ফখরুল গ্রেফতার
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৫০
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পল্টন বিএনপি অফিসের সামনে থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। রবিবার পল্টন এলাকায় ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া কাকরাইলসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় ৪০ জনকে।
এদিকে রবিবার ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচিতে রাজধানীতে ভাংচুরের ঘটনায় ৩৮টি মামলা হয়েছে। এগুলোতে আসামির সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। এসব মামলায় পুলিশ ঐদিনই ১৬১ জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে। সারা দেশে গ্রেফতার সংখ্যা ছিল ২৪০ জন। অপরদিকে আমিনবাজারে পুলিশের কাজে বাধা, ভাংচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, নাজিম উদ্দিন আলমসহ ৬৫১ জনকে আসামি করে সাভার থানায় মামলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, দিনের অধিকাংশ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম ছিলেন নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিসে। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে অফিস থেকে নীচে নামতেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে একটি মাইক্রোবাসে তোলে। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া
হয় মিন্টো রোডের গোয়েন্দা দফতরে। অপরদিকে মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতারের পর বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিসে যে সকল নেতা ছিলেন, তারা সবাই রাতে অফিসেই অবস্থান করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে ও আশপাশ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মনিরুল ইসলাম জানান, গাড়ি ভাংচুর ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পল্টন থানায় দায়েরকৃত মামলায় মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পল্টন থানা পুলিশ জানায়, দায়েরকৃত মামলার বাদী ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্যবাহী গাড়ির চালক মোহাম্মদ আয়নাল। মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, রবিবার সকাল সাতটার দিকে তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের আবর্জনাবাহী গাড়ি চালাচ্ছিলেন। কাকরাইল এলাকায় পৌঁছানোমাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং রুহুল কবীর রিজভী (বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব) আহমদের নেতৃত্বে ২০০/২৫০ জন লোকের একটি মিছিল পথ অবরোধ করে। তারা মিছিল ও লাঠিসোটা নিয়ে গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো-১১-০৭২৮) হামলা ও ভাঙচুর চালান। তাকে এবং হেলপারকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন। এ সময় মিছিল থেকে ঐ এলাকায় পর পর দুইটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আর্জিতে তিনি আরও বলেন, তাদের কাছে অনেক কাকুতি-মিনতি করা সত্ত্বেও তারা গাড়ির সামনের গ্লাস এবং লুকিং গ্লাস ইট ও লাঠিসোটা দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেন। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই লাখ টাকা।
কাকরাইল থেকে ৪০ জন গ্রেফতার :বাস ভাঙচুরের ঘটনায় গতকাল কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে পুলিশ ৪০ জনকে গ্রেফতার করে।
শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি এমএ মান্নান জমাদ্দার বলেন, বিএনপির উপদেষ্টা সাঈদ এস্কান্দরের স্মরণে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ছিল। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তার জন্য সবাই অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় পুলিশ এসে তাদের কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়।
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি নূরুল ইসলাম জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় একটি বাস ভাঙচুর করে হামলাকারীরা ইনস্টিটিউটের ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে তারা বেরিয়ে আসার পরই পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে।
রাজধানীর ৩৮ মামলা ঃ রবিবারের অবরোধের সময় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও খুনের ঘটনায় নগরীর বিভিন্ন থানায় ৩৮টি মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে রমনা থানায় ৩টি, কলাবাগানে ১টি, বংশালে ২টি, মতিঝিলে ২টি, সবুজবাগে ৩টি, মুগদায় ১টি, শাহজাহানপুর ১টি , ডেমরা ১টি, যাত্রাবাড়ী ৪টি, শ্যামপুর ১টি, সূত্রাপুর ২টি, কদমতলী ১টি, শেরেবাংলা ১টি, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ৩টি, মিরপুর ৪টি, দারুসসালাম ২টি, বনানী ২টি, উত্তরা পূর্ব ১টি ও উত্তর-পশ্চিম থানায় ১টি মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে ৫টি দ্রুত বিচার আইনে, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৫টি, পুলিশ আক্রান্ত ১৯টি , খুন ১টি ও অন্যান্য ধারায় ৮টি মামলা করা হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি :পুলিশের অনুমতি না পেয়ে গতকাল সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বিক্ষোভ সমাবেশ স্থগিত করেছে বিএনপি। এর পরিবর্তে বিকালে রাজধানীর থানায়-থানায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করার কথা থাকলেও পরে ধর-পাকড়ের কারণে তাও কার্যত পালন করতে পারেনি। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত ও জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে আগের কর্মসূচি স্থগিত করে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আড়াই ঘণ্টার মাথায় তিনি গ্রেপ্তার হন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, রবিবার শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচিতে ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র লোকজন যেভাবে আক্রমণ-নির্যাতন চালিয়েছে, আজকের গণমাধ্যমে তা প্রকাশ পেয়েছে। কারা অবরোধে পিস্তল, রাম দা, চাইনিজ কুড়াল, রড নিয়ে বিরোধী দলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, সবার কাছে আজ তা পরিষ্কার। তিনি অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসী হামলা থেকে’ আইনজীবীরাও রক্ষা পাচ্ছেন না।
