৫৮ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়। গত বছরের ৩ ফেরুয়ারী সকল ধরনের সরকারি চাকরিজীবীর অবসরের বয়স ৫৯ বছর করা হয়। ফলে মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আলাদা বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুনরায় তাদের অবসরের বয়স দুই বছর বাড়িয়ে ৬১ বছর করার প্রস্তাব করেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অভাবে এটি দীর্ঘদিন পড়ে ছিল। অবশেষে গত ২১ নভেম্বর সশস্ত্রবাহিনী দিবসের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবীদের অবসরের বয়স বাড়ানোর ঘোষণা দেন। প্রকাশিত গেজেটে যেসব মুক্তিযোদ্ধার বয়স ২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত ৬০ বছর হয়নি তারা চাকরিতে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন। সেসব চাকরিজীবী ইতিমধ্যে ৫৯ বছরের অবসরের বয়স মেনে পিআরএলে গেলেও তাঁরা এ সুযোগ পাবেন-যদি তাঁদের বয়স ৬০ না হয়ে থাকে। ১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের দ্বিতীয় সংশোধনী এনে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীদের বয়স ৫৯-এর স্থলে ৬০ শব্দ প্রতিস্থাপিত হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) তাজুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবসরের বয়স প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাড়িয়েছেন। ফলে মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবীদের বিশেষ সুবিধা বহাল হল। ডিসেম্বর মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এটি বড় প্রাপ্তি।