তামিমের লড়াই আটকাতে পারল না ক্যারিবীয়দের জয়

কেমার রোচের শেষ ওভারের বলগুলো সীমানা পাড় করছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কিন্তু গ্যালারি নিশ্চুপ! কুয়াশা ভরা রাতে যেখানে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ধ্বনিতে মুখরিত হওয়ার কথা স্টেডিয়ামের গ্যালারি সেখানে সবাই যেন নিরব পাথর। একটু আগে তামিম ইকবালের পর রিয়াদও হাফ সেঞ্চুরি করেছেন অথচ কারো হাততালি নেই। থাকবেই বা কেন। যে ম্যাচে তামিম ইকবাল ও রিয়াদের ফিফটি হয়েছে সে ম্যাচটি বাংলাদেশ হেরেছে ১৮ রানে। ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুখ স্মৃতি নিয়ে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি জিতবে বলেই কাল যেন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর থেকে মাঠে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে পারেনি টপ অর্ডাররা। ইনিংস শেষে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে রান উঠেছে এক উইকেটে ১৭৯ রান! এই সংখ্যাটি দেখলে যে কেউ আতকে উঠবে। এত রান করেও বাংলাদেশ হেরেছে? তাদের জন্য বলে রাখা ভালো, এর আগে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ ব্যাট করে তুলেছে ১৯৭ রান! ম্যাচ শেষে নিশ্চয়ই আফসোসে পুড়ছেন রুবেল হোসেন। তার এক ওভারে মারলন স্যামুয়েলস যদি ২৯ রান না নিত তাহলে ওয়েষ্ট ্ইন্ডিজের এত রান হয় না, বাংলাদেশও বিজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারে। সেই আফসোস থেকেই মাঠ ছেড়েছে দুই হাফ সেঞ্চুরিয়ান তামিম (৮৮) ও রিয়াদও (৬৪)। ওয়ানডে সিরিজে যেটা পারেননি সেটা টি-টোয়েন্টি দিয়ে পুষিয়ে দিলেন তামিম ইকবাল। ওয়ানডে সিরিজে পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি ফিফটি রয়েছে তার। কাল এমন এক সময় হাফ সেঞ্চুরি পেলেন যখন বাংলাদেশ অথৈই সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। ১৯৮ রানের টার্গেট নিয়ে তামিম ও এনামুল শুরুটা করেছিলেন স্বপ্নের মত। ড্যারেন স্যামির প্রথম ওভারে এই দুই ওপেনার ১৭ রান তুলে শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে গিয়ে প্রথম দশ ওভারে স্বাগতিকরা তুলে ফেলে এক উইকেটে ৮৭ রান। এর মধ্যে বিজয়কে হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। কেমার রোচ তার প্রথম ওভারে মিডঅফে বিজয়কে ফিরিয়ে দেন। ১২ বলে মূল্যবান ২২ রান দলকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে তবে রানের গড় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে যখন গেইল ও নারিন বল হাতে নিয়েছেন। ১০ ওভারে ৮৭ থেকে ১৫ ওভারে ১২০। এই ধীরগতির জন্য শেষ পাঁচ ওভারে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন হয় ৭৮ রানের। এই ফাঁকে তামিম ও পেয়ে যান তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি। আয়ারল্যান্ড সফরে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফিফটির পর কাল পেলেন আরো একটি হাফ সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রানও ছুঁয়ে ফেলেন এই বাঁ-হাতি (৮৮)। তবুও তামিম দলকে জেতাতে পারেননি। এর আগে তিনবার লাইফ পেয়ে মারলন স্যামুয়েলসই ওয়েষ্ট ইন্ডিজ বড় সংগ্রহ এনে দিয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ক্যারিবীয়রা এর আগে চারবার দুশ’ রানের গন্ডি পার করেছে বটে। কাল দুশো না হলেও ১৯৭ রান সর্বোচ্চ তালিকায় পঞ্চম স্থানে ঠাঁই পেয়েছে। এই রান নিয়েই বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে লড়াইটা করলেন নারিন-গেইলরা। কিন্তু এর আগে দলকে ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন স্যামুয়েলস। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে এলোমেলো হয়ে যায় বাংলাদেশের বোলাররা। ১০ রানে লাইফ পাওয়া ক্যারিবীয় এই ব্যাটসম্যান অবশ্য আরো দুইবার লাইফ পেয়েছেন মুশফিকের কল্যাণে। ২৩ রানে সেই জিয়ার বলে ফের ক্যাচ ফেলে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আর সম্ভাবনামীয় এক ষ্ট্যাম্পিং মিস করেছেন মুশফিক যখন স্যামুয়েলসের রান ২৫। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তার। শেষ ওভারে রুবেলের কাছ থেকে পেয়েছেন ২৮ (৬, ৬, ৬, ৪, ৬)। ৮৫ রানে স্যামুয়েলসের ব্যাট থেকে এসেছে তিনটি চার ও নয়টি ছয়! ব্যাট হাতে পারেননি তবে কাল আসল কাজটি সেরেছেন গেইল। এবারের বাংলাদেশ সফরটি তার ব্যর্থই বলা যাবে। তবে সফরের শেষ দিকে এসে নিজের স্পিন দিয়ে যে কাজটি তিনি করেছেন সেটাই দলকে জিতিয়ে দিয়েছে। চার ওভারে রান দিয়েছেন মাত্র ১৮। যখন রোচ, স্যামি ও রাসেলদের বলগুলো সীমানা পার করছিল তামিম ও রিয়াদ। তখনি বল হাতে ম্যাচের মোড়ই ঘুরিয়ে দেন গেইল। ব্যাট হাতে তো পারেননি; বল হাতেই যেন বাংলাদেশের শেষ স্বপ্ন নষ্ট করে দিয়েছেন গেইল।