বিকালে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে ফখরুল বলেন, সমাবেশের জন্য আমরা বরাবরের মতো মহানগর পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। তারা (ডিএমপি) তা গ্রহণ করেছে। কিন্তু মহানগর পুলিশ জানিয়েছে- সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। অস্থায়ী সমাবেশ মঞ্চের জন্য ভাড়া করা ট্রাক ও মাইক পুলিশ নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করে তিনি বলেন, এই পরিপ্রেক্ষিতে নয়াপল্টনে সমাবেশ স্থগিত করে আন্দোলনের কৌশল হিসাবে থানায়-থানায় সমাবেশ ও মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এ সরকার সামরিক সরকারের আচরণকেও হার মানিয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তারের পর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
গ্রেফতারের খবরে ভাংচুর, উত্তেজনা, হরতাল :মির্জা ফখরুল আলমগীরকে গ্রেফতারের খবরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারের প্রতিবাদে তাত্ক্ষণিকভাবে হরতালের ঘোষণা দেয়া হয় ঠাকুরগাঁওয়ে। ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতারের খবরে ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি ব্যাংক, ৭টি যানবাহন ও কয়েকটি দোকানে ভাংচুর চালিয়েছে বিএনপির সমর্থিত যুবকেরা। পরে বিক্ষোভ মিছিল থেকে হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টা থেকে ঠাকুরগাঁও শহরে এই হরতাল ঘোষণা করা হয়। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় মির্জা আলমগীর গ্রেফতারের খবর তার নিজ শহর ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছালে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী সড়কে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড ও বাটা সু দোকানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাংচুর চালায়। বিসিক শিল্পনগর এলাকায় ৩টি ট্রাক ভাংচুর করে।
কালিবাড়ী এলাকায় একটি ট্রাক ভাংচুর করে বিএনপি কর্মীরা। বিসিক শিল্প নগর এলাকায় ৩টি ট্রাক ভাংচুর করে। বিএনপির এ সময় সাধারণ লোকজন আতংকে এদিক সেদিক ছুটো ছুটি করতে থাকে। নিমিষে সকল প্রকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং শহর অন্ধকারে পরিণত হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ চৌরাস্তায় অবস্থান নিলে বিএনপি নেতাকর্মীরা অনেকটা শান্ত হয়।
বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক তৈমুর রহমান, ওবায়দুল¬াহ মাসুদ, চৌধুরী মহেবুল¬াহ আবু নূর, মাহাবুব আলম তুহিন প্রমুখ। প্রতিবাদ সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মির্জা ফয়সাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে লাগাতার হরতালের ঘোষণা দেন।
রামগতি সংবাদদাতা জানান, মির্জা ফখরুলের গ্রেফতারের প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা সদর আলেকজান্ডারে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জামাল উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহ মো. শিব্বির প্রমুখ।
মেলান্দহ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে জামালপুরের মেলান্দহে উপজেলা বিএনপি বাবুল গ্রুপ ও পৌর বিএনপির দিদার গ্রুপের পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বাবুল গ্রুপের মিছিলটি মেলান্দহ বিএনপির সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম রহিমের ঘর থেকে বের হয়ে পশু হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে দিদার গ্রুপের সমর্থকরা হামলা চালায়। এতে বাবুল গ্রুপের ছাত্রদল নেতা জাকারিয়া আহত হন।
চট্টগ্রাম অফিস জানান, মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যায় নগরীর নাসিমন ভবনস্থ কার্যালয় থেকে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা একটি তাত্ক্ষণিক মিছিল বের করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। পুলিশ কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে বিএনপি’র ৩ কর্মীকে আটক করে। ভাংচুর চলাকালে শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ সড়ক, নূর আহমদ সড়ক ও চট্টেশ্বরী এলাকায় অবস্থানরত জনসাধারণের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে বিক্ষিপ্ত মিছিলকারীরা মুন্সীগঞ্জ-ঢাকা সড়কের মুক্তারপুর ব্রিজের ঢালে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে, টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে এবং অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে।
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা জানান, মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতারের খবরে ১৮ দলের বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা পীরগঞ্জ পূর্ব চৌরাস্তায় কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে হরতালের বিপক্ষে পাল্টা মিছিল বের করা হয়।
সেনবাগ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে গতকাল রাত পৌনে ৯টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা শহরের দক্ষিণ বাজারে দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করেন।
গোয়েন্দা দফতরে নেতারা ঃ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গ্রেফতারের পর রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা দফতরে ছুটে আসেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবদীন ফারুক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি জয়নাল আবেদীন। তবে তাদেরকে গোয়েন্দা দফতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এ সময় জয়নাল আবেদীন উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, জামিনের জন্য ওকালতনামা নিয়ে তিনি এসেছিলেন। কিন্তু ওকালত স্বাক্ষর নিতে পারেননি। রাত সাড়ে আটটার দিকে তারা গোয়েন্দা দফতর ত্যাগ করেন।
এদিকে পল্টন থানা পুলিশ জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আদালতে হাজির করা হবে। মামলার অপর আসামিদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল হরতালের সময় প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সামনে গাড়ি পোড়ানো মামলায় মির্জা ফখরুলসহ ৩৩ জন নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ মামলায় গত ১৬ মে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন । আদালত তাদের জামিন না-মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। গত ৭ ও ১৪ জুলাই তারা জামিনে মুক্তি পান।